Hi

০১:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাঠ্যবই ছাপায় প্রাথমিকে গতি, মাধ্যমিকে ধীরগতি

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৯:০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৬ জন দেখেছে

আগামী শিক্ষাবর্ষের প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই মুদ্রণ ও বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের বই ছাপানো ও সরবরাহ কার্যক্রম বেশ সন্তোষজনক পর্যায়ে থাকলেও মাধ্যমিক স্তরে কাজ কিছুটা পিছিয়ে আছে। নতুন বছরের আর মাত্র দুই মাস বাকি থাকায়, নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে সব পাঠ্যবই পৌঁছানো নিয়ে জনমনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের বই ছাপাসহ সরবরাহের অগ্রগতি ভালো। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সব শিক্ষার্থী সব পাঠ্যবই হাতে পাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়। এর মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্যও বই রয়েছে। ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাক্রমে ব্যাপক সংস্কার, প্রাথমিক–মাধ্যমিকে ৪ নতুন বই ও বিষয়: মাহদী আমিন।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) তথ্যমতে, ২০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরের ৮৬ শতাংশ বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে বাঁধাই, কাটিং ও মান নিয়ন্ত্রণ শেষে ৭৪ শতাংশ বই মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। বিপরীতে, মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপার পরিস্থিতি কিছুটা ধীর। এই স্তরে ২০ কোটি ৮৪ লাখেরও বেশি বইয়ের বিপরীতে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ৫০ শতাংশ ছাপার কাজ শেষ হয়েছে এবং আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে ৪০ শতাংশ বই সরবরাহ করা গেছে। তবে বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, নবম-দশম শ্রেণির মাত্র ৩ শতাংশের মতো বই এখন পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে ছাপা হচ্ছে ২২ কোটির বেশি বই। প্রাথমিক স্তরের বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার।

আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য চারটি নতুন পাঠ্যবই যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এনসিটিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে, আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভা ডাকা হয়েছে। ওই সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরেই এই চারটি নতুন বই ছাপার কার্যাদেশ দেওয়া হবে।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের জানিয়েছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব বই ছাপার কাজ শেষ করে মাঠপর্যায়ে পাঠানো। এখন পর্যন্ত মুদ্রণ অগ্রগতির হার নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। কিছু মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও আগামী জানুয়ারির শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে সব পাঠ্যবই তুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

২০১০ সাল থেকে সরকার বিনা মূল্যে পাঠ্যবই বিতরণের কার্যক্রম শুরু করে। তবে গত দুই শিক্ষাবর্ষে নির্ধারিত সময়ে সব বই বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। চলতি শিক্ষাবর্ষে শতভাগ পাঠ্যবই সরবরাহ করতে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগেছিল, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। চলতি শিক্ষাবর্ষ শুরুর এক মাস সাত দিন পর, গত ৭ ফেব্রুয়ারি শতভাগ পাঠ্যবই সরবরাহ করতে পেরেছিল এনসিটিবি।

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন আনছে এনসিটিবি।

এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা পাঠ্যসূচিতে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

এছাড়া নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’ যুক্ত করা হচ্ছে। স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনাতেও নতুন করে পরিবর্তন আসছে, যার ফলে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্যপুস্তকের তথ্যেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা বাজেটে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের পাঠ্যবই, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংশোধিত বই এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে প্রস্তুত করা বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনা তিন ধরনের রূপ পাচ্ছে।

শিক্ষাক্রমে নতুন ৪ বই: আনন্দময় ও বাস্তবমুখী শিক্ষার উদ্যোগ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

পাঠ্যবই ছাপায় প্রাথমিকে গতি, মাধ্যমিকে ধীরগতি

আপডেট : ০৯:০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

আগামী শিক্ষাবর্ষের প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই মুদ্রণ ও বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের বই ছাপানো ও সরবরাহ কার্যক্রম বেশ সন্তোষজনক পর্যায়ে থাকলেও মাধ্যমিক স্তরে কাজ কিছুটা পিছিয়ে আছে। নতুন বছরের আর মাত্র দুই মাস বাকি থাকায়, নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে সব পাঠ্যবই পৌঁছানো নিয়ে জনমনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের বই ছাপাসহ সরবরাহের অগ্রগতি ভালো। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সব শিক্ষার্থী সব পাঠ্যবই হাতে পাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়। এর মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্যও বই রয়েছে। ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাক্রমে ব্যাপক সংস্কার, প্রাথমিক–মাধ্যমিকে ৪ নতুন বই ও বিষয়: মাহদী আমিন।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) তথ্যমতে, ২০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরের ৮৬ শতাংশ বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে বাঁধাই, কাটিং ও মান নিয়ন্ত্রণ শেষে ৭৪ শতাংশ বই মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। বিপরীতে, মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপার পরিস্থিতি কিছুটা ধীর। এই স্তরে ২০ কোটি ৮৪ লাখেরও বেশি বইয়ের বিপরীতে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ৫০ শতাংশ ছাপার কাজ শেষ হয়েছে এবং আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে ৪০ শতাংশ বই সরবরাহ করা গেছে। তবে বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, নবম-দশম শ্রেণির মাত্র ৩ শতাংশের মতো বই এখন পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে ছাপা হচ্ছে ২২ কোটির বেশি বই। প্রাথমিক স্তরের বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার।

আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য চারটি নতুন পাঠ্যবই যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এনসিটিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে, আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভা ডাকা হয়েছে। ওই সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরেই এই চারটি নতুন বই ছাপার কার্যাদেশ দেওয়া হবে।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের জানিয়েছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব বই ছাপার কাজ শেষ করে মাঠপর্যায়ে পাঠানো। এখন পর্যন্ত মুদ্রণ অগ্রগতির হার নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। কিছু মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও আগামী জানুয়ারির শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে সব পাঠ্যবই তুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

২০১০ সাল থেকে সরকার বিনা মূল্যে পাঠ্যবই বিতরণের কার্যক্রম শুরু করে। তবে গত দুই শিক্ষাবর্ষে নির্ধারিত সময়ে সব বই বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। চলতি শিক্ষাবর্ষে শতভাগ পাঠ্যবই সরবরাহ করতে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগেছিল, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। চলতি শিক্ষাবর্ষ শুরুর এক মাস সাত দিন পর, গত ৭ ফেব্রুয়ারি শতভাগ পাঠ্যবই সরবরাহ করতে পেরেছিল এনসিটিবি।

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন আনছে এনসিটিবি।

এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা পাঠ্যসূচিতে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

এছাড়া নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’ যুক্ত করা হচ্ছে। স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনাতেও নতুন করে পরিবর্তন আসছে, যার ফলে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্যপুস্তকের তথ্যেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা বাজেটে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের পাঠ্যবই, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংশোধিত বই এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে প্রস্তুত করা বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনা তিন ধরনের রূপ পাচ্ছে।