Hi

১২:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১১:১৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯ জন দেখেছে

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের পরপরই ইরানের বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে উভয় দেশের সামরিক বাহিনী তাদের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় কাজ করছে। তবে এই হামলার চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সামরিক মহড়ার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী দেশ ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে বিমান হামলার বিভিন্ন কৌশল অনুশীলন করা হচ্ছে। এই প্রস্তুতির মূল উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য হামলার কার্যকারিতা ও গতিবিধি যাচাই করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের জ্বালানি তেল খাতের অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, এমন একটি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে ইরানের অর্থনীতি তীব্র সংকটের মুখে পড়বে। এর ফলে তেহরান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে এই হামলার ফলাফল এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া নিয়ে কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক পরিকল্পনার বিষয়টি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেবেন কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। যদিও চলতি অক্টোবর মাসে হামলার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা হচ্ছে না, তবে বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। ট্রাম্প আগে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে কোনো সামরিক হামলা চালাবে না এবং দেশটির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান শুরুর এই নতুন পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে বেশ জটিল করে তুলেছে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করার বিষয়টি ওয়াশিংটনের পরবর্তী কৌশলের ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। এদিকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি ইসরাইল সফর করেছেন।

সফরের সময় তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর অনুযায়ী, ওই আলোচনায় ইরানে সম্ভাব্য নতুন হামলার বিষয়টি উঠে এসেছিল। তবে ওই বৈঠকের মাধ্যমে সামরিক অভিযানের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। মূলত ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং তাদের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরির লক্ষ্যেই ওয়াশিংটন ও তেল আবিব এই পরিকল্পনা সাজাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন ইশরাক

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ইরানে সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল

আপডেট : ১১:১৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের পরপরই ইরানের বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে উভয় দেশের সামরিক বাহিনী তাদের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় কাজ করছে। তবে এই হামলার চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সামরিক মহড়ার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী দেশ ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে বিমান হামলার বিভিন্ন কৌশল অনুশীলন করা হচ্ছে। এই প্রস্তুতির মূল উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য হামলার কার্যকারিতা ও গতিবিধি যাচাই করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের জ্বালানি তেল খাতের অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, এমন একটি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে ইরানের অর্থনীতি তীব্র সংকটের মুখে পড়বে। এর ফলে তেহরান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে এই হামলার ফলাফল এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া নিয়ে কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক পরিকল্পনার বিষয়টি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেবেন কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। যদিও চলতি অক্টোবর মাসে হামলার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা হচ্ছে না, তবে বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। ট্রাম্প আগে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে কোনো সামরিক হামলা চালাবে না এবং দেশটির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান শুরুর এই নতুন পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে বেশ জটিল করে তুলেছে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করার বিষয়টি ওয়াশিংটনের পরবর্তী কৌশলের ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। এদিকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি ইসরাইল সফর করেছেন।

সফরের সময় তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর অনুযায়ী, ওই আলোচনায় ইরানে সম্ভাব্য নতুন হামলার বিষয়টি উঠে এসেছিল। তবে ওই বৈঠকের মাধ্যমে সামরিক অভিযানের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। মূলত ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং তাদের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরির লক্ষ্যেই ওয়াশিংটন ও তেল আবিব এই পরিকল্পনা সাজাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।