Hi

১০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু

সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে তা কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের পাঁচজন সদস্যকে একক ধরে এই তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হচ্ছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। এসময় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন। এ লক্ষ্য সামনে রেখে পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা এবং সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে। পাইলট প্রকল্পে ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার মধ্যে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে, যার বড় অংশই গিয়েছে উপকারভোগীদের ভাতার জন্য। কর্মসূচির অগ্রগতি ও সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জনগণকে জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা উপকারভোগীদের ভাতা হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে এই কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রকল্পের জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে ব্যয় হবে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ পিএমটি পদ্ধতিতে পরিবারগুলোকে পাঁচটি আর্থসামাজিক শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ৮৬০ বা তার কম স্কোরধারী পরিবারের নারীপ্রধানরা ভাতা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। যদিও সকল নারী পরিবারপ্রধান কার্ড পাবেন, তবে ভাতা পাবেন শুধু অতিদরিদ্র, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত পরিবারের প্রধানরা। তবে ভাতা দেওয়া হবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ান্টাইলভুক্ত পরিবারগুলোর নারীপ্রধানদের, যাদের আর্থসামাজিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে দুর্বল।

তথ্য সংগ্রহের জন্য ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। তাদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। কর্মীরা বিশেষায়িত ট্যাবলেটের মাধ্যমে সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন, যা নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টারের (এনওসি) মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে যুক্ত হচ্ছে। কার্যক্রমটি নির্বিঘ্ন করতে মোবাইল সিম সংগ্রহ থেকে শুরু করে সাইবার নিরাপত্তা ও কর্মী ব্যবস্থাপনার মতো সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণের প্রথম পর্যায়ও সম্পন্ন হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে নতুন করে আরও ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আগামী তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে যোগ্য সব নারীকে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ভাতার টাকা স্বচ্ছতার সাথে বিতরণের জন্য ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে। কার্ডটি সরকারের সরকারি ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের সাথে সংযুক্ত থাকায় উপকারভোগীরা ব্যাংক এটিএম, বিপণিবিতানের পিওএস এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সহজেই ভাতার টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু

আপডেট : ০৬:০১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে তা কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের পাঁচজন সদস্যকে একক ধরে এই তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হচ্ছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। এসময় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন। এ লক্ষ্য সামনে রেখে পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা এবং সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে। পাইলট প্রকল্পে ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার মধ্যে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে, যার বড় অংশই গিয়েছে উপকারভোগীদের ভাতার জন্য। কর্মসূচির অগ্রগতি ও সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জনগণকে জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা উপকারভোগীদের ভাতা হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে এই কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রকল্পের জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে ব্যয় হবে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ পিএমটি পদ্ধতিতে পরিবারগুলোকে পাঁচটি আর্থসামাজিক শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ৮৬০ বা তার কম স্কোরধারী পরিবারের নারীপ্রধানরা ভাতা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। যদিও সকল নারী পরিবারপ্রধান কার্ড পাবেন, তবে ভাতা পাবেন শুধু অতিদরিদ্র, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত পরিবারের প্রধানরা। তবে ভাতা দেওয়া হবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ান্টাইলভুক্ত পরিবারগুলোর নারীপ্রধানদের, যাদের আর্থসামাজিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে দুর্বল।

তথ্য সংগ্রহের জন্য ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। তাদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। কর্মীরা বিশেষায়িত ট্যাবলেটের মাধ্যমে সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন, যা নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টারের (এনওসি) মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে যুক্ত হচ্ছে। কার্যক্রমটি নির্বিঘ্ন করতে মোবাইল সিম সংগ্রহ থেকে শুরু করে সাইবার নিরাপত্তা ও কর্মী ব্যবস্থাপনার মতো সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণের প্রথম পর্যায়ও সম্পন্ন হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে নতুন করে আরও ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আগামী তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে যোগ্য সব নারীকে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ভাতার টাকা স্বচ্ছতার সাথে বিতরণের জন্য ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে। কার্ডটি সরকারের সরকারি ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের সাথে সংযুক্ত থাকায় উপকারভোগীরা ব্যাংক এটিএম, বিপণিবিতানের পিওএস এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সহজেই ভাতার টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন।