Hi

১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে সর্বাত্মক যুদ্ধের পরিকল্পনা নিয়ে নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সাথে ট্রাম্পের বৈঠক

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১০:৩১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ১২ জন দেখেছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করা বা সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে খুব শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ট্রাম্প তার শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধূলিসাৎ করা এবং তা যেন ভবিষ্যতে পুনরায় শুরু না হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজনে দেশটিতে আরও সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করার ইচ্ছে তার নেই, তবে পরিস্থিতি বাধ্য করলে তাকে কঠিন পথ বেছে নিতে হতে পারে।

দুই মার্কিন কর্মকর্তার তথ্যমতে, সাপ্তাহিক গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই বৈঠকটি ইরান ইস্যুর ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প যখন সামরিক প্রস্তুতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দোরগোড়ায়, তখন ইরানকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বৃহস্পতিবার কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং মিসরের আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সাথে একাধিকবার ফোনে কথা বলেছেন। এর মধ্যে কাতার ইরান ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে, যার লক্ষ্য হলো পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে একটি বৃহত্তর চুক্তিতে পৌঁছানো।

প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং জব্দকৃত কিছু অর্থ ছাড়ের কথা রয়েছে। বিনিময়ে ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাবে। এক বছর আগে কায়রোতে হওয়া একটি চুক্তির কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই এই নতুন প্রস্তাবগুলো সাজানো হয়েছে। পরবর্তী ধাপে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

একই সময়ে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠক করেছেন। রেজাই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি বার্তা পুতিনের কাছে হস্তান্তর করেন। পুতিন সংঘাত নিরসনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে রেজাই স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত দেয়া হয়েছে এবং ওয়াশিংটন সেগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা বা কোনো ধরনের আলোচনার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে, যদিও ওয়াশিংটন থেকে এখনো চূড়ান্ত নির্দেশ পাওয়ার কথা জানাননি কর্মকর্তারা। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপগুলোর একটি অংশ হিসেবে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ও তার স্ট্রাইক গ্রুপকে শুক্রবার থেকে কয়েক দিনের জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থান করতে দেখা গেছে। তবে নভেম্বরের মাঝামাঝির আগে এই রণতরী সেন্টকমের দায়িত্বাধীন এলাকায় পৌঁছাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পার্লামেন্টে তুরস্কের অনুমোদন পেল মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ইরানে সর্বাত্মক যুদ্ধের পরিকল্পনা নিয়ে নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সাথে ট্রাম্পের বৈঠক

আপডেট : ১০:৩১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করা বা সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে খুব শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ট্রাম্প তার শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধূলিসাৎ করা এবং তা যেন ভবিষ্যতে পুনরায় শুরু না হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজনে দেশটিতে আরও সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করার ইচ্ছে তার নেই, তবে পরিস্থিতি বাধ্য করলে তাকে কঠিন পথ বেছে নিতে হতে পারে।

দুই মার্কিন কর্মকর্তার তথ্যমতে, সাপ্তাহিক গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই বৈঠকটি ইরান ইস্যুর ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প যখন সামরিক প্রস্তুতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দোরগোড়ায়, তখন ইরানকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বৃহস্পতিবার কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং মিসরের আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সাথে একাধিকবার ফোনে কথা বলেছেন। এর মধ্যে কাতার ইরান ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে, যার লক্ষ্য হলো পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে একটি বৃহত্তর চুক্তিতে পৌঁছানো।

প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং জব্দকৃত কিছু অর্থ ছাড়ের কথা রয়েছে। বিনিময়ে ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাবে। এক বছর আগে কায়রোতে হওয়া একটি চুক্তির কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই এই নতুন প্রস্তাবগুলো সাজানো হয়েছে। পরবর্তী ধাপে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

একই সময়ে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠক করেছেন। রেজাই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি বার্তা পুতিনের কাছে হস্তান্তর করেন। পুতিন সংঘাত নিরসনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে রেজাই স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত দেয়া হয়েছে এবং ওয়াশিংটন সেগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা বা কোনো ধরনের আলোচনার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে, যদিও ওয়াশিংটন থেকে এখনো চূড়ান্ত নির্দেশ পাওয়ার কথা জানাননি কর্মকর্তারা। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপগুলোর একটি অংশ হিসেবে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ও তার স্ট্রাইক গ্রুপকে শুক্রবার থেকে কয়েক দিনের জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থান করতে দেখা গেছে। তবে নভেম্বরের মাঝামাঝির আগে এই রণতরী সেন্টকমের দায়িত্বাধীন এলাকায় পৌঁছাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।