Hi

০৭:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদিতে আটকা ৪ হাজার ভারতীয় ওমরাহযাত্রী, ফিরতে চলছে তৎপরতা

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৪:৪৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৮ জন দেখেছে

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থায় তীব্র বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন প্রায় চার হাজার ভারতীয় ওমরাহযাত্রী। বর্তমানে তারা দেশটির পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনায় আটকা পড়েছেন। ফ্লাইট সূচির বিপর্যয় ও ঘনঘন ফ্লাইট বাতিলের ফলে এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ইন্ডিগো, আকাসা এয়ার এবং এয়ার ইন্ডিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কারণে যাত্রীরা আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতি উত্তরণে তিনি ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ামক সংস্থাকে (ডিজিসিএ) বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইট পাঠানো কিংবা বড় আকারের উড়োজাহাজ ব্যবহারের জরুরি পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আটকে পড়া নাগরিকদের নিরাপদে ও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং জেদ্দার কনস্যুলেট জেনারেল সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস ও ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ার সংকট থাকা সত্ত্বেও গত এক সপ্তাহে বিশেষ ও পরিবর্তিত সূচির ফ্লাইটে প্রায় ৩ হাজার ওমরাহযাত্রী দেশে ফিরেছেন। এছাড়া নিয়মিত নির্ধারিত ফ্লাইটে আরও ১০ হাজারের বেশি যাত্রী ইতোমধ্যে ভারতে পৌঁছেছেন। নতুন হামলা হলে ৭ দেশের এআই ও তেল স্থাপনা ধ্বংস করবে ইরান। গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবে আটকে পড়া ওমরাহযাত্রীদের নিরাপদে ও দ্রুত দেশে ফেরাতে রিয়াদের ভারতীয় দূতাবাস এবং জেদ্দার কনস্যুলেট জেনারেল সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস ও ট্যুর অপারেটরদ।

রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে हालই হামলার ঘটনা ঘটে। এর ফলে ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় ও ধারাবাহিক বাতিলের ঘটনা ঘটে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) খুলেছে এবং নাগরিকদের সহায়তায় হটলাইন নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে।

সম্প্রতি দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আহতদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। এছাড়া কুয়েতি ট্যাংকারে হামলাসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন বেশ উদ্বেগজনক। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য হলো, মক্কা ও মদিনায় অপেক্ষমাণ ভারতীয় নাগরিকদের ধৈর্য বজায় রাখতে উৎসাহিত করা এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় ঝরল ২ প্রাণ, আহত দুই বাংলাদেশি।

তদন্তকারী সংশ্লিষ্টদের মতে, আকাশপথে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও ফ্লাইটের স্বাভাবিক সূচি পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টিই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে আটকে পড়া যাত্রীদের সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানে সচেষ্ট রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা ও তাদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বর্তমানে ভারতীয় কূটনীতিকদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে গ্রেপ্তার হলে বাতিল হতে পারে ভিসা, সতর্ক করল ঢাকার মার্কিন দূতাবাস

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সৌদিতে আটকা ৪ হাজার ভারতীয় ওমরাহযাত্রী, ফিরতে চলছে তৎপরতা

আপডেট : ০৪:৪৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থায় তীব্র বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন প্রায় চার হাজার ভারতীয় ওমরাহযাত্রী। বর্তমানে তারা দেশটির পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনায় আটকা পড়েছেন। ফ্লাইট সূচির বিপর্যয় ও ঘনঘন ফ্লাইট বাতিলের ফলে এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ইন্ডিগো, আকাসা এয়ার এবং এয়ার ইন্ডিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কারণে যাত্রীরা আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতি উত্তরণে তিনি ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ামক সংস্থাকে (ডিজিসিএ) বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইট পাঠানো কিংবা বড় আকারের উড়োজাহাজ ব্যবহারের জরুরি পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আটকে পড়া নাগরিকদের নিরাপদে ও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং জেদ্দার কনস্যুলেট জেনারেল সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস ও ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ার সংকট থাকা সত্ত্বেও গত এক সপ্তাহে বিশেষ ও পরিবর্তিত সূচির ফ্লাইটে প্রায় ৩ হাজার ওমরাহযাত্রী দেশে ফিরেছেন। এছাড়া নিয়মিত নির্ধারিত ফ্লাইটে আরও ১০ হাজারের বেশি যাত্রী ইতোমধ্যে ভারতে পৌঁছেছেন। নতুন হামলা হলে ৭ দেশের এআই ও তেল স্থাপনা ধ্বংস করবে ইরান। গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবে আটকে পড়া ওমরাহযাত্রীদের নিরাপদে ও দ্রুত দেশে ফেরাতে রিয়াদের ভারতীয় দূতাবাস এবং জেদ্দার কনস্যুলেট জেনারেল সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস ও ট্যুর অপারেটরদ।

রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে हालই হামলার ঘটনা ঘটে। এর ফলে ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় ও ধারাবাহিক বাতিলের ঘটনা ঘটে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) খুলেছে এবং নাগরিকদের সহায়তায় হটলাইন নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে।

সম্প্রতি দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আহতদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। এছাড়া কুয়েতি ট্যাংকারে হামলাসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন বেশ উদ্বেগজনক। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য হলো, মক্কা ও মদিনায় অপেক্ষমাণ ভারতীয় নাগরিকদের ধৈর্য বজায় রাখতে উৎসাহিত করা এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় ঝরল ২ প্রাণ, আহত দুই বাংলাদেশি।

তদন্তকারী সংশ্লিষ্টদের মতে, আকাশপথে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও ফ্লাইটের স্বাভাবিক সূচি পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টিই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে আটকে পড়া যাত্রীদের সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানে সচেষ্ট রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা ও তাদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বর্তমানে ভারতীয় কূটনীতিকদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।