বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন ভূমির একটি বড় অংশ অবৈধ দখলে চলে গেছে। বর্তমানে সংস্থাটির মোট ৬৩ হাজার ৭২ একর জমির মধ্যে ৩ হাজার ২৪ একর জমিই বেদখলে রয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে রেলওয়ের মোট জমি, ইজারাকৃত জমি, ইজারাকৃত আয়, অবৈধ দখলকৃত জমি এবং ভূমি–সংক্রান্ত মামলাবিষয়ক প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, বেদখলে থাকা ভূসম্পত্তি পুনরুদ্ধারে ইতোমধ্যে উচ্ছেদ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির আগের বৈঠকে রেলের জমি সম্পর্কিত তথ্য চাওয়া হয়েছিল, যার ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন পেশ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেলওয়ের ২৫ হাজার ৮৩ একর জমি ইজারা দেওয়া হয়েছে, যা থেকে গত অর্থবছরে ৮৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।
ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুসরণে অব্যবহৃত জমি লিজ বা লাইসেন্সের মাধ্যমে পরিকল্পিত ব্যবহারের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে ‘রেলওয়ে স্টেট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার’ চালুর কথা উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানায়, এটি জমি উদ্ধার ও ব্যবস্থাপনায় বড় ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী ও লালমনিরহাট বিভাগে বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যারা আগামী তিন মাসের মধ্যে অবৈধ দখল চিহ্নিত করে তা অপসারণের উদ্যোগ নেবে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় রেলভূমিতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের আওতাধীন জেলাগুলোর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে রেলভূমিতে সম্ভাব্য সংঘটিত মাদক–সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। সুষ্ঠু ভূমি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সম্প্রতি রেলওয়ে স্টেট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের ব্যবহার শুরু হয়েছে।
বৈঠকে রেলওয়ের ট্রেনের ইঞ্জিন ও কোচের সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। জানানো হয়, বহরে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ যুক্ত হতে যাচ্ছে, যার মধ্যে ১৮টি ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। এসব কোচ পাওয়া সাপেক্ষে ঢাকা-মোংলা রুটে নতুন ট্রেন চালু করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় নিয়মিত কনটেইনার ও দেশজুড়ে জ্বালানি-খাদ্যশস্য পরিবহনে মিটারগেজ ইঞ্জিনের সংকট থাকায় ট্রেনের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে অনুমোদিত ৩০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন কেনার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং আরও ৩০টিসহ মোট ৬০টি ইঞ্জিন ২০২৯ সালের মধ্যে বহরে যুক্ত হলে মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে। সাম্প্রতিক সময়ে ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদিত হয়েছে।
অনলাইন টিকেট বিক্রির বিষয়ে বৈঠকে উঠে আসে বর্তমান প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান সহজ ডটকমের সঙ্গে রেলের চুক্তি আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হতে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন ভেন্ডর নিয়োগের দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। ই-টিকেটে কালোবাজারি রোধে যাত্রার ১০ দিন আগে একবারে সব টিকেট না ছেড়ে প্রতিদিন ১০ শতাংশ করে টিকেট অবমুক্ত করার পরামর্শ দেন সংসদীয় কমিটির এক সদস্য। ই–টিকিটে কালোবাজারি বন্ধ করতে যাত্রার ১০ দিন আগে একই দিনে সব টিকিট অনলাইনে না ছেড়ে প্রতিদিন ১০ শতাংশ করে টিকিট ছাড়ার পরামর্শ দেন একজন সদস্য।
কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে কমিটির সদস্য রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, আবদুল মহিত তালুকদার, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ও মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান অংশ নেন। বৈঠকে টিকেট বিক্রি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের নানান দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
রিপোর্টার নাম: 






















