Hi

১২:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালের পাঁচ জেলায় বন্যার সতর্কতা, বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে নির্দেশ

নেপালের মধ্যাঞ্চলে প্রবল ভূমিধসের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে গোর্খা জেলার চুমনুব্রি গ্রামে এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে, যার ফলে বুধি গণ্ডকী নদীর পানি উপচে ভাটির দিকে লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গোর্খা জেলার জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, বন্যার তোড়ে ইতিমধ্যে কয়েকটি বাড়ি ও দুটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে। পাশাপাশি একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতির বিস্তার রোধে গোর্খা, তানাহুন, চিতওয়ান এবং পূর্ব ও পশ্চিম নওয়ালপরাসি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে এবং উদ্ধারকাজে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হেলিকপ্টারযোগে দুর্গম এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রেখেছেন।

রোববার পর্যন্ত এই বন্যায় কোনো প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। বুধি গণ্ডকী নদী ত্রিশূলী নদীর একটি উপনদী হওয়ায় এর প্রবাহে যেকোনো পরিবর্তন ভাটির জনবসতিগুলোর জন্য নতুন ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

উল্লেখ্য যে, নেপালে নতুন করে বন্যার এ পরিস্থিতি আগস্ট মাসের ভয়াবহ স্মৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে। সে সময় হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় ১ হাজার ৪৫৭ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। বর্তমান বন্যায় যেন একই ধরনের বড় ধরনের বিপর্যয় না ঘটে, সেজন্য কর্তৃপক্ষ বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। উদ্ধারকারী দলগুলো সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

জনপ্রিয়

রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ঢাকা থেকে ৫ ফ্লাইট বাতিল

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

নেপালের পাঁচ জেলায় বন্যার সতর্কতা, বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে নির্দেশ

আপডেট : ১০:৪৮:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

নেপালের মধ্যাঞ্চলে প্রবল ভূমিধসের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে গোর্খা জেলার চুমনুব্রি গ্রামে এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে, যার ফলে বুধি গণ্ডকী নদীর পানি উপচে ভাটির দিকে লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গোর্খা জেলার জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, বন্যার তোড়ে ইতিমধ্যে কয়েকটি বাড়ি ও দুটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে। পাশাপাশি একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতির বিস্তার রোধে গোর্খা, তানাহুন, চিতওয়ান এবং পূর্ব ও পশ্চিম নওয়ালপরাসি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে এবং উদ্ধারকাজে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হেলিকপ্টারযোগে দুর্গম এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রেখেছেন।

রোববার পর্যন্ত এই বন্যায় কোনো প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। বুধি গণ্ডকী নদী ত্রিশূলী নদীর একটি উপনদী হওয়ায় এর প্রবাহে যেকোনো পরিবর্তন ভাটির জনবসতিগুলোর জন্য নতুন ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

উল্লেখ্য যে, নেপালে নতুন করে বন্যার এ পরিস্থিতি আগস্ট মাসের ভয়াবহ স্মৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে। সে সময় হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় ১ হাজার ৪৫৭ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। বর্তমান বন্যায় যেন একই ধরনের বড় ধরনের বিপর্যয় না ঘটে, সেজন্য কর্তৃপক্ষ বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। উদ্ধারকারী দলগুলো সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।