Hi

১২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোল ও অ্যাসিস্টে রাঙানো বিদায়

আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্সে বিদায়ী মুহূর্ত রাঙিয়ে নিলেন লিওনেল মেসি। তার নেতৃত্বে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ব্যক্তিগতভাবে এক গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট করে অধিনায়ক হিসেবে নিজের শেষ ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখলেন এই মহাতারকা। যে বল দিয়ে শেষ ম্যাচ খেলছেন মেসি, লেখা ‘দ্য লাস্ট ড্যান্স’। তার শট গোলের ওপরের মাঝামাঝি দিয়ে জালে জড়ায়। ফলে আর্জেন্টিনার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ২-০।

ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা গোল করার একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। মেসি নিজে কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তার দুটি শট বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনুর দক্ষতায় আটকে যায়। ৪৩ মিনিটে মেসির নিখুঁত থ্রু বল থেকে জুলিয়ান আলভারেজ গোল করার সুযোগ পেলেও গোলরক্ষকের দারুণ সেভে তা ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে বেনিনও বেশ কয়েকবার এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল, ফলে গোলশূন্য ড্র নিয়ে শেষ হয় প্রথমার্ধ। বিরতির পর অবশ্য দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। তবে প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলই গোল করতে ব্যর্থ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নিকোলাস ওতামেন্দি। ৪৮ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে পাওয়া ক্রসটি ডান পায়ের শটে গোলপোস্টের জালে জড়ান তিনি, যা আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। এরপর ৬০ মিনিটে মেসি আবারও গোল পাওয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু বেনিনের গোলরক্ষক তা ঠেকিয়ে দেন। তবে এর এক মিনিট পরই ব্যবধান বাড়ান নিকো পাজ। ৬১ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্ট থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়ান তিনি। ৬১ মিনিটে নিকো পাজ বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল পাঠান নিচের বাঁ কোণে।

ম্যাচের ৬৮ মিনিটে আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পায়। আগুস্তিন গিয়াইকে বেনিনের খেলোয়াড় টামিমু উউরো ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ৭১ মিনিটে স্পটকিক থেকে গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন মেসি। গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করে নিখুঁত শটে তিনি নিজের বিদায়ী ম্যাচে নাম লেখান স্কোরশিটে।

৭৫ মিনিটে আবারও গোল করার সুযোগ ছিল মেসির সামনে, কিন্তু নিকো গনসালেসের ক্রস থেকে নেওয়া তার শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। ৮৯ মিনিটে জিওভানি লো সেলসোর সহায়তায় এবং পরে লিওনেল ফ্লোরেসের মাধ্যমেও গোল পাওয়ার চেষ্টা করে আর্জেন্টিনা, কিন্তু বেনিনের নতুন গোলরক্ষক স্যাতুর্নিন আলাগবে তা রুখে দেন। ৯৫ মিনিটে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে মেসির শেষ শটটি গোলপোস্টের ওপর দিয়ে চলে গেলে ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ চলাকালীন কোচ লিওনেল স্কালোনি একাধিক পরিবর্তন আনেন। ৫৯ মিনিটে রদ্রিগো দে পলের জায়গায় নিকো পাজ, ৬০ মিনিটে আলভারেজের স্থলে নিকোলাস গনসালেস মাঠে নামেন। ৭৮ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের বদলে লিওনেল ফ্লোরেস এবং ৭৯ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেস, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জায়গায় যথাক্রমে এক্সেকিয়েল পালাসিওস, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনো ও জিওভানি লো সেলসো মাঠে নামেন। বেনিনও দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কিছু পরিবর্তন আনে, যার মধ্যে গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনুর পরিবর্তে ৭৬ মিনিটে স্যাতুর্নিন আলাগবের মাঠে নামা অন্যতম।

খেলা শেষে এস্টাডিও মনুমেন্টালে তৈরি হয় আবেগঘন এক পরিবেশ। বিউগলের করুন সুরের মূর্ছনায় ভক্তদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্টেডিয়ামের আকাশে লেজার লাইটের মাধ্যমে ভেসে ওঠে মেসির ১০ নম্বর জার্সি ও বিদায়ী বার্তা, যা বুয়েন্স আয়ার্সের আকাশকে এক বিশেষ মুহূর্ত উপহার দেয়।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

গোল ও অ্যাসিস্টে রাঙানো বিদায়

আপডেট : ১০:০০:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্সে বিদায়ী মুহূর্ত রাঙিয়ে নিলেন লিওনেল মেসি। তার নেতৃত্বে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ব্যক্তিগতভাবে এক গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট করে অধিনায়ক হিসেবে নিজের শেষ ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখলেন এই মহাতারকা। যে বল দিয়ে শেষ ম্যাচ খেলছেন মেসি, লেখা ‘দ্য লাস্ট ড্যান্স’। তার শট গোলের ওপরের মাঝামাঝি দিয়ে জালে জড়ায়। ফলে আর্জেন্টিনার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ২-০।

ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা গোল করার একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। মেসি নিজে কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তার দুটি শট বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনুর দক্ষতায় আটকে যায়। ৪৩ মিনিটে মেসির নিখুঁত থ্রু বল থেকে জুলিয়ান আলভারেজ গোল করার সুযোগ পেলেও গোলরক্ষকের দারুণ সেভে তা ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে বেনিনও বেশ কয়েকবার এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল, ফলে গোলশূন্য ড্র নিয়ে শেষ হয় প্রথমার্ধ। বিরতির পর অবশ্য দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। তবে প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলই গোল করতে ব্যর্থ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নিকোলাস ওতামেন্দি। ৪৮ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে পাওয়া ক্রসটি ডান পায়ের শটে গোলপোস্টের জালে জড়ান তিনি, যা আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। এরপর ৬০ মিনিটে মেসি আবারও গোল পাওয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু বেনিনের গোলরক্ষক তা ঠেকিয়ে দেন। তবে এর এক মিনিট পরই ব্যবধান বাড়ান নিকো পাজ। ৬১ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্ট থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়ান তিনি। ৬১ মিনিটে নিকো পাজ বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল পাঠান নিচের বাঁ কোণে।

ম্যাচের ৬৮ মিনিটে আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পায়। আগুস্তিন গিয়াইকে বেনিনের খেলোয়াড় টামিমু উউরো ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ৭১ মিনিটে স্পটকিক থেকে গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন মেসি। গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করে নিখুঁত শটে তিনি নিজের বিদায়ী ম্যাচে নাম লেখান স্কোরশিটে।

৭৫ মিনিটে আবারও গোল করার সুযোগ ছিল মেসির সামনে, কিন্তু নিকো গনসালেসের ক্রস থেকে নেওয়া তার শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। ৮৯ মিনিটে জিওভানি লো সেলসোর সহায়তায় এবং পরে লিওনেল ফ্লোরেসের মাধ্যমেও গোল পাওয়ার চেষ্টা করে আর্জেন্টিনা, কিন্তু বেনিনের নতুন গোলরক্ষক স্যাতুর্নিন আলাগবে তা রুখে দেন। ৯৫ মিনিটে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে মেসির শেষ শটটি গোলপোস্টের ওপর দিয়ে চলে গেলে ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ চলাকালীন কোচ লিওনেল স্কালোনি একাধিক পরিবর্তন আনেন। ৫৯ মিনিটে রদ্রিগো দে পলের জায়গায় নিকো পাজ, ৬০ মিনিটে আলভারেজের স্থলে নিকোলাস গনসালেস মাঠে নামেন। ৭৮ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের বদলে লিওনেল ফ্লোরেস এবং ৭৯ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেস, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জায়গায় যথাক্রমে এক্সেকিয়েল পালাসিওস, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনো ও জিওভানি লো সেলসো মাঠে নামেন। বেনিনও দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কিছু পরিবর্তন আনে, যার মধ্যে গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনুর পরিবর্তে ৭৬ মিনিটে স্যাতুর্নিন আলাগবের মাঠে নামা অন্যতম।

খেলা শেষে এস্টাডিও মনুমেন্টালে তৈরি হয় আবেগঘন এক পরিবেশ। বিউগলের করুন সুরের মূর্ছনায় ভক্তদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্টেডিয়ামের আকাশে লেজার লাইটের মাধ্যমে ভেসে ওঠে মেসির ১০ নম্বর জার্সি ও বিদায়ী বার্তা, যা বুয়েন্স আয়ার্সের আকাশকে এক বিশেষ মুহূর্ত উপহার দেয়।