Hi

১০:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৯:০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯ জন দেখেছে

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির সম্প্রতি ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, তার প্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। সংস্থাটির দাবি, বিচারবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তির উদ্দেশ্যে তিনি এই শব্দটি ব্যবহার করেননি। মূলত আইন প্রয়োগে পুলিশের দৃঢ়তা ও কঠোর অবস্থান বোঝানোর জন্যই তিনি আক্ষরিক অর্থে শব্দটি উচ্চারণ করেছিলেন।

সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, সকালে রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপির দেওয়া বক্তব্যটি তাদের নজরে এসেছে। ঐ অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেছিলেন, ‘যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে আমরা সেটাই করব।’ পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেছিলেন, কে আসবে বা কী হবে, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেখার বিষয় নয়; সংবিধান ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই তাদের দায়িত্ব। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক বার্তায় পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের চকবাজার ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সকালে আইজিপির দেওয়া বক্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবা।

সদর দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তায় বাংলাদেশ পুলিশ প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। এই দায়িত্বের অংশ হিসেবেই তারা মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া পুলিশ সদস্যদের প্রায়ই অপরাধীদের সরাসরি আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দশ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে চারজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। অপরাধ দমন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের মৌলিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের অনেক ক্ষেত্রে অপরাধী, সংঘবদ্ধ হামলাকারী ও আইন অমান্যকারীদের সরাসরি প্রতিরোধ এবং আক্রমণের মুখে পড়তে হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বার্তায় আরও বলা হয়, দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১-এর আওতায় পুলিশের আত্মরক্ষার আইনগত অধিকার রয়েছে। আইজিপির মন্তব্যটি সেই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতেই দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে দেওয়া মন্তব্যের বিষয়ে সদর দপ্তর জানিয়েছে, এটি একটি অসাবধানতাবশত মন্তব্য ছিল এবং আইজিপি ঢালাওভাবে সাংবাদিকদের নিয়ে কিছু বলতে চাননি।

সবশেষে পুলিশ সদর দপ্তর পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারত্বের সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এনসিটিবির ৯ কর্মকর্তাকে ওএসডি করে বিভিন্ন কলেজে বদলি

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

আপডেট : ০৯:০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির সম্প্রতি ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, তার প্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। সংস্থাটির দাবি, বিচারবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তির উদ্দেশ্যে তিনি এই শব্দটি ব্যবহার করেননি। মূলত আইন প্রয়োগে পুলিশের দৃঢ়তা ও কঠোর অবস্থান বোঝানোর জন্যই তিনি আক্ষরিক অর্থে শব্দটি উচ্চারণ করেছিলেন।

সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, সকালে রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপির দেওয়া বক্তব্যটি তাদের নজরে এসেছে। ঐ অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেছিলেন, ‘যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে আমরা সেটাই করব।’ পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেছিলেন, কে আসবে বা কী হবে, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেখার বিষয় নয়; সংবিধান ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই তাদের দায়িত্ব। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক বার্তায় পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের চকবাজার ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সকালে আইজিপির দেওয়া বক্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবা।

সদর দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তায় বাংলাদেশ পুলিশ প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। এই দায়িত্বের অংশ হিসেবেই তারা মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া পুলিশ সদস্যদের প্রায়ই অপরাধীদের সরাসরি আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দশ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে চারজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। অপরাধ দমন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের মৌলিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের অনেক ক্ষেত্রে অপরাধী, সংঘবদ্ধ হামলাকারী ও আইন অমান্যকারীদের সরাসরি প্রতিরোধ এবং আক্রমণের মুখে পড়তে হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বার্তায় আরও বলা হয়, দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১-এর আওতায় পুলিশের আত্মরক্ষার আইনগত অধিকার রয়েছে। আইজিপির মন্তব্যটি সেই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতেই দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে দেওয়া মন্তব্যের বিষয়ে সদর দপ্তর জানিয়েছে, এটি একটি অসাবধানতাবশত মন্তব্য ছিল এবং আইজিপি ঢালাওভাবে সাংবাদিকদের নিয়ে কিছু বলতে চাননি।

সবশেষে পুলিশ সদর দপ্তর পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারত্বের সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।