আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। শুক্রবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান। আগামী শনিবার একই স্থানে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভার প্রস্তুতি জানাতেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। শনিবার (২৪ অক্টোবর) একই মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের সমর্থনে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনী জনসভার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। নির্বাচনে সরকারি দল জিতবে নাকি হারবে কিংবা বিরোধী দল জিতবে নাকি হারবে, সেটি বড় কথা নয়। বিএনপি হারলে সরকারের পতন হবে না, আবার বিরোধী দল জিতলেও তা মহাবিজয় হয়ে উঠবে না। সংবাদ সম্মেলনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, সারা দেশের ১৮ কোটি মানুষের পাশাপাশি গণমাধ্যমের দৃষ্টি এখন ঠাকুরগাঁওয়ের দিকে। তিনি এসব কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
প্রচারণায় বাধা ও ভয়ভীতির অভিযোগ
- দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের নিয়মিত হুমকি ও বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
- অনেক কর্মীর বাড়িতে গিয়ে সরাসরি ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে এবং একজন নারী কর্মীকে বাড়ি ছাড়া করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
- সাধারণ ভোটারদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে প্রকাশ্যে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রদানের বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, নির্বাচনী মাঠে এমন ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হলে সাধারণ ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।
তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাচনকে মাগুরার পরিস্থিতির সাথে তুলনা করে বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল না করে গণতান্ত্রিক ধারার বিজয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আমরা ঠাকুরগাঁওকে মাগুরার মতো দেখতে চাই না।’। সম্মিলিতভাবে ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাচনকে একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে আকাঙ্ক্ষা ছাত্র-জনতার রয়েছে, তার প্রতিফলন ঘটবে ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনে।
প্রার্থীর অভিযোগ ও নির্বাচনী আচরণবিধি
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন যে, সমতল নির্বাচনী মাঠ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আজও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, সরকারি দল ও তাদের প্রার্থীর সমর্থকরা প্রতিনিয়ত নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করছেন। প্রতীক বরাদ্দের আগেই নির্দিষ্ট প্রতীকের ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন এবং নির্ধারিত সময়ের আগে মাইক ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। এছাড়াও, নির্বাচনী মাঠের সৌন্দর্য নষ্ট করে ধানের শীষের ব্যানার লাগানোয় রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ঘাটতি ফুটে উঠেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এত দিন মাঠটি ব্যানারমুক্ত থাকলেও এ ঘটনায় রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও মাঠের সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন হয়েছে। ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে ভোটারদের বলা হচ্ছে, গোপনে ভোট দেওয়া যাবে না; ধানের শীষে সিল দিয়ে তা দেখাতে হবে।
প্রশাসনের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান
দেলাওয়ার হোসেন আরও জানান, নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ করার পরেও কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল দলের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান যেন নির্বাচনের পরিবেশকে উৎসবমুখর রাখা হয়। ভোটারদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ভুলে না গিয়ে সবাইকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। উপনির্বাচনে যার পক্ষেই রায় আসুক না কেন, তা মেনে নেওয়ার মানসিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, উপনির্বাচন বলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আনন্দ ও অভিজ্ঞতার কথা ভুলে গেলে চলবে না। মানুষের প্রত্যাশা, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব ঘটনা ঘটেছিল, এবার তার পুনরাবৃত্তি হবে না।
জনসভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণ
আগামীকালের জনসভায় উপস্থিত থাকবেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ.এইচ.এম. হামিদুর রহমান আযাদ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এবং ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান, সাবেক আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম, দিনাজপুর জেলার সাবেক আমির আনোয়ারুল ইসলামসহ স্থানীয় শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহসহ অন্য নেতারা।
রিপোর্টার নাম: 























