Hi

০৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন, জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন: ইসি

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৭:৩৯:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৪ জন দেখেছে

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আসন্ন উপনির্বাচনেও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির পাশাপাশি আরও উন্নত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে উপনির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসি সানাউল্লাহ জানান, উপনির্বাচনে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যরাও মাঠে থেকে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কমিশনের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত বৈঠকে আগামী বছরের ৬ জুনের আগেই নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার।

ইউপি নির্বাচনের অগ্রাধিকার ও প্রস্তুতি

তিনি বলেন, কমিশন বর্তমানে দেশের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ পরিচালনা করছে। আইন অনুযায়ী অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে সেগুলোও যথাসময়ে আয়োজন করা হবে। তবে ইউপি নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় আরও কিছু সমন্বয় ও মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষে কমিশনের মূল বৈঠকে চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।

ইউপি নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাস্তব ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে সানাউল্লাহ উল্লেখ করেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ের ভয়াবহ বন্যার কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। দেশের ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

শিক্ষা খাতের চ্যালেঞ্জ ও পরীক্ষার সময়সূচি

এ কারণে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নির্বাচন কমিশনের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের কারণে কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। নির্বাচনে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি উল্লেখ করে সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের আগে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির জন্য একজন শিক্ষককে অন্তত এক সপ্তাহ সময় দিতে হয়। একই সঙ্গে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও পরীক্ষার প্রাক-প্রস্তুতির বিষয়গুলোও কমিশনকে বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।

কমিশন এসব বাস্তব বিষয়কে অত্যন্ত যৌক্তিক হিসেবে বিবেচনা করছে এবং সংশ্লিষ্ট সবার সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানের চেষ্টা করছে। নির্বাচনের উপযুক্ত সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সময়সূচির বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন ইসি সানাউল্লাহ। তিনি জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

কমিশনের সময় পরিকল্পনা ও সমন্বয়

পরীক্ষার সূচি বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি জানান, জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই দেশজুড়ে শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা। এই এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকে শুরু করে আগামী ৬ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত মাঝে আবার কিছুটা সময় পাওয়া যাবে। এই সীমিত ও সংকীর্ণ সময়ের মধ্যে কীভাবে সব নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রম সফলভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে বর্তমানে কমিশন নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে।

ইউপি নির্বাচনের বিষয়ে কমিশনের পূর্বের প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে নির্বাচন কমিশন সরে এসেছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তা পুরোপুরি নাকচ করে দেন সানাউল্লাহ। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আগে যে সময়সূচির কথা বলা হয়েছিল, সেটি মূলত ছিল প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভার ভিত্তিতে করা একটি সাময়িক বা টেন্টেটিভ পরিকল্পনা মাত্র।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া

তিনি আরও যোগ করেন, ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভার পর মাঠ পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তাই আগের অবস্থান থেকে নির্বাচন কমিশন কোনোভাবেই সরে যায়নি। সব তথ্য ও উপাত্ত পর্যালোচনার পর কমিশনের নিজস্ব বৈঠকেই ইউপি নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

এর আগে নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে দেশজুড়ে মোট সাতটি ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের একটি খসড়া পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। তবে তখনই কমিশনের পক্ষ থেকে সতর্কতার সঙ্গে বলা হয়েছিল যে, ওই সময়সূচি কোনোভাবেই চূড়ান্ত নয় এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তা পুনর্বিবেচনা করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে রোজা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন, জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন: ইসি

আপডেট : ০৭:৩৯:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আসন্ন উপনির্বাচনেও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির পাশাপাশি আরও উন্নত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে উপনির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসি সানাউল্লাহ জানান, উপনির্বাচনে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যরাও মাঠে থেকে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কমিশনের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত বৈঠকে আগামী বছরের ৬ জুনের আগেই নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার।

ইউপি নির্বাচনের অগ্রাধিকার ও প্রস্তুতি

তিনি বলেন, কমিশন বর্তমানে দেশের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ পরিচালনা করছে। আইন অনুযায়ী অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে সেগুলোও যথাসময়ে আয়োজন করা হবে। তবে ইউপি নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় আরও কিছু সমন্বয় ও মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষে কমিশনের মূল বৈঠকে চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।

ইউপি নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাস্তব ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে সানাউল্লাহ উল্লেখ করেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ের ভয়াবহ বন্যার কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। দেশের ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

শিক্ষা খাতের চ্যালেঞ্জ ও পরীক্ষার সময়সূচি

এ কারণে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নির্বাচন কমিশনের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের কারণে কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। নির্বাচনে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি উল্লেখ করে সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের আগে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির জন্য একজন শিক্ষককে অন্তত এক সপ্তাহ সময় দিতে হয়। একই সঙ্গে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও পরীক্ষার প্রাক-প্রস্তুতির বিষয়গুলোও কমিশনকে বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।

কমিশন এসব বাস্তব বিষয়কে অত্যন্ত যৌক্তিক হিসেবে বিবেচনা করছে এবং সংশ্লিষ্ট সবার সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানের চেষ্টা করছে। নির্বাচনের উপযুক্ত সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সময়সূচির বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন ইসি সানাউল্লাহ। তিনি জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

কমিশনের সময় পরিকল্পনা ও সমন্বয়

পরীক্ষার সূচি বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি জানান, জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই দেশজুড়ে শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা। এই এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকে শুরু করে আগামী ৬ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত মাঝে আবার কিছুটা সময় পাওয়া যাবে। এই সীমিত ও সংকীর্ণ সময়ের মধ্যে কীভাবে সব নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রম সফলভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে বর্তমানে কমিশন নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে।

ইউপি নির্বাচনের বিষয়ে কমিশনের পূর্বের প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে নির্বাচন কমিশন সরে এসেছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তা পুরোপুরি নাকচ করে দেন সানাউল্লাহ। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আগে যে সময়সূচির কথা বলা হয়েছিল, সেটি মূলত ছিল প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভার ভিত্তিতে করা একটি সাময়িক বা টেন্টেটিভ পরিকল্পনা মাত্র।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া

তিনি আরও যোগ করেন, ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভার পর মাঠ পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তাই আগের অবস্থান থেকে নির্বাচন কমিশন কোনোভাবেই সরে যায়নি। সব তথ্য ও উপাত্ত পর্যালোচনার পর কমিশনের নিজস্ব বৈঠকেই ইউপি নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

এর আগে নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে দেশজুড়ে মোট সাতটি ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের একটি খসড়া পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। তবে তখনই কমিশনের পক্ষ থেকে সতর্কতার সঙ্গে বলা হয়েছিল যে, ওই সময়সূচি কোনোভাবেই চূড়ান্ত নয় এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তা পুনর্বিবেচনা করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে রোজা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।