Hi

০৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে দেশের প্রথম সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন যুদ্ধ প্রশিক্ষণকেন্দ্রের যাত্রা শুরু

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৫:৩৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ জন দেখেছে

দেশের দুর্গম সীমান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে সিলেটে চালু হয়েছে দেশের প্রথম ‘সীমান্ত স্কুল অব সারভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উদ্বোধনের পর তিনি কেন্দ্রটির কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং ড্রোনের ব্যবহারিক মহড়া ও প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যেসব দুর্গম সীমান্ত এলাকায় জনবল দিয়ে সরাসরি নজরদারি চালানো কঠিন, সেখানে এখন থেকে ডিজিটাল নজরদারি, থার্মাল ইমেজিং ও নাইট ভিশন সুবিধাসম্পন্ন ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্তের ওপারে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার এবং মানব পাচারের মতো আন্তসীমান্ত অপরাধগুলোও কার্যকরভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রশিক্ষণকেন্দ্রটির গুরুত্ব তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এর মাধ্যমে ড্রোন ও ডিজিটাল নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হবে। ভবিষ্যতে সীমান্তের বর্ডার আউটপোস্ট, বিজিবি সদর দপ্তর এবং আঞ্চলিক কমান্ড পর্যায় থেকেও সীমান্ত পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হবে। এছাড়া বিজিবির জন্য দেশেই ড্রোন তৈরি ও সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এগুলো নিজেরাও এখানে অ্যাসেম্বল করছি, বানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে এটি আমাদের জন্য একটি ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।’

বর্তমানে প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বিশ্বের বিভিন্ন আধুনিক ড্রোন রাখা হয়েছে। সব ধরনের উন্নত ড্রোন এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব না হলেও আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে আরও উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু সীমান্ত সুরক্ষাই নয়, দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধারকাজেও ড্রোন ব্যবহার করা হবে। বিজিবি সদস্যরা ইতিমধ্যে এ ধরনের কাজে ড্রোনের ব্যবহার শুরু করেছেন। আপাতত বিজিবি সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিকদেরও এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। প্রযুক্তির এই ব্যবহার সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নের কাজে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয়

উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে ভারত সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সিলেটে দেশের প্রথম সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন যুদ্ধ প্রশিক্ষণকেন্দ্রের যাত্রা শুরু

আপডেট : ০৫:৩৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের দুর্গম সীমান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে সিলেটে চালু হয়েছে দেশের প্রথম ‘সীমান্ত স্কুল অব সারভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উদ্বোধনের পর তিনি কেন্দ্রটির কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং ড্রোনের ব্যবহারিক মহড়া ও প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যেসব দুর্গম সীমান্ত এলাকায় জনবল দিয়ে সরাসরি নজরদারি চালানো কঠিন, সেখানে এখন থেকে ডিজিটাল নজরদারি, থার্মাল ইমেজিং ও নাইট ভিশন সুবিধাসম্পন্ন ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্তের ওপারে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার এবং মানব পাচারের মতো আন্তসীমান্ত অপরাধগুলোও কার্যকরভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রশিক্ষণকেন্দ্রটির গুরুত্ব তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এর মাধ্যমে ড্রোন ও ডিজিটাল নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হবে। ভবিষ্যতে সীমান্তের বর্ডার আউটপোস্ট, বিজিবি সদর দপ্তর এবং আঞ্চলিক কমান্ড পর্যায় থেকেও সীমান্ত পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হবে। এছাড়া বিজিবির জন্য দেশেই ড্রোন তৈরি ও সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এগুলো নিজেরাও এখানে অ্যাসেম্বল করছি, বানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে এটি আমাদের জন্য একটি ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।’

বর্তমানে প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বিশ্বের বিভিন্ন আধুনিক ড্রোন রাখা হয়েছে। সব ধরনের উন্নত ড্রোন এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব না হলেও আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে আরও উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু সীমান্ত সুরক্ষাই নয়, দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধারকাজেও ড্রোন ব্যবহার করা হবে। বিজিবি সদস্যরা ইতিমধ্যে এ ধরনের কাজে ড্রোনের ব্যবহার শুরু করেছেন। আপাতত বিজিবি সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিকদেরও এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। প্রযুক্তির এই ব্যবহার সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নের কাজে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।