Hi

১২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রীপুরে টিকটকে পিস্তলের ভয় দেখিয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন, পিস্তলসদৃশ লাইটারসহ স্বামী গ্রেপ্তার

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পিস্তল সদৃশ লাইটার প্রদর্শন করে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মো. ইমন (২৩) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ইমন শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ এলাকার দায়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত কিছুদিন ধরে অভিযুক্ত যুবক একটি টিকটক ভিডিও তৈরি করেন যেখানে তাঁকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করতে দেখা যায়। এই ভিডিওটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে। ভিডিওটি গাজীপুর জেলা পুলিশের সাইবার মনিটরিং টিমের নজরে আসার পর দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।নির্দেশনা পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ইমনের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে ভিডিওটিতে ব্যবহৃত পিস্তল সদৃশ বস্তুটির খোঁজ নেওয়া হয় এবং তা উদ্ধার করা হয়। তবে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার পর পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, ওই অস্ত্রটি কোনো আসল কিংবা সচল আগ্নেয়াস্ত্র নয়, বরং এটি একটি পিস্তলের আকারে তৈরি গ্যাস লাইটার। তদন্তে আরও জানা গেছে, এই নকল অস্ত্রটি কেবল টিকটকেই ব্যবহার করা হতো না, বরং ঘরের ভেতরে নিজের স্ত্রীর ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি এবং ভীতি প্রদর্শনের কাজেও এটি ব্যবহার করা হতো।পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অংকের যৌতুক দাবি করে আসছিলেন ইমন। যৌতুকের দাবি পূরণ না হওয়ায় তিনি তাঁর স্ত্রী মোছা. তাহমিনার (২২) ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। বিশেষ করে ওই নকল পিস্তল বা লাইটারটি দেখিয়ে তিনি স্ত্রীকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিতেন, যাতে ভয়ে তিনি পরিবারের কাছে কিছু বলতে না পারেন। এ ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেন। মামলায় যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম গণমাধ্যমকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অস্ত্র প্রদর্শন করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো এবং পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত যুবককে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ বাদীপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার করে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও অপরাধমূলক আচরণে জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজ ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সচেতন মহল পারিবারিক সহিংসতা ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয়

ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে এল ১০০ টন কাঁচা মরিচ: দু-এক দিনেই দাম কমার আশা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

শ্রীপুরে টিকটকে পিস্তলের ভয় দেখিয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন, পিস্তলসদৃশ লাইটারসহ স্বামী গ্রেপ্তার

আপডেট : ১০:২২:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পিস্তল সদৃশ লাইটার প্রদর্শন করে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মো. ইমন (২৩) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ইমন শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ এলাকার দায়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত কিছুদিন ধরে অভিযুক্ত যুবক একটি টিকটক ভিডিও তৈরি করেন যেখানে তাঁকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করতে দেখা যায়। এই ভিডিওটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে। ভিডিওটি গাজীপুর জেলা পুলিশের সাইবার মনিটরিং টিমের নজরে আসার পর দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।নির্দেশনা পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ইমনের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে ভিডিওটিতে ব্যবহৃত পিস্তল সদৃশ বস্তুটির খোঁজ নেওয়া হয় এবং তা উদ্ধার করা হয়। তবে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার পর পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, ওই অস্ত্রটি কোনো আসল কিংবা সচল আগ্নেয়াস্ত্র নয়, বরং এটি একটি পিস্তলের আকারে তৈরি গ্যাস লাইটার। তদন্তে আরও জানা গেছে, এই নকল অস্ত্রটি কেবল টিকটকেই ব্যবহার করা হতো না, বরং ঘরের ভেতরে নিজের স্ত্রীর ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি এবং ভীতি প্রদর্শনের কাজেও এটি ব্যবহার করা হতো।পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অংকের যৌতুক দাবি করে আসছিলেন ইমন। যৌতুকের দাবি পূরণ না হওয়ায় তিনি তাঁর স্ত্রী মোছা. তাহমিনার (২২) ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। বিশেষ করে ওই নকল পিস্তল বা লাইটারটি দেখিয়ে তিনি স্ত্রীকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিতেন, যাতে ভয়ে তিনি পরিবারের কাছে কিছু বলতে না পারেন। এ ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেন। মামলায় যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম গণমাধ্যমকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অস্ত্র প্রদর্শন করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো এবং পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত যুবককে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ বাদীপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার করে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও অপরাধমূলক আচরণে জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজ ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সচেতন মহল পারিবারিক সহিংসতা ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।