Hi

১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে মরক্কোর সাথে নতুন দিগন্তের সন্ধানে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও মরক্কো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে। গত বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মরক্কোর রাষ্ট্রদূত লাল্লা বুতাইনা এল কেরদৌদি এল কৌলালির এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে ভবিষ্যতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তৈরি পোশাক, ওষুধশিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, জাহাজ নির্মাণ এবং সামুদ্রিক খাতের মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলো। মরক্কোর রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন যে, আফ্রিকা ও ইউরোপের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে মরক্কো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কেন্দ্র বা ‘স্ট্র্যাটেজিক হাব’ হিসেবে কাজ করছে। এই ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও মরক্কো যৌথ বিনিয়োগ ও শিল্প উদ্যোগের মাধ্যমে উভয় দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তিকে মরক্কোর শ্রমবাজারে কাজে লাগানোর বিষয়েও তিনি দেশটির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক বা ‘পিপল-টু-পিপল কনট্যাক্ট’ আরও গভীর করার ওপর জোর দেন। তিনি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া বিনিময় কর্মসূচি বৃদ্ধির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সফর ও দ্বিপক্ষীয় সংলাপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। কূটনৈতিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের লক্ষ্যে পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সাথে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে অত্যন্ত আন্তরিক।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো ক্ষেত্রগুলোতেও দুই দেশ একসাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। বৈঠকে উপস্থিত নীতিনির্ধারকরা বিশ্বাস করেন, এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও মরক্কোর মধ্যকার বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। মরক্কোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদানের মধ্য দিয়ে এই বৈঠকের ইতি টানা হয়, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করতে পারে।

জনপ্রিয়

শিল্প ও একাডেমিয়ার মেলবন্ধনে ইউআইইউতে যাত্রা শুরু ‘নেক্সাস সেমিনার সিরিজ’

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে মরক্কোর সাথে নতুন দিগন্তের সন্ধানে বাংলাদেশ

আপডেট : ০৭:৪৪:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ ও মরক্কো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে। গত বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মরক্কোর রাষ্ট্রদূত লাল্লা বুতাইনা এল কেরদৌদি এল কৌলালির এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে ভবিষ্যতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তৈরি পোশাক, ওষুধশিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, জাহাজ নির্মাণ এবং সামুদ্রিক খাতের মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলো। মরক্কোর রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন যে, আফ্রিকা ও ইউরোপের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে মরক্কো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কেন্দ্র বা ‘স্ট্র্যাটেজিক হাব’ হিসেবে কাজ করছে। এই ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও মরক্কো যৌথ বিনিয়োগ ও শিল্প উদ্যোগের মাধ্যমে উভয় দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তিকে মরক্কোর শ্রমবাজারে কাজে লাগানোর বিষয়েও তিনি দেশটির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক বা ‘পিপল-টু-পিপল কনট্যাক্ট’ আরও গভীর করার ওপর জোর দেন। তিনি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া বিনিময় কর্মসূচি বৃদ্ধির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সফর ও দ্বিপক্ষীয় সংলাপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। কূটনৈতিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের লক্ষ্যে পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সাথে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে অত্যন্ত আন্তরিক।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো ক্ষেত্রগুলোতেও দুই দেশ একসাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। বৈঠকে উপস্থিত নীতিনির্ধারকরা বিশ্বাস করেন, এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও মরক্কোর মধ্যকার বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। মরক্কোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদানের মধ্য দিয়ে এই বৈঠকের ইতি টানা হয়, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করতে পারে।