Hi

১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তর আফ্রিকার বাজারে বাংলাদেশের ওয়ালটন: লিবিয়ায় বিক্রি হবে বাংলাদেশি ইলেকট্রনিক্স পণ্য

বিশ্বমঞ্চে দেশীয় প্রযুক্তির ঝান্ডা উড্ডীন করার ধারাবাহিকতায় উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার বাজারে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে দেশের ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন। আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের ব্র্যান্ড পরিধি বিস্তারের বৈশ্বিক লক্ষ্যের অংশ হিসেবে লিবিয়ার বিশিষ্ট ইলেকট্রনিক্স বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ‘আসর আল টেকনিয়া’র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। এই চুক্তির ফলে এখন থেকে উত্তর আফ্রিকার দেশটির ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বাজারে বাজারজাত করা হবে বাংলাদেশে তৈরি ওয়ালটনের নানা ধরনের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিপণ্য।

রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরায় অবস্থিত ওয়ালটনের করপোরেট কার্যালয়ে সম্প্রতি দুই প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই চুক্তি সই পর্ব সম্পন্ন হয়। চুক্তিতে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এডিএম) ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. জিয়াউল আলম। অন্যদিকে লিবিয়ার আসর আল টেকনিয়ার পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল সাদিক আল তাহির আল সগীর কারাহ। চুক্তি অনুযায়ী, লিবিয়ায় ওয়ালটন ব্র্যান্ডের প্রযুক্তিপণ্যের প্রধান পরিবেশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে আসর আল টেকনিয়া। এর আওতায় ওয়ালটনের বিশ্বমানের রেফ্রিজারেটর, টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিনসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক্স পণ্য লিবিয়ার গ্রাহকদের নিকট পৌঁছে দেওয়া হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ওয়ালটনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিদেশি প্রতিনিধি দলের সদস্যানুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ওয়ালটনের চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ, গ্লোবাল বিজনেস ডিভিশনের ডেপুটি হেড সাইয়েদ আল ইমরান এবং ওয়ালটনের লিবিয়া কান্ট্রি ম্যানেজার আবদুল লতিফ প্রামাণিক। এ সময় দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ এবং লিবিয়ার বাজারে ওয়ালটন পণ্যের বাজারজাতকরণ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পরিবেশক প্রতিষ্ঠান আসর আল টেকনিয়া লিবিয়ার বিস্তৃত বিক্রয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশটির ভোক্তাদের দোরগোড়ায় ওয়ালটন পণ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ওয়ালটনের সাম্প্রতিক সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ওয়ালটন গ্লোবাল বিজনেস ডিভিশনের প্রধান আবদুর রউফ বলেন, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, আকর্ষণীয় ডিজাইন, টেকসই স্থায়িত্ব এবং সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে বিশ্ববাজারে দিন দিন ওয়ালটন পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের ফলে বিশ্বের অন্যান্য গ্লোবাল ব্র্যান্ডের সাথে প্রতিযোগিতায় ওয়ালটন এগিয়ে রয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় নিত্যনতুন দেশের বাজারে আমাদের ব্র্যান্ড নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বিশ্বের অন্তত ১০০টি দেশে ওয়ালটন ব্র্যান্ডের উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার সর্বাত্মক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে, যার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ৫৫টিরও বেশি দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং লিবিয়া যুক্ত হওয়ায় উত্তর আফ্রিকার বাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।

বাংলাদেশের শিল্প খাতের জন্য এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তিকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তৈরি পোশাকের বাইরেও উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স খাতে বাংলাদেশের রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া দেশের সার্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। আফ্রিকান অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের এমন ধারাবাহিক প্রবেশ বৈশ্বিক বাজারজাতকরণে স্থানীয় শিল্পগ্রুপগুলোর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। লিবিয়ার বাজারে এই পদার্পণ ওয়ালটনের বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।

জনপ্রিয়

স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু: তেল ছাড়াই ঝটপট তৈরি করুন লেমন সয়ামিট রেসিপি

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

উত্তর আফ্রিকার বাজারে বাংলাদেশের ওয়ালটন: লিবিয়ায় বিক্রি হবে বাংলাদেশি ইলেকট্রনিক্স পণ্য

আপডেট : ০৬:২৩:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

বিশ্বমঞ্চে দেশীয় প্রযুক্তির ঝান্ডা উড্ডীন করার ধারাবাহিকতায় উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার বাজারে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে দেশের ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন। আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের ব্র্যান্ড পরিধি বিস্তারের বৈশ্বিক লক্ষ্যের অংশ হিসেবে লিবিয়ার বিশিষ্ট ইলেকট্রনিক্স বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ‘আসর আল টেকনিয়া’র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। এই চুক্তির ফলে এখন থেকে উত্তর আফ্রিকার দেশটির ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বাজারে বাজারজাত করা হবে বাংলাদেশে তৈরি ওয়ালটনের নানা ধরনের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিপণ্য।

রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরায় অবস্থিত ওয়ালটনের করপোরেট কার্যালয়ে সম্প্রতি দুই প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই চুক্তি সই পর্ব সম্পন্ন হয়। চুক্তিতে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এডিএম) ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. জিয়াউল আলম। অন্যদিকে লিবিয়ার আসর আল টেকনিয়ার পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল সাদিক আল তাহির আল সগীর কারাহ। চুক্তি অনুযায়ী, লিবিয়ায় ওয়ালটন ব্র্যান্ডের প্রযুক্তিপণ্যের প্রধান পরিবেশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে আসর আল টেকনিয়া। এর আওতায় ওয়ালটনের বিশ্বমানের রেফ্রিজারেটর, টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিনসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক্স পণ্য লিবিয়ার গ্রাহকদের নিকট পৌঁছে দেওয়া হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ওয়ালটনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিদেশি প্রতিনিধি দলের সদস্যানুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ওয়ালটনের চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ, গ্লোবাল বিজনেস ডিভিশনের ডেপুটি হেড সাইয়েদ আল ইমরান এবং ওয়ালটনের লিবিয়া কান্ট্রি ম্যানেজার আবদুল লতিফ প্রামাণিক। এ সময় দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ এবং লিবিয়ার বাজারে ওয়ালটন পণ্যের বাজারজাতকরণ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পরিবেশক প্রতিষ্ঠান আসর আল টেকনিয়া লিবিয়ার বিস্তৃত বিক্রয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশটির ভোক্তাদের দোরগোড়ায় ওয়ালটন পণ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ওয়ালটনের সাম্প্রতিক সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ওয়ালটন গ্লোবাল বিজনেস ডিভিশনের প্রধান আবদুর রউফ বলেন, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, আকর্ষণীয় ডিজাইন, টেকসই স্থায়িত্ব এবং সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে বিশ্ববাজারে দিন দিন ওয়ালটন পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের ফলে বিশ্বের অন্যান্য গ্লোবাল ব্র্যান্ডের সাথে প্রতিযোগিতায় ওয়ালটন এগিয়ে রয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় নিত্যনতুন দেশের বাজারে আমাদের ব্র্যান্ড নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বিশ্বের অন্তত ১০০টি দেশে ওয়ালটন ব্র্যান্ডের উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার সর্বাত্মক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে, যার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ৫৫টিরও বেশি দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং লিবিয়া যুক্ত হওয়ায় উত্তর আফ্রিকার বাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।

বাংলাদেশের শিল্প খাতের জন্য এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তিকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তৈরি পোশাকের বাইরেও উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স খাতে বাংলাদেশের রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া দেশের সার্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। আফ্রিকান অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের এমন ধারাবাহিক প্রবেশ বৈশ্বিক বাজারজাতকরণে স্থানীয় শিল্পগ্রুপগুলোর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। লিবিয়ার বাজারে এই পদার্পণ ওয়ালটনের বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।