মানুষের দীর্ঘদিনের সঙ্গী হিসেবে বিড়াল আজ বিশ্বজুড়ে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। রাজপ্রাসাদের বিলাসিতা থেকে শুরু করে সাধারণ গৃহস্থালির উষ্ণতায়—সবখানেই এই রহস্যময় প্রাণীর পদচারণা। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ ও ওয়ার্ল্ডোস্ট্যাটসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পোষা বিড়ালের সংখ্যায় ব্যাপক তারতম্য দেখা যায়। এই প্রাণীদের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, প্রাচীন বাণিজ্য পথ, নাবিকদের অভিযান এবং বিভিন্ন সভ্যতার বিস্তারের সঙ্গেই তারা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।
তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে বর্তমানে প্রায় ৭ কোটি ৪২ লাখ বিড়াল গৃহপালিত প্রাণী হিসেবে বসবাস করছে। সপ্তদশ শতাব্দীতে ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারীদের হাত ধরে আমেরিকায় বিড়ালের আগমন ঘটে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা চীনে পোষা বিড়ালের সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৩১ লাখ। ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে সিল্ক রোডের বাণিজ্যিক প্রসারের মাধ্যমেই সেখানে বিড়াল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তালিকার তৃতীয় অবস্থানে থাকা রাশিয়ায় বিড়ালের সংখ্যা ২ কোটি ৩১ লাখ, যারা মূলত প্রাচীন বাণিজ্য পথ ও বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের মাধ্যমে সেখানে পৌঁছায়।
ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি (১ কোটি ৫২ লাখ), ফ্রান্স (১ কোটি ৪৯ লাখ) এবং যুক্তরাজ্যে (১ কোটি ২২ লাখ) বিড়ালের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। জার্মানিতে রোমানদের হাত ধরে বিড়ালের আগমন ঘটেছিল মূলত ইঁদুর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনে, যা পরবর্তীতে শৌখিন পোষা প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়। একইভাবে ফ্রান্সের ‘শার্ত্রো’ বিড়াল আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। এছাড়া ব্রাজিল (১ কোটি ৩০ লাখ), ইতালি (১ কোটি ৫ লাখ), জাপান (৯৬ লাখ) এবং ইউক্রেনেও (৭৯ লাখ) বিপুল সংখ্যক বিড়াল মানুষের আশ্রয়ে লালিত-পালিত হচ্ছে। প্রতিটি দেশেই বিড়ালের আগমন ও বিবর্তনের পেছনে রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস—কখনো তা যুদ্ধের মাধ্যমে, আবার কখনো বাণিজ্যের পথ ধরে। এই প্রাণীরা কেবল গৃহপালিত প্রাণী নয়, বরং মানব সভ্যতার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে টিকে আছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি 






















