Hi

০২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণে দাপুটে সম্রাজ্ঞীরা

  • মীর আলাউদ্দিন
  • আপডেট : ০৬:০৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৮২ জন দেখেছে

সাম্প্রতিক মাদক বাণিজ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন নারীরা। দাপুটে সম্রাজ্ঞীরাই চালাচ্ছেন দেশের প্রায় ৫০ লাখের বেশি মাদক স্পট। তাদের নিয়ন্ত্রণে অন্তত দেড় কোটির বেশি মহিলা এখন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন। পুরো দেশের মধ্যে ঢাকা ও কক্সবাজার মাদক ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে নিরাপদ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হলেও তা এখন আর ঢাকা কক্সবাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

বর্তমানে অজ পাড়াগাঁ থেকে শুরু করে শহর সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে মাদকের কড়াল থাবা। আর এখন এই মাদক ব্যবসায় এগিয়ে যাচ্ছে নারীরা। রাতারাতি বড় লোক হবার সুযোগ থাকায় বেশির ভাগ নারীরাই এই ব্যবসায় নিজেদেরকে জড়িয়ে নিচ্ছে। নগরীর অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে সাধারণ এলাকাগুলোতে অসচ্ছল নারীদের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষিত নারীরাও এখন মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত হয়েছে। এদের অনেকেই আছেন যারা স্বামীর চাপে পড়ে কিংবা তার অবর্তমানে বা ভাগ্য ফেরানোর তাগিদে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায় খোদ রাজধানীতেই রয়েছে ৪০০টিরও বেশি মাদক সম্রাজ্ঞীর স্পট, তার মধ্যে বেশি সক্রিয় রয়েছে রমনায় ৪১টি, লালবাগে ৩৯টি, ওয়ারীতে ৫৩টি, মিরপুরে ১০৯টি, গুলশানে ৭৭টি, উত্তরায় ৭৬টি, মতিঝিলে ৩১টি, তেজগাঁওয়ে ৪৬টি। শরীয়তপরের রাজৈর উপজেলার মঠবাড়িয়ার আমগ্রামের রহিমা জীবন জীবিকার তাগিদে ঢাকায় এসে এক রেল লাইনের বস্তিতে থেকে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে তার ব্যাংকে কোটি কেটি টাকা করেছেন। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে গড়েছেন বিলাসবহুল অট্টালিকাসহ অর্ধশতাধিক বাড়ি ও প্লট। আর এরকম রহিমাদের দেখাদেখি অনেকেই এই পেশায় সক্রিয়ভাবে নেমেছেন। আর এসব মাদক সম্রাজ্ঞীদের ঠেকাতে বা নির্মূল করতে প্রশাসন বারবারই অপারগতার প্রমাণ দিয়ে আসছে। অতি দ্রুত ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ থাকায় নিজের পাশাপাশি স্বপরিবারেও নামছে মাদকের বাণিজ্যে। আর এই মাদকের বাণিজ্য একক নিয়ন্তণ করতে গড়ে তুলছে কিশোর গ্যাং বাহিনী আর তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে দেশি বিদেশী আগ্নেয় অস্ত্র। চলতি বছর পল্লবীর বাউনিয়াবাধসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় বেশ কয়েক রাউন্ড গোলাগুলি ও হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

অনেক আগে থেকেই ওই এলাকার ফর্মা রুবেল, পাতা সোহেল, মিনহাজ, চোরা স্বপনসহ অনেকে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের জন্য ভাষানটেক থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয় অস্ত্র নিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনায় নেমেছেন। ইতিমধ্যেই মিরপুর পল্লবী এলাকায় পাইকারী খুচরা মিলিয়ে প্রায় দুই হাজারের বেশি মাদক ব্যবসায়ী গজিয়ে উঠেছে। থেমে নেই পাইকারী পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ীদের সংখ্যাও। আগে গোটা পল্লবীতে মাত্র ৩০ জন পাইকারী পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ী থাকলেও এখন তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৩০ জন। ব্যবসা ভালো হবার সুবাধে একাধিক মাদক ব্যবসায়ীরা এখন স্বপরিবারে নেমেছে মাদক ব্যবসায়। র্সোসদের অভয়বানী, পুলিশের পরোক্ষ সহযোগীতা আর রাজনৈতিক নেতাদের পরোক্ষ মদদে পল্লবীতে উঠতি কিশোর মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যাও প্রায় হাজার খানেকের উপরে। ১৫/২০ জন সংঘ বদ্ধভাবে চলাফেরা করা এসব উঠতি কিশোরদের প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে দেশীয় অস্ত্র থেকে বিদেশী আগ্নেয় অস্ত্র।

মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণে দাপুটে সম্রাজ্ঞীরা

মাদক ব্যবসার নিরাপত্তার জন্য এসব কিশোরদের পক্ষ থেকে বাছাই করে বানানো হয় থানা পুলিশের সোর্স। একবেলা র্সোস অন্যবেলা খুচরা মাদক ব্যবসা করছেন নিশ্চিন্তে। মিরপুর এলাকায় অপ্রতিরোধ্য শাহজাদী যিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই মাদক বিকিকিনি করেন, আনোয়ারী তার নামে বারবার মামলা হলেও তাকে থামাতে পুলিশ ব্যর্থ, নাসিমা, হাওয়া খাতুন, শাহনিুর, বানু, মনি, মুন্নী, আমেনা, মনু, ময়না, সালমা, রহিমা, হাছিনা ও হাজেরা, পৃথিবী, সাথী আক্তার রিক্তা, মাহতাব।

টঙ্গীর পারুল, কেরানিরটেক বস্তির নাজমা, হাজী মাজার বস্তির লাইলী, যশোর বেনাপোল এলাকার লিলি, কুমিল্লা মুরাদনগরের রুবি, বুড়িচাং এলাকার রহিমা, রাজশাহী রাজপাড়া থানা এলাকার বুলবুলি, হাজরাপুকুর রেলওয়ে বস্তির শ্যামলী, বাগমারা তাহেরপুরের রোকসানা বেগম, চম্পা বেগম, রাঙামাটি কাপ্তায়ের ফুলবানু, মোহাম্মদপুরের ফারহানা আক্তার পাপিয়, সাবিনা আক্তার, রিনা বেগম, আসমা আক্তার ডালিয়া, ওয়ারীর লাবনী, দক্ষিণ বনশ্রীর জারিনা, ক্যান্টনমেন্্ট এলাকার সপ্না, তেজগাঁও এলাকা জোসনা বেগম, ফরিদপুর বোয়ালমারির বিন্দু মাসি, মুক্তি, লক্ষীপুর রেলওয়ে বস্তির শিল্পী, কুষ্টিয়া সদরের পারুল, চৌড়হাস ফুলতলা এলাকার কামীনি, কুমারখালীর উল্কা খাতুন. দৌলতপুর এলাকার রোকেয়া, শেফালী, চুয়াডাঙ্গার শিপ্রা, জীবননগরের মানোয়ারা মানু, মর্জিনা, আলডাঙ্গা স্টেশন পাড়ার মুন্নি, আলমতি, রাজবাড়ি গোয়ালন্দ এলাকার মৌসুমি, বরগুনা সদরের নিরু, ময়মনসিংহ ত্রিশালের মিনা, মুক্তা, নওগাঁ সদরের শ্রীমতি অর্চনা, মান্দা থানা এলাকার আদরী, লক্ষী রানী, মনি, ধামইরহাট এলাকার সাবিনা, সালমা খাতুন, ফাতেমা খাতুন, কুলসুম বেগম, নারায়ণগঞ্জের সাফাতুন বেগম, সিদ্ধিরগঞ্জের হেলেনা, সুমি, সোনারগাঁও এলাকার সবুজা ও তার মেয়ে লিপি, ফতুল্লার সেনিয়া, কুটি, নাইট পারভীন, চনপাড়ার ইয়াসমিন, সেলিনা আক্তার রিতা, মানিকগঞ্জের আকলিমা, সিংগাইরের হামিদা, মাদারীপুরের লাকি, গাজীপুরের পারুলী বেগম, চায়না বেগম, মধু বেগম, শেরপুরের রোকসানা, নীলফামারি ডোমার এলাকার রুপা, কিশোরগঞ্জের রুপালী বেগম, নেত্রোকোনা বারুইহাটার ললিতা, মোহনগঞ্জ থানা এলাকার মালা, চাঁদপুর মতলবের সুমি, কচুয়ার সাহেদা, গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়ার বন্যা, রংপুর মিঠাপুকুর এলাকার মনোয়ারা, নরসিংদীর মায়া খাতুন, পলাশ এলাকার অকিনা, বাগেরহাটের নওশীন পূরবী ডালিয়, সীতাকুন্ডে মিনু, জয়পুরহাটের শান্তা, আশুলিয়ায় দাদি, পটুয়াখালী গলাচিপার জাহানারা, সিলেটের তাওহীদা, হবিগঞ্জের সাবিনা, বগুড়ার হালিমা বেগম, আখিঁ, সান্তাহার এলাকার শুটকি বেগম, বরগুনা বামনার সালমা, ঢাকার লালবাগের আলোচিত মাদকসম্রাজ্ঞী মনোয়ারা আর ইসলামবাগের ছাফি’র মাদক সাম্রাজ্য বল্গাহীন, মুন্নি, টগর, তামান্না ও ময়ূরী, আনন্দবাজার বস্তির মাদক সম্রাজ্ঞী বানু, নিমতলী বস্তির সাবিনা ও পারুল, পাইন্যা সর্দারের বস্তির রেণু, গণকটুলীর মনোয়ারা, নাছিমা, শ্যামপুরের ফজিলা, রানী বেগম এবং পারুলী, শাহীনবাগের পারভীন, তেজকুনিপাড়ার সনি, হিরা, রাজেদা, হাজারীবাগের স্বপ্না, কলাবাগানের ফারহানা ইসলাম তুলি, চানখাঁরপুলের পারুল, বাড্ডার সুমি, রামপুরের সীমা, শাহজাহানপুরের মুক্তা ড্রাগ কুইন হিসেবে চিহ্নিত, মহাখালীর আলোচিত মাদকসম্রাজ্ঞী জাকিয়া ওরফে ইভা ও রওশন আরা বানু, বনানীর শীর্ষ মাদকসম্রাজ্ঞী আইরিন, কড়াইল বস্তির প্রধান মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত রিনা, জোসনা, বিউটি, গুলশানের মাদকসম্রাজ্ঞী মৌ, বারিধারার নাদিয়া, উত্তরার গুলবাহার ও মুক্তি, অন্যদিকে বারিধারা, গুলশান ও ডিওএইচএস এর মতো অভিজাত এলাকার মাদক ব্যবসায়ী জ্যোস্না, জবা, লিপি, রূপা, তানিয়া, শোভা, জয়া, মলি, বিউটি, রিতা, ন্যান্সি-কুমকুম, মনি ওরফে হাসি, কাওরানবাজারের মাদকসম্রাজ্ঞী সাহিদা, মাহমুদা, নীলা, জরিনা, মিনা ও কুট্টি, শ্যামপুরের ফজিলা, রানী বেগম ও পারুলী, শাহীনবাগের পারভীন, তেজকুনিপাড়ার সনি, হিরা, নাছিমা, সূত্রাপুর এলাকায় আনসারী বেগম, রহিমা বেগম, কালামের বউ, আঙ্গুরী, সায়েদাবাদ ব্রীজ এলাকায় ফেনসিডিল ও হেরোইন সম্রাজ্ঞী শাহজাদী, সায়েদাবাদ সিটি পল্লীর হোসনে আরা ও শাহনাজ, গোপীবাগের গোবেনপুরের দুই বোন আয়শা ও ম্যাগী, ডেমরা এলাকায় পারুল, খোদেজা, রাজিয়া, পারভীন, ফারজানা, মর্জিনা, রহিমা, সারুলিয়া এলাকার পুষ্প ও রুপা, তেজগাঁও এলাকার মাকসুদা, মাহফুজা, সালমা, নাছিমা ও সখিনা, চট্টগ্রামের বন্দর এলাকার আয়েশা আক্তার, টেকনাফের লেজিরপাড়া এলাকার রুজিনা আক্তার, বায়েজিদ থানা এলাকার মুক্তা, মুক্তার আপন মেয়ে আঁখি প্রকাশ ওরফে গাঁজা আঁখি, কর্ণফুলী দৌলতপুর এলাকার মুনজুরা, চান্দগাঁও থানা এলাকার বাড়ইপাড়ার সাদিয়া বেগম, চট্টগ্রামে গোয়ালপাড়ার আকলিমা তার নামে রয়েছে ১৮টির বেশি মামলা আছে এ পর্যন্ত জেলে গেছেন ২১ বার।

চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে গাঁজার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে সাহেদা নামে এক মাদ্রক সম্রাজ্ঞী আর ইয়াবার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে রিনা নামে এক মহিলা। নগরীর ছোটপুল এলাকার পারভীন আক্তার, জুলেখা, সানজিদা, রোজিনা,১২ বছরে ১৫ বার গ্রেফতার হওয়া আয়েশা, রাজিয়া, দেলোয়ারা, পারভীন ১২ বার মামলা খেয়েও থামেননি উল্টো তার সম্পদ বেড়েছে, ফাতেমা, পাখি, রহিমা, বীথি, রেহানা, খাদিজা, বেবি, ২১ মামলা মাথায় নিয়ে ৩০ বার জেলে গেছেন জুলেখা, ছোটপুল মুন্সিবাড়ির আবদুল গফুরের স্ত্রী বেবি আক্তার, পাঁচ মামলার আসামি আরেফিন নগরের মাহমুদা আক্তার মনিকা, টেকনাফের ফাতেমা বেগম ও হাবিবা খাতুন, রাশতী, সাদিয়া, ইকরা চৌধুরী, জোসনা, আকলিমা (২), জিডি নাতাশা, নেহা, পরী, ফারজানা, নাছিমা, মনোয়ারা, মারজান, হাবিবা, রেশমি, রোকসানা, সেলিনা, তাহমিনা, রোকছানা, যুঁথি, সীমা, জান্নাত, রিমা, হ্যাপি, কেয়া, দিলদার, ওয়াছ। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের অনন্তপুরের বাহার উদ্দিনের স্ত্রী মাহমুদ আক্তার, চার মামলার আসামি কুমিল্লার পাখি আক্তার, তিন মামলার আসামি রেশমি আক্তার, রাজিয়া বেগম ও মাহমুদা আক্তার মুনিয়া, কুমিল্লার বুড়িচংয়ের মেয়ে সোনিয়া, মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জের চাঁদনী, সাতকানিয়ার হোসনে আরা বেগম, লক্ষ্মীপুর সদরের শরীফের স্ত্রী খায়রুন্নেচ্ছা। সৈয়দপুরে বেবিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জিয়ানগর রেলবাগানের আলোচিত মাদক সম্রাজ্ঞী কারিমা, রেলস্টেশন বাগানপাড়ার সেলিনা বেগম আরামবাগের পারভিন, শান্তি মোড় মৃধাপাড়ার মর্জিনা, সাবিহা, পপি, ডলি, সাবিহা, পপি, মর্জিনা,নাইক্ষ্যংছড়ির শারমিন বড়–য়া, কোম্পানিগঞ্জের হোসনা বেগম, কাপ্তাইয়ের ফুলবানু, কুতুবদিয়ার গিতারানী,

মাদকের ‘খোলা হাট’ : রাজধানীর মিরপুরে গড়ে ওঠা খোলামেলা মাদক হাটটি বন্ধ হচ্ছে না কোনোভাবেই। অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর শীর্ষ পর্যায়ের পাঁচ মাদকসম্রাজ্ঞী শাহজাদী, শাহিনুর, আনোয়ারী, ফতে ও পৃথিবী মাদক আড়তদারি খুলে বসেছে। গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের খোলামেলা মাদক আড়তের রমরমা বাণিজ্য চললেও বাধা দেওয়ার যেন কেউ নেই। থানা পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ, স্থানীয় মাস্তান, নেতা থেকে শুরু করে মাদক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের বিভিন্ন স্তরে নিয়মিত মাসোয়ারা দিয়েই বহাল থাকছে তাদের আস্তানা। সেখানে একাধারে খুচরা ও পাইকারিভাবে হরদম মাদক কেনাবেচা চলে। ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাজা, হেরোইন কী নেই সেখানে? আছে বাংলা মদেরও ছড়াছড়ি। প্রতিদিন মিরপুর বস্তির আস্তানা থেকে কমবেশি ৭০ লক্ষাধিক টাকার মাদক কেনাবেচা চলে।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণে দাপুটে সম্রাজ্ঞীরা

আপডেট : ০৬:০৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

সাম্প্রতিক মাদক বাণিজ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন নারীরা। দাপুটে সম্রাজ্ঞীরাই চালাচ্ছেন দেশের প্রায় ৫০ লাখের বেশি মাদক স্পট। তাদের নিয়ন্ত্রণে অন্তত দেড় কোটির বেশি মহিলা এখন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন। পুরো দেশের মধ্যে ঢাকা ও কক্সবাজার মাদক ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে নিরাপদ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হলেও তা এখন আর ঢাকা কক্সবাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

বর্তমানে অজ পাড়াগাঁ থেকে শুরু করে শহর সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে মাদকের কড়াল থাবা। আর এখন এই মাদক ব্যবসায় এগিয়ে যাচ্ছে নারীরা। রাতারাতি বড় লোক হবার সুযোগ থাকায় বেশির ভাগ নারীরাই এই ব্যবসায় নিজেদেরকে জড়িয়ে নিচ্ছে। নগরীর অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে সাধারণ এলাকাগুলোতে অসচ্ছল নারীদের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষিত নারীরাও এখন মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত হয়েছে। এদের অনেকেই আছেন যারা স্বামীর চাপে পড়ে কিংবা তার অবর্তমানে বা ভাগ্য ফেরানোর তাগিদে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায় খোদ রাজধানীতেই রয়েছে ৪০০টিরও বেশি মাদক সম্রাজ্ঞীর স্পট, তার মধ্যে বেশি সক্রিয় রয়েছে রমনায় ৪১টি, লালবাগে ৩৯টি, ওয়ারীতে ৫৩টি, মিরপুরে ১০৯টি, গুলশানে ৭৭টি, উত্তরায় ৭৬টি, মতিঝিলে ৩১টি, তেজগাঁওয়ে ৪৬টি। শরীয়তপরের রাজৈর উপজেলার মঠবাড়িয়ার আমগ্রামের রহিমা জীবন জীবিকার তাগিদে ঢাকায় এসে এক রেল লাইনের বস্তিতে থেকে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে তার ব্যাংকে কোটি কেটি টাকা করেছেন। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে গড়েছেন বিলাসবহুল অট্টালিকাসহ অর্ধশতাধিক বাড়ি ও প্লট। আর এরকম রহিমাদের দেখাদেখি অনেকেই এই পেশায় সক্রিয়ভাবে নেমেছেন। আর এসব মাদক সম্রাজ্ঞীদের ঠেকাতে বা নির্মূল করতে প্রশাসন বারবারই অপারগতার প্রমাণ দিয়ে আসছে। অতি দ্রুত ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ থাকায় নিজের পাশাপাশি স্বপরিবারেও নামছে মাদকের বাণিজ্যে। আর এই মাদকের বাণিজ্য একক নিয়ন্তণ করতে গড়ে তুলছে কিশোর গ্যাং বাহিনী আর তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে দেশি বিদেশী আগ্নেয় অস্ত্র। চলতি বছর পল্লবীর বাউনিয়াবাধসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় বেশ কয়েক রাউন্ড গোলাগুলি ও হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

অনেক আগে থেকেই ওই এলাকার ফর্মা রুবেল, পাতা সোহেল, মিনহাজ, চোরা স্বপনসহ অনেকে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের জন্য ভাষানটেক থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয় অস্ত্র নিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনায় নেমেছেন। ইতিমধ্যেই মিরপুর পল্লবী এলাকায় পাইকারী খুচরা মিলিয়ে প্রায় দুই হাজারের বেশি মাদক ব্যবসায়ী গজিয়ে উঠেছে। থেমে নেই পাইকারী পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ীদের সংখ্যাও। আগে গোটা পল্লবীতে মাত্র ৩০ জন পাইকারী পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ী থাকলেও এখন তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৩০ জন। ব্যবসা ভালো হবার সুবাধে একাধিক মাদক ব্যবসায়ীরা এখন স্বপরিবারে নেমেছে মাদক ব্যবসায়। র্সোসদের অভয়বানী, পুলিশের পরোক্ষ সহযোগীতা আর রাজনৈতিক নেতাদের পরোক্ষ মদদে পল্লবীতে উঠতি কিশোর মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যাও প্রায় হাজার খানেকের উপরে। ১৫/২০ জন সংঘ বদ্ধভাবে চলাফেরা করা এসব উঠতি কিশোরদের প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে দেশীয় অস্ত্র থেকে বিদেশী আগ্নেয় অস্ত্র।

মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণে দাপুটে সম্রাজ্ঞীরা

মাদক ব্যবসার নিরাপত্তার জন্য এসব কিশোরদের পক্ষ থেকে বাছাই করে বানানো হয় থানা পুলিশের সোর্স। একবেলা র্সোস অন্যবেলা খুচরা মাদক ব্যবসা করছেন নিশ্চিন্তে। মিরপুর এলাকায় অপ্রতিরোধ্য শাহজাদী যিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই মাদক বিকিকিনি করেন, আনোয়ারী তার নামে বারবার মামলা হলেও তাকে থামাতে পুলিশ ব্যর্থ, নাসিমা, হাওয়া খাতুন, শাহনিুর, বানু, মনি, মুন্নী, আমেনা, মনু, ময়না, সালমা, রহিমা, হাছিনা ও হাজেরা, পৃথিবী, সাথী আক্তার রিক্তা, মাহতাব।

টঙ্গীর পারুল, কেরানিরটেক বস্তির নাজমা, হাজী মাজার বস্তির লাইলী, যশোর বেনাপোল এলাকার লিলি, কুমিল্লা মুরাদনগরের রুবি, বুড়িচাং এলাকার রহিমা, রাজশাহী রাজপাড়া থানা এলাকার বুলবুলি, হাজরাপুকুর রেলওয়ে বস্তির শ্যামলী, বাগমারা তাহেরপুরের রোকসানা বেগম, চম্পা বেগম, রাঙামাটি কাপ্তায়ের ফুলবানু, মোহাম্মদপুরের ফারহানা আক্তার পাপিয়, সাবিনা আক্তার, রিনা বেগম, আসমা আক্তার ডালিয়া, ওয়ারীর লাবনী, দক্ষিণ বনশ্রীর জারিনা, ক্যান্টনমেন্্ট এলাকার সপ্না, তেজগাঁও এলাকা জোসনা বেগম, ফরিদপুর বোয়ালমারির বিন্দু মাসি, মুক্তি, লক্ষীপুর রেলওয়ে বস্তির শিল্পী, কুষ্টিয়া সদরের পারুল, চৌড়হাস ফুলতলা এলাকার কামীনি, কুমারখালীর উল্কা খাতুন. দৌলতপুর এলাকার রোকেয়া, শেফালী, চুয়াডাঙ্গার শিপ্রা, জীবননগরের মানোয়ারা মানু, মর্জিনা, আলডাঙ্গা স্টেশন পাড়ার মুন্নি, আলমতি, রাজবাড়ি গোয়ালন্দ এলাকার মৌসুমি, বরগুনা সদরের নিরু, ময়মনসিংহ ত্রিশালের মিনা, মুক্তা, নওগাঁ সদরের শ্রীমতি অর্চনা, মান্দা থানা এলাকার আদরী, লক্ষী রানী, মনি, ধামইরহাট এলাকার সাবিনা, সালমা খাতুন, ফাতেমা খাতুন, কুলসুম বেগম, নারায়ণগঞ্জের সাফাতুন বেগম, সিদ্ধিরগঞ্জের হেলেনা, সুমি, সোনারগাঁও এলাকার সবুজা ও তার মেয়ে লিপি, ফতুল্লার সেনিয়া, কুটি, নাইট পারভীন, চনপাড়ার ইয়াসমিন, সেলিনা আক্তার রিতা, মানিকগঞ্জের আকলিমা, সিংগাইরের হামিদা, মাদারীপুরের লাকি, গাজীপুরের পারুলী বেগম, চায়না বেগম, মধু বেগম, শেরপুরের রোকসানা, নীলফামারি ডোমার এলাকার রুপা, কিশোরগঞ্জের রুপালী বেগম, নেত্রোকোনা বারুইহাটার ললিতা, মোহনগঞ্জ থানা এলাকার মালা, চাঁদপুর মতলবের সুমি, কচুয়ার সাহেদা, গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়ার বন্যা, রংপুর মিঠাপুকুর এলাকার মনোয়ারা, নরসিংদীর মায়া খাতুন, পলাশ এলাকার অকিনা, বাগেরহাটের নওশীন পূরবী ডালিয়, সীতাকুন্ডে মিনু, জয়পুরহাটের শান্তা, আশুলিয়ায় দাদি, পটুয়াখালী গলাচিপার জাহানারা, সিলেটের তাওহীদা, হবিগঞ্জের সাবিনা, বগুড়ার হালিমা বেগম, আখিঁ, সান্তাহার এলাকার শুটকি বেগম, বরগুনা বামনার সালমা, ঢাকার লালবাগের আলোচিত মাদকসম্রাজ্ঞী মনোয়ারা আর ইসলামবাগের ছাফি’র মাদক সাম্রাজ্য বল্গাহীন, মুন্নি, টগর, তামান্না ও ময়ূরী, আনন্দবাজার বস্তির মাদক সম্রাজ্ঞী বানু, নিমতলী বস্তির সাবিনা ও পারুল, পাইন্যা সর্দারের বস্তির রেণু, গণকটুলীর মনোয়ারা, নাছিমা, শ্যামপুরের ফজিলা, রানী বেগম এবং পারুলী, শাহীনবাগের পারভীন, তেজকুনিপাড়ার সনি, হিরা, রাজেদা, হাজারীবাগের স্বপ্না, কলাবাগানের ফারহানা ইসলাম তুলি, চানখাঁরপুলের পারুল, বাড্ডার সুমি, রামপুরের সীমা, শাহজাহানপুরের মুক্তা ড্রাগ কুইন হিসেবে চিহ্নিত, মহাখালীর আলোচিত মাদকসম্রাজ্ঞী জাকিয়া ওরফে ইভা ও রওশন আরা বানু, বনানীর শীর্ষ মাদকসম্রাজ্ঞী আইরিন, কড়াইল বস্তির প্রধান মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত রিনা, জোসনা, বিউটি, গুলশানের মাদকসম্রাজ্ঞী মৌ, বারিধারার নাদিয়া, উত্তরার গুলবাহার ও মুক্তি, অন্যদিকে বারিধারা, গুলশান ও ডিওএইচএস এর মতো অভিজাত এলাকার মাদক ব্যবসায়ী জ্যোস্না, জবা, লিপি, রূপা, তানিয়া, শোভা, জয়া, মলি, বিউটি, রিতা, ন্যান্সি-কুমকুম, মনি ওরফে হাসি, কাওরানবাজারের মাদকসম্রাজ্ঞী সাহিদা, মাহমুদা, নীলা, জরিনা, মিনা ও কুট্টি, শ্যামপুরের ফজিলা, রানী বেগম ও পারুলী, শাহীনবাগের পারভীন, তেজকুনিপাড়ার সনি, হিরা, নাছিমা, সূত্রাপুর এলাকায় আনসারী বেগম, রহিমা বেগম, কালামের বউ, আঙ্গুরী, সায়েদাবাদ ব্রীজ এলাকায় ফেনসিডিল ও হেরোইন সম্রাজ্ঞী শাহজাদী, সায়েদাবাদ সিটি পল্লীর হোসনে আরা ও শাহনাজ, গোপীবাগের গোবেনপুরের দুই বোন আয়শা ও ম্যাগী, ডেমরা এলাকায় পারুল, খোদেজা, রাজিয়া, পারভীন, ফারজানা, মর্জিনা, রহিমা, সারুলিয়া এলাকার পুষ্প ও রুপা, তেজগাঁও এলাকার মাকসুদা, মাহফুজা, সালমা, নাছিমা ও সখিনা, চট্টগ্রামের বন্দর এলাকার আয়েশা আক্তার, টেকনাফের লেজিরপাড়া এলাকার রুজিনা আক্তার, বায়েজিদ থানা এলাকার মুক্তা, মুক্তার আপন মেয়ে আঁখি প্রকাশ ওরফে গাঁজা আঁখি, কর্ণফুলী দৌলতপুর এলাকার মুনজুরা, চান্দগাঁও থানা এলাকার বাড়ইপাড়ার সাদিয়া বেগম, চট্টগ্রামে গোয়ালপাড়ার আকলিমা তার নামে রয়েছে ১৮টির বেশি মামলা আছে এ পর্যন্ত জেলে গেছেন ২১ বার।

চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে গাঁজার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে সাহেদা নামে এক মাদ্রক সম্রাজ্ঞী আর ইয়াবার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে রিনা নামে এক মহিলা। নগরীর ছোটপুল এলাকার পারভীন আক্তার, জুলেখা, সানজিদা, রোজিনা,১২ বছরে ১৫ বার গ্রেফতার হওয়া আয়েশা, রাজিয়া, দেলোয়ারা, পারভীন ১২ বার মামলা খেয়েও থামেননি উল্টো তার সম্পদ বেড়েছে, ফাতেমা, পাখি, রহিমা, বীথি, রেহানা, খাদিজা, বেবি, ২১ মামলা মাথায় নিয়ে ৩০ বার জেলে গেছেন জুলেখা, ছোটপুল মুন্সিবাড়ির আবদুল গফুরের স্ত্রী বেবি আক্তার, পাঁচ মামলার আসামি আরেফিন নগরের মাহমুদা আক্তার মনিকা, টেকনাফের ফাতেমা বেগম ও হাবিবা খাতুন, রাশতী, সাদিয়া, ইকরা চৌধুরী, জোসনা, আকলিমা (২), জিডি নাতাশা, নেহা, পরী, ফারজানা, নাছিমা, মনোয়ারা, মারজান, হাবিবা, রেশমি, রোকসানা, সেলিনা, তাহমিনা, রোকছানা, যুঁথি, সীমা, জান্নাত, রিমা, হ্যাপি, কেয়া, দিলদার, ওয়াছ। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের অনন্তপুরের বাহার উদ্দিনের স্ত্রী মাহমুদ আক্তার, চার মামলার আসামি কুমিল্লার পাখি আক্তার, তিন মামলার আসামি রেশমি আক্তার, রাজিয়া বেগম ও মাহমুদা আক্তার মুনিয়া, কুমিল্লার বুড়িচংয়ের মেয়ে সোনিয়া, মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জের চাঁদনী, সাতকানিয়ার হোসনে আরা বেগম, লক্ষ্মীপুর সদরের শরীফের স্ত্রী খায়রুন্নেচ্ছা। সৈয়দপুরে বেবিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জিয়ানগর রেলবাগানের আলোচিত মাদক সম্রাজ্ঞী কারিমা, রেলস্টেশন বাগানপাড়ার সেলিনা বেগম আরামবাগের পারভিন, শান্তি মোড় মৃধাপাড়ার মর্জিনা, সাবিহা, পপি, ডলি, সাবিহা, পপি, মর্জিনা,নাইক্ষ্যংছড়ির শারমিন বড়–য়া, কোম্পানিগঞ্জের হোসনা বেগম, কাপ্তাইয়ের ফুলবানু, কুতুবদিয়ার গিতারানী,

মাদকের ‘খোলা হাট’ : রাজধানীর মিরপুরে গড়ে ওঠা খোলামেলা মাদক হাটটি বন্ধ হচ্ছে না কোনোভাবেই। অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর শীর্ষ পর্যায়ের পাঁচ মাদকসম্রাজ্ঞী শাহজাদী, শাহিনুর, আনোয়ারী, ফতে ও পৃথিবী মাদক আড়তদারি খুলে বসেছে। গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের খোলামেলা মাদক আড়তের রমরমা বাণিজ্য চললেও বাধা দেওয়ার যেন কেউ নেই। থানা পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ, স্থানীয় মাস্তান, নেতা থেকে শুরু করে মাদক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের বিভিন্ন স্তরে নিয়মিত মাসোয়ারা দিয়েই বহাল থাকছে তাদের আস্তানা। সেখানে একাধারে খুচরা ও পাইকারিভাবে হরদম মাদক কেনাবেচা চলে। ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাজা, হেরোইন কী নেই সেখানে? আছে বাংলা মদেরও ছড়াছড়ি। প্রতিদিন মিরপুর বস্তির আস্তানা থেকে কমবেশি ৭০ লক্ষাধিক টাকার মাদক কেনাবেচা চলে।