Hi

০৩:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ নেতাকে প্রত্যয়ন দেওয়ায় সাটুরিয়ায় দুই বিএনপি নেতার

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় এক কারাবন্দী আওয়ামী লীগ নেতার জামিন নিশ্চিত করতে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় দুই নেতার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে। জেলা বিএনপির দলীয় প্যাডে প্রেরিত এক চিঠির মাধ্যমে রোববার এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা সোমবার সকালে সামনে আসে।

পদ স্থগিত হওয়া দুই নেতা হলেন সাটুরিয়ার বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ এবং একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন। দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে নীতিবিবর্জিত ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাদের পদ স্থগিতের কথা জানানো হয়।

এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশ্যে আসা একটি প্রত্যয়নপত্রে বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন এবং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আবদুল মান্নান যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন। ওই সনদে দাবি করা হয়, কারাবন্দী মুহাম্মদ রুহুল আমিন ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তিনি কখনোই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। একই সঙ্গে উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি বাবুল হোসেনের স্বাক্ষরিত পৃথক এক প্রত্যয়নপত্রে রুহুল আমিনকে ৫ আগস্টের সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিএনপির কর্মী বলে উল্লেখ করা হয়। ওই প্রত্যয়নপত্রে বলা হয়, রুহুল আমিন ও তাঁর পরিবার আগে থেকেই বিএনপির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং বিএনপির সব কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন।

তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিনের অনুমোদন দেওয়া বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটিতে রুহুল আমিনকে আইনবিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছিল এবং ওই কমিটি এখনো কার্যকর রয়েছে। পরে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, নাশকতার পরিকল্পনা ও অস্থিরতা তৈরির অভিযোগে গত ২২ সেপ্টেম্বর সাটুরিয়া থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং পরদিন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরতাজ আলম বাহার স্পষ্ট করে জানান, আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির জন্য ওই প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল, যার সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই দুই নেতার ওপর স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জনপ্রিয়

সবার জন্য নিরাপদ-টেকসই আবাসন নিশ্চিতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

আওয়ামী লীগ নেতাকে প্রত্যয়ন দেওয়ায় সাটুরিয়ায় দুই বিএনপি নেতার

আপডেট : ০১:১৭:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় এক কারাবন্দী আওয়ামী লীগ নেতার জামিন নিশ্চিত করতে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় দুই নেতার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে। জেলা বিএনপির দলীয় প্যাডে প্রেরিত এক চিঠির মাধ্যমে রোববার এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা সোমবার সকালে সামনে আসে।

পদ স্থগিত হওয়া দুই নেতা হলেন সাটুরিয়ার বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ এবং একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন। দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে নীতিবিবর্জিত ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাদের পদ স্থগিতের কথা জানানো হয়।

এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশ্যে আসা একটি প্রত্যয়নপত্রে বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন এবং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আবদুল মান্নান যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন। ওই সনদে দাবি করা হয়, কারাবন্দী মুহাম্মদ রুহুল আমিন ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তিনি কখনোই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। একই সঙ্গে উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি বাবুল হোসেনের স্বাক্ষরিত পৃথক এক প্রত্যয়নপত্রে রুহুল আমিনকে ৫ আগস্টের সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিএনপির কর্মী বলে উল্লেখ করা হয়। ওই প্রত্যয়নপত্রে বলা হয়, রুহুল আমিন ও তাঁর পরিবার আগে থেকেই বিএনপির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং বিএনপির সব কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন।

তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিনের অনুমোদন দেওয়া বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটিতে রুহুল আমিনকে আইনবিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছিল এবং ওই কমিটি এখনো কার্যকর রয়েছে। পরে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, নাশকতার পরিকল্পনা ও অস্থিরতা তৈরির অভিযোগে গত ২২ সেপ্টেম্বর সাটুরিয়া থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং পরদিন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরতাজ আলম বাহার স্পষ্ট করে জানান, আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির জন্য ওই প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল, যার সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই দুই নেতার ওপর স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।