Hi

০৪:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে সংস্কার ও অপপ্রচার রোধের আহ্বান ওলামা পরিষদের

মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তা দূর করার পাশাপাশি সময়ের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ওলামা পরিষদের নেতারা। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার রোধে করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ দাবি জানান। সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সদস্যসচিব মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া।

বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিকাশে মাদরাসা শিক্ষার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি মাদরাসা নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় পুরো শিক্ষাব্যবস্থা বা এর সংশ্লিষ্টদের ওপর চাপানো যৌক্তিক নয়। মাদরাসার নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখেই শিক্ষার্থীদের আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের মাদরাসা শিক্ষার অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, অপপ্রচার মোকাবিলায় কেবল প্রতিবাদ যথেষ্ট নয়, বরং আত্মসমালোচনা ও শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানো জরুরি। তিনি আরবি ভাষার পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। এছাড়া কোনো মাদরাসায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত তদন্তের জন্য হটলাইন ও পর্যবেক্ষণ সেল চালুর পাশাপাশি কওমি বোর্ডের অধীনে ফ্যাক্ট-চেকিং ইউনিট এবং আইনি সহায়তার জন্য প্যানেল গঠনের পরামর্শ দেন তিনি।

বৈঠকে বক্তারা কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানান। সরকারি চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বৈষম্য দূর করে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ ও পদায়নের দাবিও উত্থাপন করা হয়। পাশাপাশি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করে সেখানে আলেমদের নিয়োগ এবং শিক্ষার প্রতিটি স্তরে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার পরিধি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মাওলানা সাইফ উদ্দিন আহম্মদ খন্দকার। বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শায়খুল হাদিস শেখ আজিম উদ্দিন, ড. মাওলানা ঈশা শাহেদী, মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান, এহতেশামুল হক নোমানী, ড. মুহাম্মদ সারোয়ার হোসেন, শেখ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল, ড. মুস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল ও মুফতি আবদুল্লাহ ইয়াহিয়াসহ বিশিষ্ট আলেম, শিক্ষাবিদ ও ছাত্রনেতারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতীয় ওলামা পরিষদ এ বৈঠকের আয়োজন করে।

জনপ্রিয়

রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে সংস্কার ও অপপ্রচার রোধের আহ্বান ওলামা পরিষদের

আপডেট : ০৩:৩৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তা দূর করার পাশাপাশি সময়ের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ওলামা পরিষদের নেতারা। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার রোধে করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ দাবি জানান। সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সদস্যসচিব মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া।

বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিকাশে মাদরাসা শিক্ষার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি মাদরাসা নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় পুরো শিক্ষাব্যবস্থা বা এর সংশ্লিষ্টদের ওপর চাপানো যৌক্তিক নয়। মাদরাসার নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখেই শিক্ষার্থীদের আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের মাদরাসা শিক্ষার অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, অপপ্রচার মোকাবিলায় কেবল প্রতিবাদ যথেষ্ট নয়, বরং আত্মসমালোচনা ও শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানো জরুরি। তিনি আরবি ভাষার পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। এছাড়া কোনো মাদরাসায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত তদন্তের জন্য হটলাইন ও পর্যবেক্ষণ সেল চালুর পাশাপাশি কওমি বোর্ডের অধীনে ফ্যাক্ট-চেকিং ইউনিট এবং আইনি সহায়তার জন্য প্যানেল গঠনের পরামর্শ দেন তিনি।

বৈঠকে বক্তারা কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানান। সরকারি চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বৈষম্য দূর করে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ ও পদায়নের দাবিও উত্থাপন করা হয়। পাশাপাশি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করে সেখানে আলেমদের নিয়োগ এবং শিক্ষার প্রতিটি স্তরে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার পরিধি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মাওলানা সাইফ উদ্দিন আহম্মদ খন্দকার। বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শায়খুল হাদিস শেখ আজিম উদ্দিন, ড. মাওলানা ঈশা শাহেদী, মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান, এহতেশামুল হক নোমানী, ড. মুহাম্মদ সারোয়ার হোসেন, শেখ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল, ড. মুস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল ও মুফতি আবদুল্লাহ ইয়াহিয়াসহ বিশিষ্ট আলেম, শিক্ষাবিদ ও ছাত্রনেতারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতীয় ওলামা পরিষদ এ বৈঠকের আয়োজন করে।