Hi

০৩:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

র‍্যাব পরিচয়ে জবি ছাত্রীকে তুলে নেয়ার চেষ্টা, শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে উদ্ধার

রাজধানীর কলতাবাজার এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক ছাত্রীকে র‍্যাব পরিচয়ে গাড়িতে তুলে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-২০১৬ সেশনের ওই শিক্ষার্থীকে রোববার সকালে মেসে থাকা অবস্থায় জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রক্টরিয়াল টিমের সময়োচিত হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় মেসে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং সূত্রাপুর থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সেখানে উপস্থিত হন। র‍্যাব পরিচয়ে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে প্রথমে সন্দেহ তৈরি হলেও পরে সেখানে র‍্যাবের সদস্যরা আসেন। তবে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমের দৃঢ় অবস্থানে ওই শিক্ষার্থীকে তারা নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, ওই শিক্ষার্থীকে র‍্যাবের গাড়িতে তুলে ফেলা হয়েছে। প্রক্টর অফিস থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয় যে, কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। পুরো ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এর পেছনে কোনো অনিয়ম বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. তারেক বিন আতিক জানান, সকালে ওই শিক্ষার্থী তাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখেন, র‍্যাব পরিচয়ে আসা ব্যক্তিরা প্রথমে ভুল করে আসার কথা বললেও পরে চুরির মামলার আসামি ধরার দাবি করেন। অধ্যাপক তারেক বিন আতিক বলেন, মামলার বিস্তারিত তথ্য তাদের কাছে প্রকাশ করা হয়নি। তিনি ধারণা করছেন, ওই শিক্ষার্থীর বোনের সাবেক স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয় ও মোবাইল নম্বর জানতে চাইলেও তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

সূত্রাপুর থানার ওসি আনোয়ার জানান, বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে র‍্যাবের সদস্যরা একটি মামলার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীকে নিতে এসেছিল। পরবর্তীতে এটি একটি পারিবারিক বিরোধ সংক্রান্ত মামলা বলে জানা গেছে। ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়েই র‍্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। মামলার বিস্তারিত জানতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে ওসি আনোয়ার ব্যস্ততার কথা বলে আর কোনো মন্তব্য করেননি।

বর্তমানে ওই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনার পর থেকে মেসে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি।

জনপ্রিয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদী ভরাট: আহমেদ হাসপাতালের মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

র‍্যাব পরিচয়ে জবি ছাত্রীকে তুলে নেয়ার চেষ্টা, শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে উদ্ধার

আপডেট : ০২:৫১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর কলতাবাজার এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক ছাত্রীকে র‍্যাব পরিচয়ে গাড়িতে তুলে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-২০১৬ সেশনের ওই শিক্ষার্থীকে রোববার সকালে মেসে থাকা অবস্থায় জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রক্টরিয়াল টিমের সময়োচিত হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় মেসে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং সূত্রাপুর থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সেখানে উপস্থিত হন। র‍্যাব পরিচয়ে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে প্রথমে সন্দেহ তৈরি হলেও পরে সেখানে র‍্যাবের সদস্যরা আসেন। তবে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমের দৃঢ় অবস্থানে ওই শিক্ষার্থীকে তারা নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, ওই শিক্ষার্থীকে র‍্যাবের গাড়িতে তুলে ফেলা হয়েছে। প্রক্টর অফিস থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয় যে, কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। পুরো ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এর পেছনে কোনো অনিয়ম বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. তারেক বিন আতিক জানান, সকালে ওই শিক্ষার্থী তাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখেন, র‍্যাব পরিচয়ে আসা ব্যক্তিরা প্রথমে ভুল করে আসার কথা বললেও পরে চুরির মামলার আসামি ধরার দাবি করেন। অধ্যাপক তারেক বিন আতিক বলেন, মামলার বিস্তারিত তথ্য তাদের কাছে প্রকাশ করা হয়নি। তিনি ধারণা করছেন, ওই শিক্ষার্থীর বোনের সাবেক স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয় ও মোবাইল নম্বর জানতে চাইলেও তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

সূত্রাপুর থানার ওসি আনোয়ার জানান, বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে র‍্যাবের সদস্যরা একটি মামলার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীকে নিতে এসেছিল। পরবর্তীতে এটি একটি পারিবারিক বিরোধ সংক্রান্ত মামলা বলে জানা গেছে। ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়েই র‍্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। মামলার বিস্তারিত জানতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে ওসি আনোয়ার ব্যস্ততার কথা বলে আর কোনো মন্তব্য করেননি।

বর্তমানে ওই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনার পর থেকে মেসে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি।