Hi

০৮:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ পানির সংকট দূর করতে নতুন পিপিপি মডেলের যাত্রা

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৫:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১০ জন দেখেছে

চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট নিরসন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে একটি নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লু’তে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে পতেঙ্গা এলাকার ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি হেড অফ মিশন (বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান) ইয়ান ভ্যান ডার লিন্ডেনের উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তারিকুল ইসলাম এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের পানি ও জলবায়ু বিষয়ক প্রথম সচিব ইজে ক্রুজেন এই সমঝোতা স্মারকের সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড যৌথভাবে তিন বছর মেয়াদে এই পাইলট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। নেদারল্যান্ডস দূতাবাস এই উদ্যোগে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। অনুষ্ঠানে ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের পানি সরবরাহের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি তুলে ধরেন স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধি ইসরাফিল খসরু। অর্থমন্ত্রী জানান, জনগণের দোরগোড়ায় বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব এবং এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

অর্থনীতির নতুন ধারার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন আর সব দায়িত্ব সরকারের একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই সরকারি সেবার মান বাড়াতে পিপিপি মডেলের প্রয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পে শুধু পানি সরবরাহ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রামের বর্ষাকালীন জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়টিও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি জানান।

চলতি বছরের মে মাসে পরিচালিত একটি সমীক্ষার তথ্যানুযায়ী, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন বাসিন্দার নিরাপদ খাবার পানি পাওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ওই এলাকাগুলোর মাত্র ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়িতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পাইপলাইন সংযোগ রয়েছে। ফলে অধিকাংশ বাসিন্দাকে বাধ্য হয়ে ৮৫ থেকে ১১০টি বেসরকারি ভেন্ডরের কাছ থেকে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লিটার পানি কিনতে হয়, যার জন্য তাদের প্রতিদিন ২৫ থেকে ৫০ টাকা ব্যয় করতে হয়।

সমীক্ষায় আরও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে যে, ওই এলাকার ভূগর্ভস্থ পানি অত্যন্ত লবণাক্ত। পরীক্ষায় দেখা গেছে, সেখানে পানির লবণাক্ততার মাত্রা ৩ হাজার পিপিএম পর্যন্ত, যা জাতীয় নিরাপদ সীমার (১ হাজার পিপিএম) তুলনায় তিন গুণ বেশি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম ওয়াসা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে উদ্ভাবনী এই মডেলটি পরীক্ষা করবে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পানি সরবরাহ খাতের জন্য একটি নতুন দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘এইখানে কিন্তু পুরো প্যাকেজটা ওইভাবে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, চুক্তির আওতায় তিনটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জন্য একটি উদ্ভাবনী সরকারি-বেসরকারি পানি সরবরাহ মডেল অনুসন্ধান ও পরীক্ষা করবে, যার শুরু হবে কর্পোরেশনের ৪০ ও ৪১ ওয়ার্। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পতেঙ্গার দু’টি ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্প হিসেবে তার যাত্রা শুরু হলো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জনগণের সব মৌলিক চাহিদা পূরণের সরকার বদ্ধপরিকর, কিন্তু শুধু সরকার একা এটা করতে পারে না, এ জন্য পার্টনারশিপটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকারি সেবা সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা এই পার্টনারশিপটা সব জায়গায় অ্যাপ্লাই করছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমাদের পুরো অর্থনীতি মডেলে নতুন পদ্ধতি শুরু করেছি; আগে যেখানে ফাইন্যান্সিং শুধু লিমিটেড কিছু জায়গা থেকে হতো এখন তা আরও বিস্তৃত হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন আমরা লিমিটেড জায়গা থেকে সরে গিয়ে পিপিপি মডেলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের দিকে যাচ্ছি।

জনপ্রিয়

আজকের আলোচিত পাঁচ খবর: প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু ও অভিনেত্রীকে ধাক্কা দেওয়া চালক আটক

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ পানির সংকট দূর করতে নতুন পিপিপি মডেলের যাত্রা

আপডেট : ০৫:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট নিরসন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে একটি নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লু’তে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে পতেঙ্গা এলাকার ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি হেড অফ মিশন (বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান) ইয়ান ভ্যান ডার লিন্ডেনের উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তারিকুল ইসলাম এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের পানি ও জলবায়ু বিষয়ক প্রথম সচিব ইজে ক্রুজেন এই সমঝোতা স্মারকের সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড যৌথভাবে তিন বছর মেয়াদে এই পাইলট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। নেদারল্যান্ডস দূতাবাস এই উদ্যোগে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। অনুষ্ঠানে ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের পানি সরবরাহের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি তুলে ধরেন স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধি ইসরাফিল খসরু। অর্থমন্ত্রী জানান, জনগণের দোরগোড়ায় বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব এবং এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

অর্থনীতির নতুন ধারার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন আর সব দায়িত্ব সরকারের একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই সরকারি সেবার মান বাড়াতে পিপিপি মডেলের প্রয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পে শুধু পানি সরবরাহ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রামের বর্ষাকালীন জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়টিও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি জানান।

চলতি বছরের মে মাসে পরিচালিত একটি সমীক্ষার তথ্যানুযায়ী, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন বাসিন্দার নিরাপদ খাবার পানি পাওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ওই এলাকাগুলোর মাত্র ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়িতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পাইপলাইন সংযোগ রয়েছে। ফলে অধিকাংশ বাসিন্দাকে বাধ্য হয়ে ৮৫ থেকে ১১০টি বেসরকারি ভেন্ডরের কাছ থেকে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লিটার পানি কিনতে হয়, যার জন্য তাদের প্রতিদিন ২৫ থেকে ৫০ টাকা ব্যয় করতে হয়।

সমীক্ষায় আরও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে যে, ওই এলাকার ভূগর্ভস্থ পানি অত্যন্ত লবণাক্ত। পরীক্ষায় দেখা গেছে, সেখানে পানির লবণাক্ততার মাত্রা ৩ হাজার পিপিএম পর্যন্ত, যা জাতীয় নিরাপদ সীমার (১ হাজার পিপিএম) তুলনায় তিন গুণ বেশি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম ওয়াসা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে উদ্ভাবনী এই মডেলটি পরীক্ষা করবে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পানি সরবরাহ খাতের জন্য একটি নতুন দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘এইখানে কিন্তু পুরো প্যাকেজটা ওইভাবে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, চুক্তির আওতায় তিনটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জন্য একটি উদ্ভাবনী সরকারি-বেসরকারি পানি সরবরাহ মডেল অনুসন্ধান ও পরীক্ষা করবে, যার শুরু হবে কর্পোরেশনের ৪০ ও ৪১ ওয়ার্। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পতেঙ্গার দু’টি ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্প হিসেবে তার যাত্রা শুরু হলো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জনগণের সব মৌলিক চাহিদা পূরণের সরকার বদ্ধপরিকর, কিন্তু শুধু সরকার একা এটা করতে পারে না, এ জন্য পার্টনারশিপটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকারি সেবা সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা এই পার্টনারশিপটা সব জায়গায় অ্যাপ্লাই করছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমাদের পুরো অর্থনীতি মডেলে নতুন পদ্ধতি শুরু করেছি; আগে যেখানে ফাইন্যান্সিং শুধু লিমিটেড কিছু জায়গা থেকে হতো এখন তা আরও বিস্তৃত হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন আমরা লিমিটেড জায়গা থেকে সরে গিয়ে পিপিপি মডেলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের দিকে যাচ্ছি।