Hi

০৩:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাগুরায় টিএসপি ও ডিএপি সারের তীব্র সংকট, দুশ্চিন্তায় আমন চাষিরা

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১১:১৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ জন দেখেছে

মাগুরা জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও টিএসপি ও ডিএপি সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে ধানক্ষেতে সময়মতো সার প্রয়োগ করতে না পেরে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এবার প্রায় ৬২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে, যার বড় একটি অংশ সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নে অবস্থিত।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, ধানক্ষেতের উপরিপ্রয়োগের জন্য টিএসপি ও ডিএপি সার অত্যন্ত জরুরি হলেও ডিলারদের কাছে গিয়ে চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। মঘি গ্রামের কৃষক আশরাফুল মল্লিক ১০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। তিনি জানান, তার সার প্রয়োজন হলেও ডিলার মাত্র ১০ কেজি করে সার দিচ্ছেন, যা দিয়ে তার চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। একই ইউনিয়নের কুশবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন জানান, তার চার বস্তা টিএসপি সারের প্রয়োজন থাকলেও ডিলার তা দিতে পারেননি; তাকে আগামী সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।

সারের এই সংকটের বিষয়ে মঘি বাজারের বিসিআইসি ডিলার নিমাই পাল জানান, চলতি মাসে তিনি ২ হাজার ৮০০ বস্তা ইউরিয়া সার পেলেও টিএসপি পেয়েছেন মাত্র ১৫০ বস্তা, ডিএপি ২৭২ বস্তা এবং এমওপি ১৯৯ বস্তা। ইউরিয়ার তুলনায় ডিএপি ও টিএসপির চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় এবং বরাদ্দ কম থাকায় বাধ্য হয়ে কৃষকদের মাথাপিছু মাত্র ১০ কেজি করে সার দেওয়া হচ্ছে। ডিলার দাবি করেন, বিষয়টি স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা মেলেনি।

তবে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাজুল ইসলাম। তিনি জানান, জেলায় টিএসপি ও ডিএপি সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, অনেক সময় কৃষকরা প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সার ব্যবহার করেন, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, কোনো কৃষকের প্রকৃত প্রয়োজন থাকলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের জানালে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে, আমন চাষের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় চাষিরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোথাও ৫০ কেজির এক বস্তা প্রয়োজন হলেও কৃষকদের মাত্র ১০ কেজি করে সার দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় অনেক কৃষক প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে সমস্যায় পড়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু ডিলারের কাছ থেকে এখন পাচ্ছি না।

জনপ্রিয়

সাংবাদিকতায় নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিলেন আন্দালিব রহমান পার্থ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মাগুরায় টিএসপি ও ডিএপি সারের তীব্র সংকট, দুশ্চিন্তায় আমন চাষিরা

আপডেট : ১১:১৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাগুরা জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও টিএসপি ও ডিএপি সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে ধানক্ষেতে সময়মতো সার প্রয়োগ করতে না পেরে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এবার প্রায় ৬২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে, যার বড় একটি অংশ সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নে অবস্থিত।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, ধানক্ষেতের উপরিপ্রয়োগের জন্য টিএসপি ও ডিএপি সার অত্যন্ত জরুরি হলেও ডিলারদের কাছে গিয়ে চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। মঘি গ্রামের কৃষক আশরাফুল মল্লিক ১০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। তিনি জানান, তার সার প্রয়োজন হলেও ডিলার মাত্র ১০ কেজি করে সার দিচ্ছেন, যা দিয়ে তার চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। একই ইউনিয়নের কুশবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন জানান, তার চার বস্তা টিএসপি সারের প্রয়োজন থাকলেও ডিলার তা দিতে পারেননি; তাকে আগামী সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।

সারের এই সংকটের বিষয়ে মঘি বাজারের বিসিআইসি ডিলার নিমাই পাল জানান, চলতি মাসে তিনি ২ হাজার ৮০০ বস্তা ইউরিয়া সার পেলেও টিএসপি পেয়েছেন মাত্র ১৫০ বস্তা, ডিএপি ২৭২ বস্তা এবং এমওপি ১৯৯ বস্তা। ইউরিয়ার তুলনায় ডিএপি ও টিএসপির চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় এবং বরাদ্দ কম থাকায় বাধ্য হয়ে কৃষকদের মাথাপিছু মাত্র ১০ কেজি করে সার দেওয়া হচ্ছে। ডিলার দাবি করেন, বিষয়টি স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা মেলেনি।

তবে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাজুল ইসলাম। তিনি জানান, জেলায় টিএসপি ও ডিএপি সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, অনেক সময় কৃষকরা প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সার ব্যবহার করেন, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, কোনো কৃষকের প্রকৃত প্রয়োজন থাকলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের জানালে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে, আমন চাষের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় চাষিরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোথাও ৫০ কেজির এক বস্তা প্রয়োজন হলেও কৃষকদের মাত্র ১০ কেজি করে সার দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় অনেক কৃষক প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে সমস্যায় পড়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু ডিলারের কাছ থেকে এখন পাচ্ছি না।