Hi

০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাসর হলো না সাব্বির মিতুর, সড়কেই গেল প্রাণ

বাগেরহাটের রামপালে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-কনেসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী একটি স্টাফ বাস মোংলা দিক থেকে খুলনার দিকে যাচ্ছিল। একই সময় খুলনা থেকে মোংলাগামী একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মাইক্রোবাসটির সামনের অংশ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন এবং অনেকেই গুরুতর আহত হন।

জানা গেছে, মাইক্রোবাসটি খুলনার কয়রায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে মোংলায় ফিরছিল। এতে বর সাব্বির, কনে মার্জিয়া আক্তার মিতু, কনের বোন ও নানীসহ পরিবারের একাধিক সদস্য ছিলেন। দুর্ঘটনায় বর-কনে ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কয়েকজন নিহত হন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আ. রাজ্জাকও রয়েছেন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনার পর কয়েকজনকে হাসপাতালে আনা হয় এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত হাসপাতালে নয়জনের মরদেহ এসেছে। তাদের মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী ও দুইজন পুরুষ রয়েছেন। আরেকজন গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি ছিলেন, পরে তিনিও মারা যান।

পুলিশ জানায়, নিহতদের চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। বাকি নয়জনের মরদেহ রয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক কেএম হাসানুজ্জামান বলেন, নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা মাইক্রোবাসটির সঙ্গে বেলাই ব্রিজ এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

বাসর হলো না সাব্বির মিতুর, সড়কেই গেল প্রাণ

আপডেট : ০১:৪২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

বাগেরহাটের রামপালে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-কনেসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী একটি স্টাফ বাস মোংলা দিক থেকে খুলনার দিকে যাচ্ছিল। একই সময় খুলনা থেকে মোংলাগামী একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মাইক্রোবাসটির সামনের অংশ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন এবং অনেকেই গুরুতর আহত হন।

জানা গেছে, মাইক্রোবাসটি খুলনার কয়রায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে মোংলায় ফিরছিল। এতে বর সাব্বির, কনে মার্জিয়া আক্তার মিতু, কনের বোন ও নানীসহ পরিবারের একাধিক সদস্য ছিলেন। দুর্ঘটনায় বর-কনে ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কয়েকজন নিহত হন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আ. রাজ্জাকও রয়েছেন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনার পর কয়েকজনকে হাসপাতালে আনা হয় এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত হাসপাতালে নয়জনের মরদেহ এসেছে। তাদের মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী ও দুইজন পুরুষ রয়েছেন। আরেকজন গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি ছিলেন, পরে তিনিও মারা যান।

পুলিশ জানায়, নিহতদের চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। বাকি নয়জনের মরদেহ রয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক কেএম হাসানুজ্জামান বলেন, নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা মাইক্রোবাসটির সঙ্গে বেলাই ব্রিজ এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।