Hi

১২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিলামের দুয়ারে বিপিএল

দুই দিন পরই শুরু হতে যাচ্ছে এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) নিলাম। ৩০ নভেম্বর রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে অনুষ্ঠিত হবে ক্রিকেটার কেনাবেচার হাট। তবে মাঠে আসর শুরুর আগেই প্রশ্নের ঘন মেঘ কেটে যাচ্ছে না। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এখনও হাতে পাননি খেলোয়াড়দের চূড়ান্ত তালিকা, আর ব্যাংক গ্যারান্টির বিষয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার আহমেদ মিঠু সংবাদ সম্মেলনে জানান, এখন পর্যন্ত চারটি দল ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিয়েছে। তবে এসব দল কোনগুলো, তা প্রকাশ করা হয়নি। বৃহস্পতিবার শেষ হবে বাকি দুই দলের অর্থ জমা দেওয়ার সময়সীমা। তিনি উল্লেখ করেন, “৪টি দলের কাছ থেকে সব ঠিক আছে। অডিট ফার্মের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। চেক বাউন্স করলে বা টাকা না দিলে বিপিএল পিছিয়ে দেওয়া হবে। ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়া কোনো দল খেলতে পারবে না।

নিলামের আগে দলের স্কোয়াড গঠনের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে খেলোয়াড়দের গ্রেডিং বা তালিকা জানতে হয়। এবার সেই মৌলিক তথ্যও এখনও তাদের হাতে পৌঁছায়নি। সিলেট টাইটান্সের হেড কোচ সোহেল ইসলাম বলেন, “আমরা এখনও দেশি এবং বিদেশি ক্রিকেটারদের পূর্ণাঙ্গ লিস্ট পাইনি। ৩০ তারিখে ড্রাফট আমাদের জন্য আসলেই চ্যালেঞ্জিং। বাজেট হিসাব, পছন্দের খেলোয়াড়—সব মিলিয়ে পরিকল্পনা সাজানো কঠিন হয়ে গেছে।” রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হেড কোচ হান্নান সরকারও একই মত দিয়েছেন।

বিদেশি খেলোয়াড় নিয়েও শঙ্কা আছে। ৫০০-এর বেশি বিদেশি আবেদন করেছেন, যাদের মধ্যে ২৫০ জনকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হয়েছে। নিলামের আগে প্রতিটি দল সর্বনিম্ন একজন ও সর্বোচ্চ দুইজন বিদেশি ক্রিকেটার সরাসরি দলে নিতে পারবে। দেশে খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ দুইজনকে সরাসরি চুক্তি করার সুযোগ থাকবে। একাদশে সর্বনিম্ন দুই ও সর্বোচ্চ চারজন বিদেশি থাকতে পারবে।

এবারের বিপিএলে অংশ নিচ্ছে ছয়টি দল—রংপুর রাইডার্স, ঢাকা ক্যাপিটালস, সিলেট টাইটান্স, চট্টগ্রাম রয়্যালস, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স এবং নবাগত নোয়াখালী এক্সপ্রেস। শুরুর আগে প্রতিটি দল দুজন দেশি ও দুজন বিদেশি ক্রিকেটারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করতে পারবে। টুর্নামেন্ট শুরু হবে ১৯ ডিসেম্বর, ফাইনাল ম্যাচ ১৯ জানুয়ারি, আর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১৭ ডিসেম্বর ঢাকায়।

ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে পরিবর্তন এসেছে। শুরুর দিকে তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পেয়েছিল আইএমজি, এবার সরাসরি তাদের সঙ্গে কাজ হচ্ছে না। প্রোডাকশনের দায়িত্ব পেয়েছে পাকিস্তানের ট্রান্স প্রোডাকশন এন্ড টেকনোলজিস (টিপিটি), যাদের সঙ্গে চুক্তি করে বিসিবি প্রায় ৬ কোটি টাকা সাশ্রয় করবে।

নিলাম, দল গঠন ও আর্থিক নিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে এবারের বিপিএল আয়োজনকে কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছেন কর্মকর্তারা। মিঠু বলেন, “এটা নিঃসন্দেহে কঠিন কাজ। যদি সবকিছু ঠিকঠাক হয়, ভালো একটি আসর আয়োজন সম্ভব। দেশের একটি নাম এই টুর্নামেন্ট, তাই সবাইকে নিয়ে চেষ্টা করছি।

সব অনিশ্চয়তার মাঝেও স্পষ্ট একটি বিষয়—বিপিএল মাঠে গড়াবে নিজস্ব নিয়মেই। দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারদের স্বচ্ছভাবে বাছাই, ব্যাংক গ্যারান্টি যাচাই, আর মাঠের ভেতর-বাইরে সতর্ক নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

নিলামের দুয়ারে বিপিএল

আপডেট : ১১:০৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

দুই দিন পরই শুরু হতে যাচ্ছে এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) নিলাম। ৩০ নভেম্বর রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে অনুষ্ঠিত হবে ক্রিকেটার কেনাবেচার হাট। তবে মাঠে আসর শুরুর আগেই প্রশ্নের ঘন মেঘ কেটে যাচ্ছে না। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এখনও হাতে পাননি খেলোয়াড়দের চূড়ান্ত তালিকা, আর ব্যাংক গ্যারান্টির বিষয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার আহমেদ মিঠু সংবাদ সম্মেলনে জানান, এখন পর্যন্ত চারটি দল ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিয়েছে। তবে এসব দল কোনগুলো, তা প্রকাশ করা হয়নি। বৃহস্পতিবার শেষ হবে বাকি দুই দলের অর্থ জমা দেওয়ার সময়সীমা। তিনি উল্লেখ করেন, “৪টি দলের কাছ থেকে সব ঠিক আছে। অডিট ফার্মের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। চেক বাউন্স করলে বা টাকা না দিলে বিপিএল পিছিয়ে দেওয়া হবে। ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়া কোনো দল খেলতে পারবে না।

নিলামের আগে দলের স্কোয়াড গঠনের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে খেলোয়াড়দের গ্রেডিং বা তালিকা জানতে হয়। এবার সেই মৌলিক তথ্যও এখনও তাদের হাতে পৌঁছায়নি। সিলেট টাইটান্সের হেড কোচ সোহেল ইসলাম বলেন, “আমরা এখনও দেশি এবং বিদেশি ক্রিকেটারদের পূর্ণাঙ্গ লিস্ট পাইনি। ৩০ তারিখে ড্রাফট আমাদের জন্য আসলেই চ্যালেঞ্জিং। বাজেট হিসাব, পছন্দের খেলোয়াড়—সব মিলিয়ে পরিকল্পনা সাজানো কঠিন হয়ে গেছে।” রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হেড কোচ হান্নান সরকারও একই মত দিয়েছেন।

বিদেশি খেলোয়াড় নিয়েও শঙ্কা আছে। ৫০০-এর বেশি বিদেশি আবেদন করেছেন, যাদের মধ্যে ২৫০ জনকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হয়েছে। নিলামের আগে প্রতিটি দল সর্বনিম্ন একজন ও সর্বোচ্চ দুইজন বিদেশি ক্রিকেটার সরাসরি দলে নিতে পারবে। দেশে খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ দুইজনকে সরাসরি চুক্তি করার সুযোগ থাকবে। একাদশে সর্বনিম্ন দুই ও সর্বোচ্চ চারজন বিদেশি থাকতে পারবে।

এবারের বিপিএলে অংশ নিচ্ছে ছয়টি দল—রংপুর রাইডার্স, ঢাকা ক্যাপিটালস, সিলেট টাইটান্স, চট্টগ্রাম রয়্যালস, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স এবং নবাগত নোয়াখালী এক্সপ্রেস। শুরুর আগে প্রতিটি দল দুজন দেশি ও দুজন বিদেশি ক্রিকেটারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করতে পারবে। টুর্নামেন্ট শুরু হবে ১৯ ডিসেম্বর, ফাইনাল ম্যাচ ১৯ জানুয়ারি, আর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১৭ ডিসেম্বর ঢাকায়।

ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে পরিবর্তন এসেছে। শুরুর দিকে তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পেয়েছিল আইএমজি, এবার সরাসরি তাদের সঙ্গে কাজ হচ্ছে না। প্রোডাকশনের দায়িত্ব পেয়েছে পাকিস্তানের ট্রান্স প্রোডাকশন এন্ড টেকনোলজিস (টিপিটি), যাদের সঙ্গে চুক্তি করে বিসিবি প্রায় ৬ কোটি টাকা সাশ্রয় করবে।

নিলাম, দল গঠন ও আর্থিক নিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে এবারের বিপিএল আয়োজনকে কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছেন কর্মকর্তারা। মিঠু বলেন, “এটা নিঃসন্দেহে কঠিন কাজ। যদি সবকিছু ঠিকঠাক হয়, ভালো একটি আসর আয়োজন সম্ভব। দেশের একটি নাম এই টুর্নামেন্ট, তাই সবাইকে নিয়ে চেষ্টা করছি।

সব অনিশ্চয়তার মাঝেও স্পষ্ট একটি বিষয়—বিপিএল মাঠে গড়াবে নিজস্ব নিয়মেই। দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারদের স্বচ্ছভাবে বাছাই, ব্যাংক গ্যারান্টি যাচাই, আর মাঠের ভেতর-বাইরে সতর্ক নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।