Hi

০২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বক্তব্য প্রচার করলে কঠোর ব্যবস্থা

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দণ্ডিত আসামিদের বক্তব্য প্রচার না করার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) কার্যালয়ের সরকারি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিবৃতি প্রচার দেশের সার্বিক নিরাপত্তা বিপন্ন করছে এবং এই প্রচার বন্ধ না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ে বলা হয়, তিন আসামির অপরাধ প্রমাণিত। এই রায় ঘোষণার পরের দিনই ডিজিটাল মাধ্যমে দণ্ডিতদের বক্তব্য ছড়ানোর ঘটনায় সরকারি সতর্কতা আসে।

ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি দেশের বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা, উস্কানিমূলক এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থার মতে, এসব বক্তব্য জনশৃঙ্খলা ব্যাহত করছে, সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে এবং একাধিক জায়গায় সহিংসতার উদ্বেগ তৈরি করছে।

এনসিএসএ বলেছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামির বিবৃতি প্রচার করা বিচার বিভাগের প্রতি অবমাননাকর। তাদের ভাষায় এসব কনটেন্টে সরাসরি সহিংসতার আহ্বান রয়েছে, যা বিশৃঙ্খলা, অগ্নিসন্ত্রাস এবং অন্যান্য অপরাধে উৎসাহ দিচ্ছে। সংস্থাটি মনে করে, ডিজিটাল অপব্যবহার রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর বিধান তুলে ধরে এনসিএসএ জানায়, এই আইনের অতিরাষ্ট্রিক প্রয়োগের কারণে দেশের বাইরে থেকেও বাংলাদেশের নাগরিক যদি অপরাধমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট প্রচার করেন, তা বাংলাদেশেই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অধ্যাদেশের ২৬ ধারা অনুযায়ী ঘৃণামূলক বা সহিংসতা-উদ্বুদ্ধ বক্তব্য প্রচারের দায়ে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

সংস্থাটি আরও জানায়, তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে কোনো কনটেন্ট দেশের অখণ্ডতা বা জননিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে হলে তা অপসারণ বা ব্লক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরাসরি পদক্ষেপ নেবে। প্রয়োজনে বিটিআরসিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ পাঠানো হবে। মিডিয়া আউটলেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের তাই সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, দণ্ডিতদের বক্তব্য প্রচার বন্ধ না করলে আইন অনুযায়ী দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নতুন সতর্কতার মাধ্যমে সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সাম্প্রতিক রায়কে কেন্দ্র করে যেকোনো ডিজিটাল বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

বক্তব্য প্রচার করলে কঠোর ব্যবস্থা

আপডেট : ১১:৪১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দণ্ডিত আসামিদের বক্তব্য প্রচার না করার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) কার্যালয়ের সরকারি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিবৃতি প্রচার দেশের সার্বিক নিরাপত্তা বিপন্ন করছে এবং এই প্রচার বন্ধ না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ে বলা হয়, তিন আসামির অপরাধ প্রমাণিত। এই রায় ঘোষণার পরের দিনই ডিজিটাল মাধ্যমে দণ্ডিতদের বক্তব্য ছড়ানোর ঘটনায় সরকারি সতর্কতা আসে।

ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি দেশের বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা, উস্কানিমূলক এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থার মতে, এসব বক্তব্য জনশৃঙ্খলা ব্যাহত করছে, সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে এবং একাধিক জায়গায় সহিংসতার উদ্বেগ তৈরি করছে।

এনসিএসএ বলেছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামির বিবৃতি প্রচার করা বিচার বিভাগের প্রতি অবমাননাকর। তাদের ভাষায় এসব কনটেন্টে সরাসরি সহিংসতার আহ্বান রয়েছে, যা বিশৃঙ্খলা, অগ্নিসন্ত্রাস এবং অন্যান্য অপরাধে উৎসাহ দিচ্ছে। সংস্থাটি মনে করে, ডিজিটাল অপব্যবহার রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর বিধান তুলে ধরে এনসিএসএ জানায়, এই আইনের অতিরাষ্ট্রিক প্রয়োগের কারণে দেশের বাইরে থেকেও বাংলাদেশের নাগরিক যদি অপরাধমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট প্রচার করেন, তা বাংলাদেশেই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অধ্যাদেশের ২৬ ধারা অনুযায়ী ঘৃণামূলক বা সহিংসতা-উদ্বুদ্ধ বক্তব্য প্রচারের দায়ে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

সংস্থাটি আরও জানায়, তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে কোনো কনটেন্ট দেশের অখণ্ডতা বা জননিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে হলে তা অপসারণ বা ব্লক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরাসরি পদক্ষেপ নেবে। প্রয়োজনে বিটিআরসিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ পাঠানো হবে। মিডিয়া আউটলেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের তাই সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, দণ্ডিতদের বক্তব্য প্রচার বন্ধ না করলে আইন অনুযায়ী দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নতুন সতর্কতার মাধ্যমে সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সাম্প্রতিক রায়কে কেন্দ্র করে যেকোনো ডিজিটাল বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।