জুলাই জাতীয় সনদে উল্লেখিত সিদ্ধান্তের বাইরে সরকার কোনো উদ্যোগ নিলে সনদে স্বাক্ষরকারী কোনো রাজনৈতিক দল তা মানতে বাধ্য থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, এমন কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলে তার দায় পুরোপুরি সরকারের ওপরই বর্তাবে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. আবদুল মঈন খান ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
ড. মোশাররফ বলেন, বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট— জুলাই জাতীয় সনদে যা উল্লেখ আছে, সেটিই হবে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তি। এর বাইরে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলে তা কোনো দলকে মানতে বাধ্য করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, “আমরা সরকারকে সতর্ক করছি, এমন কিছু ঘটলে এর পূর্ণ দায় সরকারকেই নিতে হবে। আমরা আশা করি সরকার দায়িত্বশীল আচরণ করবে এবং ঐকমত্যের বাইরে কোনো উদ্যোগ নেবে না।
তিনি জানান, সোমবার (১০ নভেম্বর) রাতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার পর এই প্রস্তাব গৃহীত হয়। সেই সিদ্ধান্তই জানাতে মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বিএনপি নেতা বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রায় এক বছরের আলোচনার ভিত্তিতে জুলাই সনদ তৈরি ও ১৭ অক্টোবর তা স্বাক্ষরিত হয়। এতে কিছু দলের নোট অব ডিসেন্ট থাকলেও সবাই সংবিধান ও আইনের আলোকে সনদের বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের কিছু উপদেষ্টা ও মন্ত্রী সনদের বাইরে সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, যা বিভ্রান্তিকর এবং ঐকমত্যকে উপেক্ষা করার শামিল।
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সনদের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে স্বাক্ষরকারী দলগুলো তা মানতে বাধ্য নয়। এতে বিভিন্ন দলের কিছু নোট অফ ডিসেন্ট আছে, কিন্তু সেগুলোও সনদের মূল কাঠামোর মধ্যেই রয়েছে। এখন কেউ যদি নতুন ইস্যু তৈরি করে সেটাকে চাপিয়ে দিতে চায়, সেটা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, “কোনো প্রজ্ঞাপনকে সরকার যদি আদেশ হিসেবে নাম দিতে চায়, সেটার আইনি মর্যাদা থাকবে না। প্রজ্ঞাপন কেবল সরকার প্রকাশ করতে পারে, কিন্তু তা আইন নয়।
বিএনপির নেতারা একযোগে বলেন, জাতীয় সনদের বাইরে সিদ্ধান্ত নিলে সেটা হবে সংলাপের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় ঐকমত্যের পরিপন্থী এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
নিজস্ব প্রতিনিধি 













