Hi

০৪:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পর্ন তারকা আজিম ও বৃষ্টি ৫ দিনের রিমান্ডে

বাংলাদেশে আলোচনায় আসা ‘পর্ন তারকা’ যুগল মুহাম্মদ আজিম ও বৃষ্টিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা পল্টন থানার পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সাইবার বিভাগের উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন। তিনি বলেন, “আসামিরা অশ্লীল ভিডিও নির্মাণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে উঠতি বয়সী তরুণদের বিপথে নিচ্ছেন। কারও ইন্ধন আছে কি না, তা জানতে তাদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

আসামিদের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

রোববার (১৯ অক্টোবর) রাতে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি বাসস্টেশন সংলগ্ন হাজীপাড়া এলাকার ছয়তলা একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে আজিম ও বৃষ্টিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, সিমকার্ড, ক্যামেরা, ট্রাইপডসহ পর্ন ভিডিও তৈরির সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১৫ দিন আগে তারা বান্দরবান এসে ফল ব্যবসা করার কথা বলে ওই ফ্ল্যাটে উঠেছিলেন। স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের তেমন যোগাযোগ ছিল না এবং তারা খুব কমই বাসা থেকে বাইরে যেতেন।

সিআইডি বলছে, এই যুগল কেবল নিজেরাই পর্ন ভিডিও তৈরি করতেন না, অন্যদেরও এ কাজে সম্পৃক্ত করতেন। ২০২৪ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক এক প্ল্যাটফর্মে তাদের প্রথম ভিডিও প্রকাশিত হয়। গত এক বছরে তাদের ১১২টি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে, যা ২ কোটি ৬৭ লাখ বারেরও বেশি দেখা হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, তারা একাধিক আন্তর্জাতিক পর্ন সাইটে সক্রিয় ছিলেন এবং পাশাপাশি টেলিগ্রাম, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করে নিজেদের প্রচার চালাতেন। তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে কয়েক হাজার সদস্য ছিল, যেখানে নতুন ভিডিওর লিংক ও আয়ের তথ্য শেয়ার করতেন তারা।

সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা এই যুগল প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করতে না পারলেও অনলাইনে বিলাসবহুল জীবনযাপনের ছবি প্রকাশ করতেন। বিষয়টি সামাজিক ও নৈতিকভাবে উদ্বেগজনক হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পরে সাইবার তদন্ত বিভাগের ইন্সপেক্টর শামীম হোসেন বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় তাদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

পর্ন তারকা আজিম ও বৃষ্টি ৫ দিনের রিমান্ডে

আপডেট : ১১:৪৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশে আলোচনায় আসা ‘পর্ন তারকা’ যুগল মুহাম্মদ আজিম ও বৃষ্টিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা পল্টন থানার পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সাইবার বিভাগের উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন। তিনি বলেন, “আসামিরা অশ্লীল ভিডিও নির্মাণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে উঠতি বয়সী তরুণদের বিপথে নিচ্ছেন। কারও ইন্ধন আছে কি না, তা জানতে তাদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

আসামিদের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

রোববার (১৯ অক্টোবর) রাতে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি বাসস্টেশন সংলগ্ন হাজীপাড়া এলাকার ছয়তলা একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে আজিম ও বৃষ্টিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, সিমকার্ড, ক্যামেরা, ট্রাইপডসহ পর্ন ভিডিও তৈরির সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১৫ দিন আগে তারা বান্দরবান এসে ফল ব্যবসা করার কথা বলে ওই ফ্ল্যাটে উঠেছিলেন। স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের তেমন যোগাযোগ ছিল না এবং তারা খুব কমই বাসা থেকে বাইরে যেতেন।

সিআইডি বলছে, এই যুগল কেবল নিজেরাই পর্ন ভিডিও তৈরি করতেন না, অন্যদেরও এ কাজে সম্পৃক্ত করতেন। ২০২৪ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক এক প্ল্যাটফর্মে তাদের প্রথম ভিডিও প্রকাশিত হয়। গত এক বছরে তাদের ১১২টি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে, যা ২ কোটি ৬৭ লাখ বারেরও বেশি দেখা হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, তারা একাধিক আন্তর্জাতিক পর্ন সাইটে সক্রিয় ছিলেন এবং পাশাপাশি টেলিগ্রাম, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করে নিজেদের প্রচার চালাতেন। তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে কয়েক হাজার সদস্য ছিল, যেখানে নতুন ভিডিওর লিংক ও আয়ের তথ্য শেয়ার করতেন তারা।

সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা এই যুগল প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করতে না পারলেও অনলাইনে বিলাসবহুল জীবনযাপনের ছবি প্রকাশ করতেন। বিষয়টি সামাজিক ও নৈতিকভাবে উদ্বেগজনক হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পরে সাইবার তদন্ত বিভাগের ইন্সপেক্টর শামীম হোসেন বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় তাদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।