Hi

০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে: তারেক রহমান

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে এক অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই বৈঠকে দুই নেতা গণতন্ত্র, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার বিষয়ে অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়।

জাপান সফরকে নিজের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সফর দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তিনি তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মরহুমা মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে জানান, তাদের প্রতিষ্ঠিত সম্পর্কের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। এই অংশীদারত্বকে সাধারণ মানুষের জন্য দৃশ্যমান সুযোগে রূপান্তর করাই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জাপানি সহায়তার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় ৫ হাজার কোটি জাপানি ইয়েন বা প্রায় ৩২ কোটি মার্কিন ডলার জরুরি আর্থিক সহায়তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে জাপানি বেসরকারি খাত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১ লাখ কোটি জাপানি ইয়েন অর্থাৎ প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই বিপুল বিনিয়োগ দেশের শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম দিকের দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। এসব বিনিয়োগ দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করবে, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াবে এবং আমাদের তরুণ কর্মশক্তির জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রেও জাপানের সাথে বড় পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস এবং উন্নত ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদনের জন্য একটি ‘বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগে উচ্চগতির রেল যোগাযোগ স্থাপন এবং আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য জাপানি কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় উদ্যোগকে যৌথ সমৃদ্ধির নতুন কাঠামো হিসেবে এগিয়ে নিতে দুই দেশ একমত হয়েছে। এতে গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প অবকাঠামো ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। পরিশেষে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন করে পথ চলা শুরু করেছে এবং একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গঠনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশ যখন নতুনভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমার সরকার বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থবহ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে দৃঢ়। এর ফলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগসেতু হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের উন্নয়নযাত্রার প্রতিটি পর্যায়ে জাপান একটি বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে থেকেছে। জাপানের বন্ধুত্ব, উদারতা এবং দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য আমি বাংলাদেশের জনগণের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি।

স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে জাপানি ফাউন্ডেশনের প্রতি জুবাইদা রহমানের আহ্বান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে: তারেক রহমান

আপডেট : ০৭:১১:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে এক অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই বৈঠকে দুই নেতা গণতন্ত্র, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার বিষয়ে অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়।

জাপান সফরকে নিজের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সফর দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তিনি তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মরহুমা মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে জানান, তাদের প্রতিষ্ঠিত সম্পর্কের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। এই অংশীদারত্বকে সাধারণ মানুষের জন্য দৃশ্যমান সুযোগে রূপান্তর করাই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জাপানি সহায়তার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় ৫ হাজার কোটি জাপানি ইয়েন বা প্রায় ৩২ কোটি মার্কিন ডলার জরুরি আর্থিক সহায়তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে জাপানি বেসরকারি খাত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১ লাখ কোটি জাপানি ইয়েন অর্থাৎ প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই বিপুল বিনিয়োগ দেশের শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম দিকের দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। এসব বিনিয়োগ দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করবে, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াবে এবং আমাদের তরুণ কর্মশক্তির জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রেও জাপানের সাথে বড় পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস এবং উন্নত ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদনের জন্য একটি ‘বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগে উচ্চগতির রেল যোগাযোগ স্থাপন এবং আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য জাপানি কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় উদ্যোগকে যৌথ সমৃদ্ধির নতুন কাঠামো হিসেবে এগিয়ে নিতে দুই দেশ একমত হয়েছে। এতে গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প অবকাঠামো ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। পরিশেষে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন করে পথ চলা শুরু করেছে এবং একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গঠনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশ যখন নতুনভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমার সরকার বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থবহ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে দৃঢ়। এর ফলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগসেতু হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের উন্নয়নযাত্রার প্রতিটি পর্যায়ে জাপান একটি বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে থেকেছে। জাপানের বন্ধুত্ব, উদারতা এবং দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য আমি বাংলাদেশের জনগণের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি।