Hi

০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর

পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে রাশিয়ার অর্থায়নে গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে এই আলোচনার পাশাপাশি গম আমদানির বিষয়টিও উঠে আসে।

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরের অব্যবহৃত জমিতে রাশিয়ার অর্থায়নে একটি আধুনিক গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

বৈঠকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সরকার-টু-সরকার (জি টু জি) ভিত্তিতে বাংলাদেশে গম রপ্তানির আগ্রহ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি কক্সবাজারের মহেশখালীতে সাইলো নির্মাণের একটি প্রস্তাবনাও খাদ্যমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন। তবে কক্সবাজারে জমির সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী মহেশখালীর পরিবর্তে পায়রা বন্দরকে অধিক উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দেন। মহেশখালীতে সাইলো নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘কক্সবাজার এলাকায় জমির অপ্রতুলতার কারণে এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জমি পাওয়া কঠিন হতে পারে।

মন্ত্রী জানান, পায়রা বন্দরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকায় সেখানে বৃহৎ ধারণক্ষমতার সাইলো তৈরি করা বেশি কার্যকর হবে। প্রাথমিকভাবে ২ লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করে পরবর্তীতে তা ৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ কেন্দ্রে গম পরিবহন ও ব্যবস্থাপনা সহজতর হবে। এ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে রাশিয়া থেকে আমদানিকৃত গম দেশে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।’’।

প্রস্তাবিত সাইলোটি সরকারি মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি গম আমদানিকারকদের জন্যও সহায়ক হবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এতে উভয় দেশই অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের দেওয়া গম আমদানির প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান আফরোজা খানম। মন্ত্রী বলেন, ‘‘পরবর্তী সময়ে দেশের বেসরকারি গম আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে স্থানীয় বাজারে গম বিক্রির পাশাপাশি সরকারের প্রয়োজনেও সংরক্ষিত গম কেনার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সুবিধার্থে খাদ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে পায়রা বন্দর সরেজমিনে পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে স্থান নির্বাচন ও অবকাঠামোগত সুবিধাগুলো পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। রাষ্ট্রদূত এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে রাশিয়ার দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি অ্যানেসতেশিয়া নিমোভা, খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে জাপানি ফাউন্ডেশনের প্রতি জুবাইদা রহমানের আহ্বান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর

আপডেট : ০৬:২১:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরের অব্যবহৃত জমিতে রাশিয়ার অর্থায়নে একটি আধুনিক গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

বৈঠকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সরকার-টু-সরকার (জি টু জি) ভিত্তিতে বাংলাদেশে গম রপ্তানির আগ্রহ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি কক্সবাজারের মহেশখালীতে সাইলো নির্মাণের একটি প্রস্তাবনাও খাদ্যমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন। তবে কক্সবাজারে জমির সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী মহেশখালীর পরিবর্তে পায়রা বন্দরকে অধিক উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দেন। মহেশখালীতে সাইলো নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘কক্সবাজার এলাকায় জমির অপ্রতুলতার কারণে এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জমি পাওয়া কঠিন হতে পারে।

মন্ত্রী জানান, পায়রা বন্দরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকায় সেখানে বৃহৎ ধারণক্ষমতার সাইলো তৈরি করা বেশি কার্যকর হবে। প্রাথমিকভাবে ২ লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করে পরবর্তীতে তা ৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ কেন্দ্রে গম পরিবহন ও ব্যবস্থাপনা সহজতর হবে। এ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে রাশিয়া থেকে আমদানিকৃত গম দেশে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।’’।

প্রস্তাবিত সাইলোটি সরকারি মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি গম আমদানিকারকদের জন্যও সহায়ক হবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এতে উভয় দেশই অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের দেওয়া গম আমদানির প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান আফরোজা খানম। মন্ত্রী বলেন, ‘‘পরবর্তী সময়ে দেশের বেসরকারি গম আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে স্থানীয় বাজারে গম বিক্রির পাশাপাশি সরকারের প্রয়োজনেও সংরক্ষিত গম কেনার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সুবিধার্থে খাদ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে পায়রা বন্দর সরেজমিনে পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে স্থান নির্বাচন ও অবকাঠামোগত সুবিধাগুলো পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। রাষ্ট্রদূত এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে রাশিয়ার দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি অ্যানেসতেশিয়া নিমোভা, খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।