Hi

০১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রস্তুতি ইসরাইলের: নেতানিয়াহু

ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরও কঠোর হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নেসেট নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সম্ভাব্য ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে লেনদেন স্বাভাবিক রাখতে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে। অনলাইন টাইমস অব ইসরাইলকে উদ্ধৃত করে চ্যানেল টেনের অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদমাধ্যমে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান।

সাক্ষাৎকার চলাকালে ব্যাংকিং খাতের সংকট মোকাবেলায় ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের প্রস্তাব আনা হলে নেতানিয়াহু তাতে সায় দেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা হিসেবে ব্লকচেইন প্রযুক্তির কার্যকারিতা খতিয়ে দেখতে তিনি তার অর্থনৈতিক উপদেষ্টাদের নির্দেশ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে বিকল্প এই লেনদেন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, কারণ ব্লকচেইন নেটওয়ার্কের অনেক লেনদেনই চিহ্নিত করা সম্ভব। চ্যানেল টুয়েলভকে দেওয়া বক্তব্যে ইসরাইলের এক জ্যেষ্ঠ অর্থ কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, এ ধরনের পরিকল্পনা সফল হওয়ার সুযোগ নেই, বরং প্রকাশ্যে এসব আলোচনা অর্থনীতির উল্টো ক্ষতি করতে পারে। ক্রিপ্টোকারেন্সি বিকল্প লেনদেনের পথ তৈরি করে আর্থিক নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা কমাতে পারে।

পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি সরকারের অনুমোদন এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার জবাবে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে পশ্চিমারা। বৃটেনসহ ১২টি পশ্চিমা দেশ পশ্চিম তীরের বিতর্কিত এলাকাগুলো থেকে আসা ইসরাইলি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, শুরুতে এই নিষেধাজ্ঞা কেবল বসতি পণ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ধীরে ধীরে এর ক্ষতিকর প্রভাব ইসরাইলের মূল অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। বৃটেনের নেতৃত্বে নেয়া নিষেধাজ্ঞাগুলো মূলত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলোকে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা কমার বিষয়েও স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন থেকে বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি ডলারের যে বিশাল অস্ত্র ও নিরাপত্তা সহায়তা আসছে, তা চিরকাল অব্যাহত থাকবে না। আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাজেটের ওই অনুদান বন্ধ হয়ে যাবে, তাই এ বাস্তবতার সঙ্গে দেশকে দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে। নেতানিয়াহু দাবি করেন, এই পরিবর্তন ইসরাইলের কোনো সিদ্ধান্তের কারণে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির বদলের ফলেই ঘটছে। তবে সমালোচকরা মনে করছেন, তার নিজস্ব নীতিই ওয়াশিংটনে ইসরাইলের সমর্থন হ্রাসের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করেছে। শুক্রবার তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বহু কোটি ডলারের অস্ত্র সহায়তার প্যাকেজ অনির্দিষ্টকাল ধরে আসতে থাকবে না। নেতানিয়াহু বলেন, আপনারা যদি মনে করেন, আমি যে দুইবার যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা বাজেটের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলারের সহায়তা নিশ্চিত করেছি, তা আমরা ভবিষ্যতেও পেতে থাকব, তাহলে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিন এবং বাস্তবতাটি ম। যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের প্রতি জনসমর্থন কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, এর পেছনে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি দায়ী; ইসরাইলের ভূমিকা নয়।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর এসব মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। রাজনৈতিক বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকারের ভুল কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক নীতির কারণেই ইসরাইল অভূতপূর্ব বিশ্ব বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ও ‘বেয়াখাদ’ দলের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব ইয়াইর লাপিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, নেতানিয়াহু এখন নিজেই স্বীকার করছেন যে তার দল পুনরায় ক্ষমতায় এলে মার্কিন নিরাপত্তা সহযোগিতা বন্ধ হয়ে যাবে এবং এমন চরম আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আসবে যা দেশের জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে অর্থনীতি ধসিয়ে দেবে। অন্যদিকে ‘দ্য ডেমোক্রেটস’ নেতা ইয়াইর গোলান কটাক্ষ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস্তবতা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পৌঁছেছেন।

শেনজেন এলাকায় ভিসামুক্ত ভ্রমণের অপেক্ষায় উপসাগরীয় ৫ দেশ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রস্তুতি ইসরাইলের: নেতানিয়াহু

আপডেট : ১২:১৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরও কঠোর হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নেসেট নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সম্ভাব্য ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে লেনদেন স্বাভাবিক রাখতে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে। অনলাইন টাইমস অব ইসরাইলকে উদ্ধৃত করে চ্যানেল টেনের অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদমাধ্যমে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান।

সাক্ষাৎকার চলাকালে ব্যাংকিং খাতের সংকট মোকাবেলায় ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের প্রস্তাব আনা হলে নেতানিয়াহু তাতে সায় দেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা হিসেবে ব্লকচেইন প্রযুক্তির কার্যকারিতা খতিয়ে দেখতে তিনি তার অর্থনৈতিক উপদেষ্টাদের নির্দেশ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে বিকল্প এই লেনদেন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, কারণ ব্লকচেইন নেটওয়ার্কের অনেক লেনদেনই চিহ্নিত করা সম্ভব। চ্যানেল টুয়েলভকে দেওয়া বক্তব্যে ইসরাইলের এক জ্যেষ্ঠ অর্থ কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, এ ধরনের পরিকল্পনা সফল হওয়ার সুযোগ নেই, বরং প্রকাশ্যে এসব আলোচনা অর্থনীতির উল্টো ক্ষতি করতে পারে। ক্রিপ্টোকারেন্সি বিকল্প লেনদেনের পথ তৈরি করে আর্থিক নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা কমাতে পারে।

পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি সরকারের অনুমোদন এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার জবাবে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে পশ্চিমারা। বৃটেনসহ ১২টি পশ্চিমা দেশ পশ্চিম তীরের বিতর্কিত এলাকাগুলো থেকে আসা ইসরাইলি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, শুরুতে এই নিষেধাজ্ঞা কেবল বসতি পণ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ধীরে ধীরে এর ক্ষতিকর প্রভাব ইসরাইলের মূল অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। বৃটেনের নেতৃত্বে নেয়া নিষেধাজ্ঞাগুলো মূলত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলোকে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা কমার বিষয়েও স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন থেকে বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি ডলারের যে বিশাল অস্ত্র ও নিরাপত্তা সহায়তা আসছে, তা চিরকাল অব্যাহত থাকবে না। আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাজেটের ওই অনুদান বন্ধ হয়ে যাবে, তাই এ বাস্তবতার সঙ্গে দেশকে দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে। নেতানিয়াহু দাবি করেন, এই পরিবর্তন ইসরাইলের কোনো সিদ্ধান্তের কারণে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির বদলের ফলেই ঘটছে। তবে সমালোচকরা মনে করছেন, তার নিজস্ব নীতিই ওয়াশিংটনে ইসরাইলের সমর্থন হ্রাসের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করেছে। শুক্রবার তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বহু কোটি ডলারের অস্ত্র সহায়তার প্যাকেজ অনির্দিষ্টকাল ধরে আসতে থাকবে না। নেতানিয়াহু বলেন, আপনারা যদি মনে করেন, আমি যে দুইবার যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা বাজেটের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলারের সহায়তা নিশ্চিত করেছি, তা আমরা ভবিষ্যতেও পেতে থাকব, তাহলে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিন এবং বাস্তবতাটি ম। যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের প্রতি জনসমর্থন কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, এর পেছনে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি দায়ী; ইসরাইলের ভূমিকা নয়।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর এসব মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। রাজনৈতিক বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকারের ভুল কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক নীতির কারণেই ইসরাইল অভূতপূর্ব বিশ্ব বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ও ‘বেয়াখাদ’ দলের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব ইয়াইর লাপিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, নেতানিয়াহু এখন নিজেই স্বীকার করছেন যে তার দল পুনরায় ক্ষমতায় এলে মার্কিন নিরাপত্তা সহযোগিতা বন্ধ হয়ে যাবে এবং এমন চরম আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আসবে যা দেশের জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে অর্থনীতি ধসিয়ে দেবে। অন্যদিকে ‘দ্য ডেমোক্রেটস’ নেতা ইয়াইর গোলান কটাক্ষ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস্তবতা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পৌঁছেছেন।