Hi

০৪:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত, টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধানের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যকর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি যেন অন্য কোনো বৈশ্বিক সংকটের আড়ালে হারিয়ে না যায়, বরং জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক রাডারে সবসময় সক্রিয় থাকে। শরণার্থীদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে মর্যাদাপূর্ণভাবে ফিরিয়ে নেওয়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিআইআইএসএস মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) আয়োজিত ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: ইমার্জিং চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রিফ্রেমিং রেসপনসিবিলিটিজ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। আইজিসিএফের প্রধান নির্বাহী চৌধুরী আদনান রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আয়োজনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও মানবাধিকার কর্মীরা অংশ নেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৫ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী এই সংকটের কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ক্যাম্পগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, মাদক চোরাচালান, মানবপাচার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্যাম্পের চারপাশে সীমান্ত বেড়া ও সুনিয়ন্ত্রিত যাতায়াত ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, কেবল অনির্দিষ্টকালের মানবিক সহায়তা দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। জরুরি ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি একটি ‘ট্রানজিশনাল স্ট্র্যাটেজি’ বা রূপান্তরকালীন কৌশলে যেতে হবে, যার মূল লক্ষ্য হবে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। বিশ্ব রাজনীতির প্রভাবশালী দেশসমূহ এবং জাতিসংঘের প্রত্যক্ষ সহায়তা ছাড়া এই সংকট নিরসন কঠিন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের অতীত কূটনৈতিক সফলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফলভাবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করেছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকার আবারও সফল প্রত্যাবাসনে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর্মুলেশন কমিটি অন রোহিঙ্গা অ্যাফেয়ার্স’ গঠিত হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

জনপ্রিয়

রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ০৩:৫৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত, টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধানের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যকর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি যেন অন্য কোনো বৈশ্বিক সংকটের আড়ালে হারিয়ে না যায়, বরং জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক রাডারে সবসময় সক্রিয় থাকে। শরণার্থীদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে মর্যাদাপূর্ণভাবে ফিরিয়ে নেওয়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিআইআইএসএস মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) আয়োজিত ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: ইমার্জিং চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রিফ্রেমিং রেসপনসিবিলিটিজ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। আইজিসিএফের প্রধান নির্বাহী চৌধুরী আদনান রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আয়োজনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও মানবাধিকার কর্মীরা অংশ নেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৫ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী এই সংকটের কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ক্যাম্পগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, মাদক চোরাচালান, মানবপাচার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্যাম্পের চারপাশে সীমান্ত বেড়া ও সুনিয়ন্ত্রিত যাতায়াত ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, কেবল অনির্দিষ্টকালের মানবিক সহায়তা দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। জরুরি ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি একটি ‘ট্রানজিশনাল স্ট্র্যাটেজি’ বা রূপান্তরকালীন কৌশলে যেতে হবে, যার মূল লক্ষ্য হবে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। বিশ্ব রাজনীতির প্রভাবশালী দেশসমূহ এবং জাতিসংঘের প্রত্যক্ষ সহায়তা ছাড়া এই সংকট নিরসন কঠিন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের অতীত কূটনৈতিক সফলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফলভাবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করেছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকার আবারও সফল প্রত্যাবাসনে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর্মুলেশন কমিটি অন রোহিঙ্গা অ্যাফেয়ার্স’ গঠিত হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।