চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টির সুবাদে কৃষকরা পাটের বাম্পার ফলন পেয়েছেন। বর্তমানে মাঠ থেকে পাট কেটে জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। এলাকার নদ-নদী ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি থাকায় পাট জাগ দিতেও কোনো বেগ পেতে হয়নি তাদের। স্থানীয় বাজারগুলোতে পাটের ব্যাপক চাহিদার পাশাপাশি আশানুরূপ দাম থাকায় কৃষকের মুখে এখন হাসি ফুটেছে।
জীবননগর পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাটচাষি শিপন জানান, তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় বিঘা প্রতি অন্তত ১০ মণ পাট পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি। বাজারে পাটের দাম ও চাহিদা দুই-ই ভালো থাকায় এবার ভালো মুনাফা পাওয়ার আশা করছেন এ কৃষক। একই কথা জানালেন স্থানীয় চাষি জসিম। তিনি জানান, নদী বা জলাশয়ে পাট জাগ দেওয়ার পর দ্রুত তা পরিষ্কার করে শুকিয়ে বাজারে তোলার প্রস্তুতি চলছে। পাটখড়ির ভালো চাহিদা থাকায় আঁটি প্রতি ৬০ টাকায় বিক্রি করছেন অনেকে। এছাড়া অনেকে জলাশয়ে পাট পচানোর সময় থেকেই পাটখড়ি সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন, যা উৎপাদন খরচ কমাতে সহায়তা করছে।
বাজার দর যাচাই করে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে পাটের রঙের উজ্জ্বলতা ভালো হলে দাম আরও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। পাটের পাশাপাশি পাটখড়ি বিক্রি করেও বাড়তি আয় করছেন চাষিরা। প্রতি মণ পাটখড়ি বাজারে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার জীবননগর উপজেলায় ১ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, মাটির উর্বরতা, সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং কৃষি অফিসের নিয়মিত পরামর্শ ও মাঠপর্যায়ের সহায়তার কারণেই এবার পাটের বাম্পার ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ও সঠিক সময়ে কৃষকদের দেওয়া দিকনির্দেশনা এই সফলতায় বড় ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রিপোর্টার নাম: 

























