Hi

০৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: নতুন ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের কৌশল ও চ্যালেঞ্জ

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৩:৩৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ জন দেখেছে

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পটভূমিতে বর্তমান সরকার এক জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। একদিকে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সম্পর্ক, অন্যদিকে পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সামনে উন্মোচিত নতুন সব সুযোগ ও অংশীদারত্বের হাতছানি। এই নতুন দরজাগুলো দিয়ে প্রবেশের আগে কোথায় লাভ আর কোথায় দায় রয়েছে, তার চুলচেরা বিশ্লেষণ এখন সময়ের দাবি।

২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপট ২০১৩ সালের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেই সময়ে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির ঢাকা সফরকালে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকটি হরতাল ও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাতিল করা হয়েছিল। ৪ মার্চ ২০১৩ তারিখে ভারতের দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ সাংবাদিক স্বরাজ থাপা ‘প্রণব মুখার্জি ভিজিট রানস ইনটু বাংলাদেশ টারময়েল, খালেদা জিয়া ক্যানসেলস মিট’ শিরোনামে সেই ঘটনাটি তুলে ধরেছিলেন। তবে ১৩ বছর পর সেই ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ এখন আর মূল বিষয় নয়; বরং বর্তমান সরকারের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অবস্থান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত ও ভিন্নমাত্রার।

দুই দেশই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী হলেও শর্ত ও স্বার্থের প্রশ্নে চলছে সূক্ষ্ম হিসাব-নিকাশ। গত ২১ আগস্ট রয়টার্সের প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়, তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এর পরপরই ২২ আগস্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য প্রকাশ করে, যেখানে তিনি স্পষ্ট করেন যে ভারতের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি, তবে তা কোনোভাবেই জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নয়।

দিল্লির পক্ষ থেকেও একই ধরনের সুর শোনা গেছে। ২৩ আগস্ট দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর ‘দিল্লি-ঢাকা চিল: জয়শঙ্কর ফ্ল্যাগস মিউচুয়াল ইন্টারেস্টস, কমন গ্রাউন্ড’ শিরোনামের প্রতিবেদনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, প্রতিবেশীরা কেবল ভারতের স্বার্থ দেখবে, এমনটা প্রত্যাশা করা ঠিক নয়; বরং ভারতকেও প্রতিবেশীর স্বার্থের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। এই পারস্পরিক বোঝাপড়াই এখন ২০২৬ সালের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সীমান্ত এবং বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত অবস্থান বাংলাদেশকে এক বিশেষ শক্তি দিয়েছে। তবে এই ভৌগোলিক সুবিধা ব্যবহারের পাশাপাশি বিকল্প অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোকেও গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ-এর গবেষক ইমরান আহমেদ ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে তার বিশ্লেষণে একে বাংলাদেশের ‘মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট’ বা বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বর্তমানে চীন বাংলাদেশের বড় অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে। বিশেষ করে ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ। ২৩ আগস্ট নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, বাংলাদেশ এই প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে।

তবে এই বহুমুখী সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চীন অর্থনৈতিক সহযোগী হলেও তিস্তার পানির উৎস বা ভৌগোলিক নৈকট্যের মতো বিষয়ে ভারতের বিকল্প নেই। আবার প্রতিরক্ষা বা শ্রমবাজারের ক্ষেত্রে তুরস্ক বা সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ হলেও তারা বাংলাদেশের সরাসরি প্রতিবেশী নয়। তাই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা।

সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হলো শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান। ১৬ আগস্ট রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধ বর্তমান সম্পর্কের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ২১ আগস্ট রয়টার্স জানায়, পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের উত্তরের অপেক্ষায় আছে ঢাকা। ২২ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির স্পষ্ট করেন, এটি কেবল কূটনৈতিক দর-কষাকষির বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা ও জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। ২৩ আগস্ট এস জয়শঙ্করকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সরাসরি উত্তর দেননি, যা কূটনীতির ভাষায় নীরবতার ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো বিচারের দাবি, ভারতের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সম্পর্ক এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থ—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামদ মুইজ্জুর ‘ইন্ডিয়া আউট’ প্রচারণার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ হয়তো বড় কোনো বিরোধ ছাড়াই যোগাযোগ অব্যাহত রাখার পথ খুঁজছে। শেষ পর্যন্ত ভারত কী ভাববে, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো বাংলাদেশ নিজের জাতীয় স্বার্থে কী অর্জন করতে পারবে। পররাষ্ট্রনীতিতে আবেগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি হিসাব-নিকাশই এখন বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু সব দরজা দিয়ে ঢুকতে হবে, এমন নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বৈঠকটি বাতিলের ঘটনায় দিল্লিতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৩ বছর পর সেই ঘটনা নিয়ে কে ঠিক বা কে ভুল ছিলেন, সেই বিচার এ লেখার বিষয় নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো, বদলে যাওয়া এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কোন পথে যাবে, আর তিনি সেটি কীভাবে এগিয়ে নেবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্ভবত ২০২৬ সালের নতুন হিসাব এখান থেকেই শুরু। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু ভারতকে চাপ দেওয়ার অস্ত্র হিসেবে সেই বিকল্পকে ব্যবহার করলে উল্টো ফল হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চীনের সঙ্গে বাণিজ্য, অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সহজ কথায়, কোনো এক দেশের দিকে পুরোপুরি না ঝুঁকে সবার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজের স্বার্থ দেখা।

জনপ্রিয়

আগামী বছরের বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা: দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে টঙ্গীতে

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: নতুন ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের কৌশল ও চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ০৩:৩৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পটভূমিতে বর্তমান সরকার এক জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। একদিকে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সম্পর্ক, অন্যদিকে পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সামনে উন্মোচিত নতুন সব সুযোগ ও অংশীদারত্বের হাতছানি। এই নতুন দরজাগুলো দিয়ে প্রবেশের আগে কোথায় লাভ আর কোথায় দায় রয়েছে, তার চুলচেরা বিশ্লেষণ এখন সময়ের দাবি।

২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপট ২০১৩ সালের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেই সময়ে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির ঢাকা সফরকালে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকটি হরতাল ও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাতিল করা হয়েছিল। ৪ মার্চ ২০১৩ তারিখে ভারতের দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ সাংবাদিক স্বরাজ থাপা ‘প্রণব মুখার্জি ভিজিট রানস ইনটু বাংলাদেশ টারময়েল, খালেদা জিয়া ক্যানসেলস মিট’ শিরোনামে সেই ঘটনাটি তুলে ধরেছিলেন। তবে ১৩ বছর পর সেই ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ এখন আর মূল বিষয় নয়; বরং বর্তমান সরকারের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অবস্থান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত ও ভিন্নমাত্রার।

দুই দেশই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী হলেও শর্ত ও স্বার্থের প্রশ্নে চলছে সূক্ষ্ম হিসাব-নিকাশ। গত ২১ আগস্ট রয়টার্সের প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়, তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এর পরপরই ২২ আগস্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য প্রকাশ করে, যেখানে তিনি স্পষ্ট করেন যে ভারতের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি, তবে তা কোনোভাবেই জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নয়।

দিল্লির পক্ষ থেকেও একই ধরনের সুর শোনা গেছে। ২৩ আগস্ট দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর ‘দিল্লি-ঢাকা চিল: জয়শঙ্কর ফ্ল্যাগস মিউচুয়াল ইন্টারেস্টস, কমন গ্রাউন্ড’ শিরোনামের প্রতিবেদনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, প্রতিবেশীরা কেবল ভারতের স্বার্থ দেখবে, এমনটা প্রত্যাশা করা ঠিক নয়; বরং ভারতকেও প্রতিবেশীর স্বার্থের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। এই পারস্পরিক বোঝাপড়াই এখন ২০২৬ সালের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সীমান্ত এবং বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত অবস্থান বাংলাদেশকে এক বিশেষ শক্তি দিয়েছে। তবে এই ভৌগোলিক সুবিধা ব্যবহারের পাশাপাশি বিকল্প অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোকেও গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ-এর গবেষক ইমরান আহমেদ ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে তার বিশ্লেষণে একে বাংলাদেশের ‘মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট’ বা বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বর্তমানে চীন বাংলাদেশের বড় অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে। বিশেষ করে ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ। ২৩ আগস্ট নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, বাংলাদেশ এই প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে।

তবে এই বহুমুখী সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চীন অর্থনৈতিক সহযোগী হলেও তিস্তার পানির উৎস বা ভৌগোলিক নৈকট্যের মতো বিষয়ে ভারতের বিকল্প নেই। আবার প্রতিরক্ষা বা শ্রমবাজারের ক্ষেত্রে তুরস্ক বা সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ হলেও তারা বাংলাদেশের সরাসরি প্রতিবেশী নয়। তাই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা।

সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হলো শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান। ১৬ আগস্ট রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধ বর্তমান সম্পর্কের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ২১ আগস্ট রয়টার্স জানায়, পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের উত্তরের অপেক্ষায় আছে ঢাকা। ২২ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির স্পষ্ট করেন, এটি কেবল কূটনৈতিক দর-কষাকষির বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা ও জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। ২৩ আগস্ট এস জয়শঙ্করকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সরাসরি উত্তর দেননি, যা কূটনীতির ভাষায় নীরবতার ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো বিচারের দাবি, ভারতের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সম্পর্ক এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থ—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামদ মুইজ্জুর ‘ইন্ডিয়া আউট’ প্রচারণার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ হয়তো বড় কোনো বিরোধ ছাড়াই যোগাযোগ অব্যাহত রাখার পথ খুঁজছে। শেষ পর্যন্ত ভারত কী ভাববে, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো বাংলাদেশ নিজের জাতীয় স্বার্থে কী অর্জন করতে পারবে। পররাষ্ট্রনীতিতে আবেগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি হিসাব-নিকাশই এখন বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু সব দরজা দিয়ে ঢুকতে হবে, এমন নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বৈঠকটি বাতিলের ঘটনায় দিল্লিতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৩ বছর পর সেই ঘটনা নিয়ে কে ঠিক বা কে ভুল ছিলেন, সেই বিচার এ লেখার বিষয় নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো, বদলে যাওয়া এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কোন পথে যাবে, আর তিনি সেটি কীভাবে এগিয়ে নেবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্ভবত ২০২৬ সালের নতুন হিসাব এখান থেকেই শুরু। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু ভারতকে চাপ দেওয়ার অস্ত্র হিসেবে সেই বিকল্পকে ব্যবহার করলে উল্টো ফল হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চীনের সঙ্গে বাণিজ্য, অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সহজ কথায়, কোনো এক দেশের দিকে পুরোপুরি না ঝুঁকে সবার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজের স্বার্থ দেখা।