দেশের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার এক alarming রূপ ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সাম্প্রতিক দুটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এ ধরনের মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ৯০ শতাংশের বেশি। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, হাসপাতালগুলোর কঠোর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অভাব, জনবল সংকট এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে এই সংকট দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
আইসিডিডিআরবির গবেষকরা রাজধানী ঢাকার একটি বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালের প্রাপ্তবয়স্কদের আইসিইউ এবং নবজাতকদের এনআইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন রোগীদের ওপর এই গবেষণা পরিচালনা করেন। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় যেসব রোগীর শরীরে নির্দিষ্ট ওই ব্যাকটেরিয়াগুলো ছিল না, তাদের প্রায় ৫৩ শতাংশই চিকিৎসাধীন অবস্থায় নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়া নবজাতক ইউনিটেও একই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ চিত্র পাওয়া গেছে, যা দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।
গবেষণায় প্রধানত চারটি গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে— ই-কোলাই, ক্লেবসিয়েলা নিউমোনি, অ্যাসিনেটোব্যাক্টার বাউমানি এবং সিউডোমোনাস অ্যারুজিনোসা। এই জীবাণুগুলো অত্যন্ত দ্রুত নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে এবং প্রচলিত প্রায় সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এর ফলে রোগীদের ওপর চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
চিকিৎসকদের ভাষায় এটিকে ‘কলোনাইজেশন’ বা অন্ত্রে জীবাণুর সুপ্ত উপস্থিতি বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগী নিজে বাহ্যিকভাবে অসুস্থ বোধ না করলেও তার শরীরের মাধ্যমে হাসপাতালের অন্যান্য সংবেদনশীল রোগীদের মধ্যে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি থাকে। হোল-জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তির সাহায্যে গবেষকরা দেখিয়েছেন কীভাবে এই নীরব জীবাণুগুলো পরবর্তীতে প্রাণঘাতী সংক্রমণে রূপ নেয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, হাসপাতালকে হতে হবে সুস্থতার জায়গা, কোনোভাবেই নতুন রোগের সংক্রমণের উৎস নয়। তাই আইসিইউ ও এনআইসিইউর মতো সংবেদনশীল বিভাগগুলোতে জীবাণু সংক্রমণ রোধে কঠোর নজরদারি, নিয়মিত ল্যাব পরীক্ষা এবং অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ও বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যবহার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।
নিজস্ব প্রতিনিধি 



















