বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সাম্প্রতিক এই সংঘাত বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার জন্ম দিলেও, উভয় পক্ষই এখন সামরিক অভিযান থেকে সাময়িক বিরতি বা ‘স্ট্যান্ড ডাউন’ করার ঘোষণা দিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যেকার এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা প্রমাণ করেছে যে, বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কতটা নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার কাতারে উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে নতুন করে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠককে সংকট নিরসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে, তেহরান জোর দিয়ে বলেছে যে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা তাদের জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইরান স্পষ্ট করেছে যে, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকলেও নিজেদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।
গত সপ্তাহের এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল, কারণ হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই বিনিময় মূলত উভয় পক্ষের শক্তির মহড়া ছিল। তবে সরাসরি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়ানোর পরিণাম যে ভয়াবহ হতে পারে, তা অনুধাবন করেই দুই দেশ আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে রাজি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহল এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, দীর্ঘমেয়াদী শান্তি বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব এবং ইরানের আঞ্চলিক আধিপত্যের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। কাতারে অনুষ্ঠিতব্য এই আলোচনা সফল হলে তা যেমন সংঘাতের ঝুঁকি কমাবে, তেমনি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে। বর্তমানে বিশ্ববাসীর নজর এখন কাতারের সেই বৈঠকের দিকে, যা এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির পরবর্তী মোড় নির্ধারণ করবে।
রিপোর্টার নাম: 




















