মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূ-রাজনীতিতে ফের নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি সামরিক উত্তেজনার ঘটনায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান আলোচনার জন্য তাদের সাথে যোগাযোগ করেছে এবং একটি বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে তাৎক্ষণিকভাবে নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এ ধরনের কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা বা প্রস্তাব বর্তমানে নেই। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালী ও এর আশেপাশের অঞ্চলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এই অঞ্চলটি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হওয়ায় সংঘাতের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। যদিও মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, তারা সংঘাতের পথ থেকে সরে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার পক্ষে, তবুও ইরানের সাথে তাদের অবিশ্বাসের দেয়ালটি ক্রমশই উঁচু হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই টানাপোড়েন মূলত ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে আসা এবং পরবর্তীতে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফসল। ট্রাম্প প্রশাসন যেখানে সর্বোচ্চ চাপের মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে চাইছে, সেখানে তেহরান বলছে, কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করে তাদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করা যাবে না। হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা নিয়ে তেহরানের কঠোর অবস্থান এবং ওয়াশিংটনের সামরিক টহল—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে।
পরিশেষে, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায় থেকে আসা বিপরীতমুখী বার্তাগুলো মূলত কূটনৈতিক কৌশলের অংশ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যথাযথ আলোচনার পথ প্রশস্ত না হলে ছোটখাটো সামরিক সংঘাত যেকোনো সময় বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের কারণ হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, যাতে মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর শান্তি বজায় থাকে এবং বড় কোনো বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।
রিপোর্টার নাম: 




















