মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রধান রুটগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের চাহিদা কমেছে, যার ফলে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এই খাতটি। ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতারা নতুন করে ক্রয়াদেশ (অর্ডার) দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছেন, যার ফলে পোশাক কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা অনেকাংশে কমে গেছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার কারণে শিপিং খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারায় অনেক ক্রেতা বিকল্প দেশ হিসেবে ভারত বা ভিয়েতনামের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে ক্রয়াদেশের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে মাঝারি ও ছোট আকারের কারখানাগুলো এই ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক উদ্যোক্তা তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সংকুচিত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই পরিস্থিতির সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো শ্রমিক ছাঁটাই। উৎপাদন কমে যাওয়ায় কারখানাগুলো ব্যয় কমাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথ বেছে নিচ্ছে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন, যা দেশের সামগ্রিক শ্রমবাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করেছে। পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারের তরফ থেকে আর্থিক সহায়তা ও নীতিগত দিকনির্দেশনা এখন সময়ের দাবি।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। পোশাক খাতের এই সংকট কেবল ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করছে না, বরং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতা ও শিল্প রক্ষায় বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার নাম: 




















