Hi

১০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপহরণের পর শিশু রিফাতকে হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড

বগুড়ার শাজাহানপুরে আট বছর বয়সী শিশু রিফাত হোসেনকে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যা এবং মরদেহ গুমের ঘটনায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা আরও পাঁচজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় আট বছর পর বহুল আলোচিত এ মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুর পরিবার।

রোববার (২১ জুন) দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার ১১ আসামির মধ্যে আটজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজন এখনও পলাতক রয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন শাজাহানপুর উপজেলার আবুল কালাম আজাদ, সেলিম ইসলাম, মেহেদী হাসান, রাজু ইসলাম ওরফে পাঁচফুল এবং সাগর। আদালত তাদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সময় নাবালক থাকা সজিব হাসান, মফিজুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, বোরহান আলী ও বায়েজিদ হোসেনকে শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের বয়স ১৮ বছরের বেশি হওয়ায় জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত ও রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহত রিফাত হোসেন ছিলেন শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা এলাকার প্রবাসী এনামুল হকের ছেলে। ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই বিকেলে রিফাত নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। তিন দিন পর পাশের পোয়ালগাছা গ্রামের ভদ্রাবতী সেতুর নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তে উঠে আসে, প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর এনামুল হকের কাছে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করতেন প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ। ঘটনার দিনও তিনি এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই দিনই রিফাত নিখোঁজ হয়। পরে তদন্তে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যা এবং মরদেহ গুমের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা এনামুল হক শাজাহানপুর থানায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেন। বিচার চলাকালে আসামি মাসুদ রানা মারা যাওয়ায় তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মো. আলী আসগর বলেন, “সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত এই রায় দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুর বাবা এনামুল হক। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট। উচ্চ আদালতেও যেন এই রায় বহাল থাকে এবং দ্রুত কার্যকর হয়, সেটাই চাই। আর কোনো বাবা-মায়ের যেন এভাবে সন্তান হারাতে না হয়। আদালত পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

অপহরণের পর শিশু রিফাতকে হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড

আপডেট : ১০:০৪:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বগুড়ার শাজাহানপুরে আট বছর বয়সী শিশু রিফাত হোসেনকে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যা এবং মরদেহ গুমের ঘটনায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা আরও পাঁচজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় আট বছর পর বহুল আলোচিত এ মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুর পরিবার।

রোববার (২১ জুন) দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার ১১ আসামির মধ্যে আটজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজন এখনও পলাতক রয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন শাজাহানপুর উপজেলার আবুল কালাম আজাদ, সেলিম ইসলাম, মেহেদী হাসান, রাজু ইসলাম ওরফে পাঁচফুল এবং সাগর। আদালত তাদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সময় নাবালক থাকা সজিব হাসান, মফিজুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, বোরহান আলী ও বায়েজিদ হোসেনকে শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের বয়স ১৮ বছরের বেশি হওয়ায় জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত ও রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহত রিফাত হোসেন ছিলেন শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা এলাকার প্রবাসী এনামুল হকের ছেলে। ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই বিকেলে রিফাত নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। তিন দিন পর পাশের পোয়ালগাছা গ্রামের ভদ্রাবতী সেতুর নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তে উঠে আসে, প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর এনামুল হকের কাছে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করতেন প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ। ঘটনার দিনও তিনি এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই দিনই রিফাত নিখোঁজ হয়। পরে তদন্তে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যা এবং মরদেহ গুমের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা এনামুল হক শাজাহানপুর থানায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেন। বিচার চলাকালে আসামি মাসুদ রানা মারা যাওয়ায় তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মো. আলী আসগর বলেন, “সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত এই রায় দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুর বাবা এনামুল হক। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট। উচ্চ আদালতেও যেন এই রায় বহাল থাকে এবং দ্রুত কার্যকর হয়, সেটাই চাই। আর কোনো বাবা-মায়ের যেন এভাবে সন্তান হারাতে না হয়। আদালত পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।