Hi

০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
দুই আনা স্বর্ণের জন্য শিশু মীমকে হত্যা করে প্রতিবেশীরা

৯ মাস পর মীমের লাশ উত্তোলন

দাফনের ৯ মাস পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী শিশু খাদিজা আক্তার (০৬) প্রকাশ মীমের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। বাদীর আবেদন ও আদালতের নির্দেশে পুন:তদন্তের জন্য বুধবার বিকেলে উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের কালিশিমুল গ্রামের তাদের পারিবারিক কবরস্থান থেকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট প্রিন্স সরকারের উপস্থিতিতে মীমের লাশ উত্তোলন করা হয়। মামলার বাদী মীমের পিতা আলী ইসলামসহ পরিবারের অভিযোগ প্রভাবশালী চক্রের নীলনকশায় প্রকৃত সত্য আড়াল করে মীমের হত্যা কান্ডকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আমরা সত্য প্রকাশ ও শিশু মীম হত্যার বিচার চাই। আসামী পক্ষের লোকজন ঘরে তালা ঝুলিয়ে এখনো গা ঢাকা দিয়ে আছে।

নিহত শিশু মীমের পরিবার ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত ফেব্রূয়ারি মাসের ১৮ তারিখ মঙ্গলবার মাত্র দুই আনা স্বর্ণের জন্য পরিকল্পিত ভাবে শিশু মীমকে হত্যা করে প্রতিবেশী কয়েকজন। কালিশিমুল গ্রামের দরিদ্র আলী ইসলামের শিশু কন্যা মীম পাকশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। দুইকানে দুই আনা স্বর্ণের দুটি দুল পড়ে অন্যান্য দিনের মত গত ওইদিন স্কুলে গিয়েছিল মীম।

দুপুরের দিকে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরলে প্রতিবেশী আনসর মিয়ার মেয়ে জান্নাত মীমকে ফুঁসলিয়ে খেলতে নিয়ে যায়। এরপর আর বাড়ি ফিরেনি মীম। শ্রম বিক্রি করে জীবন-যাপন করা আলী ইসলাম বিকেলে বাড়ি ফিরলে স্ত্রী জানান মীমকে পাওয়া যাচ্ছে না। সন্তানকে খুঁজতে চারিদিকে দৌঁড়তে থাকেন আলী ইসলাম। গভীররাত পর্যন্ত কোথাও খুঁজে পাননি মীমকে। পরের দিন বুধবার সকালে মীমদের পুকুরের পাড় সংলগ্ন পানিতে পুতুলের মত কি যেন পড়ে থাকতে দেখে কয়েকজন শিশু।

সেখানে হাজির হয়ে মীমের মরদেহ সনাক্ত করেন পরিবার। তবে মীমের কানের স্বর্ণের দুটি দুল, গলার ইমিটেশনের চেইন ও পায়ের সেন্ডেল দুটি নেই। মীমের মুখের ভেতরে শক্ত ধরণের কাঁদায় ভরা। মীমের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ প্রতিবেশী মনসুর (৫৩) আনসার (৫০) ও জান্নাতরা (১৭) এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন। এ ঘটনায় আলী ইসলাম বাদী হয়ে সরাইল থানায় হত্যা মামলা দাখিল করলেও তা নথিভূক্ত হয়নি। প্রথমে পুলিশ পরে পিবিআই’র প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট হননি বাদী পক্ষ।

আদালতে নারাজি আবেদন করলে তদন্তের দায়িত্ব পান জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (সিআইডি)। এরই মধ্যে আদালতে পুন:তদন্তের আবেদন করেন বাদী। বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরাইল আমলী আদালত আবেদন মঞ্জুর করে শিশু মীমের লাশ কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল ও পুন:ময়নাতদন্ত প্রস্তুত কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট প্রিন্স সরকারকে দায়িত্ব প্রদান করেন।

এরই প্রেক্ষিতে গতকাল কবর থেকে শিশু মীমের লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন সিআইড’র ইন্সপেক্টর মোবারক হোসেন সরকার, মো. হানিফ সরকার, এস.আই এনামুল হক ও সরাইল থানার এস.আই রাজিব বড়ুয়া। মীমের পিতা আলী ইসলাম ও পরিবারের লোকজন বলেন, আসামীরা প্রকাশ্যে হত্যার কথা স্বীকার করে টাকায় রফাদফা করার প্রস্তাব দিচ্ছে। তারপরও অজানা কারণে প্রশাসন তাদের বিরূদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। আমরা বারবার টাকার কাছে হেরে যাচ্ছি। সত্যটা দেখতে চাই।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

দুই আনা স্বর্ণের জন্য শিশু মীমকে হত্যা করে প্রতিবেশীরা

৯ মাস পর মীমের লাশ উত্তোলন

আপডেট : ১১:২৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

দাফনের ৯ মাস পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী শিশু খাদিজা আক্তার (০৬) প্রকাশ মীমের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। বাদীর আবেদন ও আদালতের নির্দেশে পুন:তদন্তের জন্য বুধবার বিকেলে উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের কালিশিমুল গ্রামের তাদের পারিবারিক কবরস্থান থেকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট প্রিন্স সরকারের উপস্থিতিতে মীমের লাশ উত্তোলন করা হয়। মামলার বাদী মীমের পিতা আলী ইসলামসহ পরিবারের অভিযোগ প্রভাবশালী চক্রের নীলনকশায় প্রকৃত সত্য আড়াল করে মীমের হত্যা কান্ডকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আমরা সত্য প্রকাশ ও শিশু মীম হত্যার বিচার চাই। আসামী পক্ষের লোকজন ঘরে তালা ঝুলিয়ে এখনো গা ঢাকা দিয়ে আছে।

নিহত শিশু মীমের পরিবার ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত ফেব্রূয়ারি মাসের ১৮ তারিখ মঙ্গলবার মাত্র দুই আনা স্বর্ণের জন্য পরিকল্পিত ভাবে শিশু মীমকে হত্যা করে প্রতিবেশী কয়েকজন। কালিশিমুল গ্রামের দরিদ্র আলী ইসলামের শিশু কন্যা মীম পাকশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। দুইকানে দুই আনা স্বর্ণের দুটি দুল পড়ে অন্যান্য দিনের মত গত ওইদিন স্কুলে গিয়েছিল মীম।

দুপুরের দিকে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরলে প্রতিবেশী আনসর মিয়ার মেয়ে জান্নাত মীমকে ফুঁসলিয়ে খেলতে নিয়ে যায়। এরপর আর বাড়ি ফিরেনি মীম। শ্রম বিক্রি করে জীবন-যাপন করা আলী ইসলাম বিকেলে বাড়ি ফিরলে স্ত্রী জানান মীমকে পাওয়া যাচ্ছে না। সন্তানকে খুঁজতে চারিদিকে দৌঁড়তে থাকেন আলী ইসলাম। গভীররাত পর্যন্ত কোথাও খুঁজে পাননি মীমকে। পরের দিন বুধবার সকালে মীমদের পুকুরের পাড় সংলগ্ন পানিতে পুতুলের মত কি যেন পড়ে থাকতে দেখে কয়েকজন শিশু।

সেখানে হাজির হয়ে মীমের মরদেহ সনাক্ত করেন পরিবার। তবে মীমের কানের স্বর্ণের দুটি দুল, গলার ইমিটেশনের চেইন ও পায়ের সেন্ডেল দুটি নেই। মীমের মুখের ভেতরে শক্ত ধরণের কাঁদায় ভরা। মীমের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ প্রতিবেশী মনসুর (৫৩) আনসার (৫০) ও জান্নাতরা (১৭) এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন। এ ঘটনায় আলী ইসলাম বাদী হয়ে সরাইল থানায় হত্যা মামলা দাখিল করলেও তা নথিভূক্ত হয়নি। প্রথমে পুলিশ পরে পিবিআই’র প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট হননি বাদী পক্ষ।

আদালতে নারাজি আবেদন করলে তদন্তের দায়িত্ব পান জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (সিআইডি)। এরই মধ্যে আদালতে পুন:তদন্তের আবেদন করেন বাদী। বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরাইল আমলী আদালত আবেদন মঞ্জুর করে শিশু মীমের লাশ কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল ও পুন:ময়নাতদন্ত প্রস্তুত কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট প্রিন্স সরকারকে দায়িত্ব প্রদান করেন।

এরই প্রেক্ষিতে গতকাল কবর থেকে শিশু মীমের লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন সিআইড’র ইন্সপেক্টর মোবারক হোসেন সরকার, মো. হানিফ সরকার, এস.আই এনামুল হক ও সরাইল থানার এস.আই রাজিব বড়ুয়া। মীমের পিতা আলী ইসলাম ও পরিবারের লোকজন বলেন, আসামীরা প্রকাশ্যে হত্যার কথা স্বীকার করে টাকায় রফাদফা করার প্রস্তাব দিচ্ছে। তারপরও অজানা কারণে প্রশাসন তাদের বিরূদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। আমরা বারবার টাকার কাছে হেরে যাচ্ছি। সত্যটা দেখতে চাই।