Hi

০৪:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পিআর মানে কী, আমি বুঝি না

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছানো হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, নয় মাস ধরে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করে যে বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, তার বাইরে কিছু গায়ের জোরে চাপিয়ে দিলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের কিশমত কেশুর বাড়ি লক্ষীরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “জোর করে আমাদের ওপর পিআর পদ্ধতি চাপিয়ে দিতে চায়। পিআর মানে কী, আমি বুঝি না। জনগণও বোঝে না। আমরা বহু বছর ধরে যেভাবে ভোট দিয়ে এসেছি, সেভাবেই দিতে চাই। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে তার মার্কায় ভোট দেওয়া, এটাই আমাদের পদ্ধতি।

তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নির্বাচনের আগে পিআর ও সনদের মতো বিষয় তুলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তাদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “ভোটকে এত ভয় পাচ্ছে কেন? কারণ জানে, ভোট হলে তাদের অস্তিত্ব থাকবে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা পরিষ্কার করে জানাতে চাই, যেসব বিষয়ে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছি, বিএনপি কেবল সেগুলোকেই সমর্থন করবে। ঐকমত্যের বাইরে কোনো কিছু চাপিয়ে দিলে তার দায় সরকারকে নিতে হবে।

তিনি জামায়াতের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, “একটি দল আজ নারীদের কাছে গিয়ে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে, বলছে তাদের টিকিট কাটলে নাকি বেহেশতে যাওয়া যাবে। বেহেশতের টিকিট আল্লাহ ছাড়া কেউ দিতে পারে না। যারা এসব মুনাফেকি করে, তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে আমার ভোট আমি নিজে দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। জনগণ ভোটের মাধ্যমে সংসদ গঠন করবে, সরকার গঠন করবে এবং দেশ চালাবে।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে বলেন, “তিনি দিল্লিতে বসে হরতাল ঘোষণা করছেন, গাড়ি পোড়াচ্ছেন। সাহস থাকলে দেশের মানুষের সামনে রাজনীতি করুন, বিদেশে বসে দেশের সর্বনাশ করবেন না।

নিজেদের ক্ষমতায় এলে বিএনপি যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে, তার কথাও জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “আমরা ১৫ মাসের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। মা-বোনদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও কৃষকদের জন্য ‘ফারমার্স কার্ড’ দেওয়া হবে। বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা হবে।

জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংযোজন করেছিলেন। তিনি এমন এক দর্শনের সূচনা করেছিলেন, যেখানে সব ধর্ম ও মতের মানুষ সমানভাবে থাকবে। আজও তাঁর দর্শন প্রাসঙ্গিক।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. আহম্মদ আলী। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান তুহিনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

পিআর মানে কী, আমি বুঝি না

আপডেট : ১০:২৬:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছানো হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, নয় মাস ধরে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করে যে বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, তার বাইরে কিছু গায়ের জোরে চাপিয়ে দিলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের কিশমত কেশুর বাড়ি লক্ষীরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “জোর করে আমাদের ওপর পিআর পদ্ধতি চাপিয়ে দিতে চায়। পিআর মানে কী, আমি বুঝি না। জনগণও বোঝে না। আমরা বহু বছর ধরে যেভাবে ভোট দিয়ে এসেছি, সেভাবেই দিতে চাই। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে তার মার্কায় ভোট দেওয়া, এটাই আমাদের পদ্ধতি।

তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নির্বাচনের আগে পিআর ও সনদের মতো বিষয় তুলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তাদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “ভোটকে এত ভয় পাচ্ছে কেন? কারণ জানে, ভোট হলে তাদের অস্তিত্ব থাকবে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা পরিষ্কার করে জানাতে চাই, যেসব বিষয়ে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছি, বিএনপি কেবল সেগুলোকেই সমর্থন করবে। ঐকমত্যের বাইরে কোনো কিছু চাপিয়ে দিলে তার দায় সরকারকে নিতে হবে।

তিনি জামায়াতের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, “একটি দল আজ নারীদের কাছে গিয়ে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে, বলছে তাদের টিকিট কাটলে নাকি বেহেশতে যাওয়া যাবে। বেহেশতের টিকিট আল্লাহ ছাড়া কেউ দিতে পারে না। যারা এসব মুনাফেকি করে, তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে আমার ভোট আমি নিজে দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। জনগণ ভোটের মাধ্যমে সংসদ গঠন করবে, সরকার গঠন করবে এবং দেশ চালাবে।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে বলেন, “তিনি দিল্লিতে বসে হরতাল ঘোষণা করছেন, গাড়ি পোড়াচ্ছেন। সাহস থাকলে দেশের মানুষের সামনে রাজনীতি করুন, বিদেশে বসে দেশের সর্বনাশ করবেন না।

নিজেদের ক্ষমতায় এলে বিএনপি যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে, তার কথাও জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “আমরা ১৫ মাসের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। মা-বোনদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও কৃষকদের জন্য ‘ফারমার্স কার্ড’ দেওয়া হবে। বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা হবে।

জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংযোজন করেছিলেন। তিনি এমন এক দর্শনের সূচনা করেছিলেন, যেখানে সব ধর্ম ও মতের মানুষ সমানভাবে থাকবে। আজও তাঁর দর্শন প্রাসঙ্গিক।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. আহম্মদ আলী। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান তুহিনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।