Hi

১২:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রশাসনের রদবদলে আশ্বস্ত বিএনপি

জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রশাসনের রদবদল, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা এবং নির্বাচন শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়গুলো নিয়ে গভীর আলোচনা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ। সরকারের পক্ষ থেকে অংশ নেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

বিএনপি নেতারা প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানান, বিতর্কিত কোনো কর্মকর্তা, বিশেষ করে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ শাসনামলে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের আসন্ন নির্বাচনে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার জন্য। তারা নির্বাচনের আগে প্রশাসনের রদবদলে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব দেন।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচনের আগে সব রদবদল তার তত্ত্বাবধানে হবে। জেলা প্রশাসক পদে যোগ্যতা বিবেচনায় নির্বাচন পূর্বে যথাযথ স্থানে কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “নির্বাচন একটি মহা আয়োজন। এখানে যিনি শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্ষম, সেই ব্যক্তিকেই আমরা বেছে নেব। এটি আমার তত্ত্বাবধানে থাকবে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করার জন্য যা কিছু প্রয়োজন, আমরা তা করব।”

বৈঠকে পুলিশের নিয়োগ এবং বদলি প্রক্রিয়া নিয়েও কিছু পর্যবেক্ষণ প্রধান উপদেষ্টার কাছে তুলে ধরেন বিএনপি নেতারা। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থাপনায় সম্প্রতি সংঘটিত একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এসব ঘটনা অন্তর্ঘাতমূলক কিনা, এ বিষয়ে অনুসন্ধানের আহ্বান জানান তারা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে এসেছিলাম আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য এবং অর্থবহ করার জন্য। প্রশাসনকে জনগণের কাছে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ করে নির্বাচন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে, এবং এর জন্য প্রধান উপদেষ্টা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।”

চলমান রাজনৈতিক সংলাপের অংশ হিসেবে আগামীকাল বুধবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

প্রশাসনের রদবদলে আশ্বস্ত বিএনপি

আপডেট : ১১:৫৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রশাসনের রদবদল, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা এবং নির্বাচন শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়গুলো নিয়ে গভীর আলোচনা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ। সরকারের পক্ষ থেকে অংশ নেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

বিএনপি নেতারা প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানান, বিতর্কিত কোনো কর্মকর্তা, বিশেষ করে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ শাসনামলে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের আসন্ন নির্বাচনে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার জন্য। তারা নির্বাচনের আগে প্রশাসনের রদবদলে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব দেন।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচনের আগে সব রদবদল তার তত্ত্বাবধানে হবে। জেলা প্রশাসক পদে যোগ্যতা বিবেচনায় নির্বাচন পূর্বে যথাযথ স্থানে কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “নির্বাচন একটি মহা আয়োজন। এখানে যিনি শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্ষম, সেই ব্যক্তিকেই আমরা বেছে নেব। এটি আমার তত্ত্বাবধানে থাকবে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করার জন্য যা কিছু প্রয়োজন, আমরা তা করব।”

বৈঠকে পুলিশের নিয়োগ এবং বদলি প্রক্রিয়া নিয়েও কিছু পর্যবেক্ষণ প্রধান উপদেষ্টার কাছে তুলে ধরেন বিএনপি নেতারা। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থাপনায় সম্প্রতি সংঘটিত একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এসব ঘটনা অন্তর্ঘাতমূলক কিনা, এ বিষয়ে অনুসন্ধানের আহ্বান জানান তারা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে এসেছিলাম আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য এবং অর্থবহ করার জন্য। প্রশাসনকে জনগণের কাছে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ করে নির্বাচন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে, এবং এর জন্য প্রধান উপদেষ্টা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।”

চলমান রাজনৈতিক সংলাপের অংশ হিসেবে আগামীকাল বুধবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।