Hi

০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

অবৈধভাবে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ অস্ত্র রাখার দায়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহাদাত আলী জানিয়েছেন, সম্রাট বর্তমানে পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে।

রায়ে বিচারক বলেন, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের যুব সংগঠন যুবলীগের ঢাকা দক্ষিণ ইউনিটের সভাপতি। কিন্তু জনকল্যাণের পরিবর্তে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, তার দখলে থাকা বৈদ্যুতিক শক মেশিন, বিশেষ লাঠি ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন জিনিস গোপন কক্ষে মানুষ নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত হতো। আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি ছিলেন এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা, কিন্তু তিনি সমাজে ভয় ও অন্যায়ের প্রতীক হিসেবে পরিণত হন।

রায়ে আরও বলা হয়, সম্রাট অবৈধভাবে একটি ৭.৬৫ মডেলের বিদেশি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড গুলি রাখতেন। এ অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ব্যতীত অন্য কোনো শাস্তি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে র‌্যাব সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নিয়ে কাকরাইলের ভূঁইয়া ম্যানশনে তার অফিসে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, একটি পিস্তল, গুলি ও বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর চামড়া উদ্ধার করা হয়। বন্যপ্রাণীর চামড়া রাখার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তখনই তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।

পরদিন ৭ অক্টোবর র‌্যাব-১ এর ডিএডি আব্দুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা করেন। পরে ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১ এর উপপরিদর্শক শেখর চন্দ্র মল্লিক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়। মামলার বিচারকাজে ১০ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

উল্লেখযোগ্য যে, সম্রাটের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা একটি মামলা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আরেকটি মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট : ১১:৪০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

অবৈধভাবে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ অস্ত্র রাখার দায়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহাদাত আলী জানিয়েছেন, সম্রাট বর্তমানে পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে।

রায়ে বিচারক বলেন, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের যুব সংগঠন যুবলীগের ঢাকা দক্ষিণ ইউনিটের সভাপতি। কিন্তু জনকল্যাণের পরিবর্তে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, তার দখলে থাকা বৈদ্যুতিক শক মেশিন, বিশেষ লাঠি ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন জিনিস গোপন কক্ষে মানুষ নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত হতো। আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি ছিলেন এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা, কিন্তু তিনি সমাজে ভয় ও অন্যায়ের প্রতীক হিসেবে পরিণত হন।

রায়ে আরও বলা হয়, সম্রাট অবৈধভাবে একটি ৭.৬৫ মডেলের বিদেশি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড গুলি রাখতেন। এ অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ব্যতীত অন্য কোনো শাস্তি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে র‌্যাব সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নিয়ে কাকরাইলের ভূঁইয়া ম্যানশনে তার অফিসে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, একটি পিস্তল, গুলি ও বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর চামড়া উদ্ধার করা হয়। বন্যপ্রাণীর চামড়া রাখার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তখনই তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।

পরদিন ৭ অক্টোবর র‌্যাব-১ এর ডিএডি আব্দুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা করেন। পরে ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১ এর উপপরিদর্শক শেখর চন্দ্র মল্লিক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়। মামলার বিচারকাজে ১০ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

উল্লেখযোগ্য যে, সম্রাটের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা একটি মামলা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আরেকটি মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে।