Hi

০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রবাসী নারীর জমি দখলের অভিযোগ

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখল, স্থাপনা নির্মাণ ও গাছপালা কেটে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের সম্পত্তি রক্ষার আকুতি জানিয়েছেন প্রবাসী সালমা আক্তার। তিনি অভিযোগ করেন, কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা মইনুল ইসলাম শিকদারসহ কয়েকজন তার মালিকানাধীন জমি দখলের চেষ্টা করছেন। সালমা আক্তার দীর্ঘদিন বিদেশে থাকায় এই সুযোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্যে সালমা আক্তার জানান, খতিয়ান ও দলিল অনুযায়ী কচুয়া মৌজায় তার এবং পরিবারের সদস্যদের নামে জমি কেনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন এবং সেখানে বালু ভরাট, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, গাছপালা রোপণ ও বসতঘর তৈরি করেছেন। জমিটির একাংশ নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ রাতের আঁধারে তার স্থাপনায় প্রবেশ করে গাছপালা কেটে ফেলেছে এবং সীমানা নির্ধারণ করে নতুন গেট নির্মাণ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সালমা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত মইনুল ইসলাম সিকদার স্থানীয়ভাবে প্রভাব খাটিয়ে এসব অপকর্ম করছেন। তিনি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের জামাই পরিচয়ে সরকারি জায়গায় দোকান বরাদ্দ নেওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন। এই প্রভাবের কারণেই আদালতের আদেশ উপেক্ষা করার সাহস দেখাচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীর দাবি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জমি দখল ও ভাঙচুর চালানো সম্ভব।

প্রবাসী এই নারী তার জমি দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়া, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং আদালতের আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। তার কাছে জমির মালিকানা ও অভিযোগের সপক্ষে প্রয়োজনীয় সব দলিল-প্রমাণ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সালমা আক্তার। তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মইনুল ইসলাম শিকদার বা তার পক্ষের কারো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী এখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার ও দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বাগেরহাটে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রবাসী নারীর জমি দখলের অভিযোগ

আপডেট : ০৪:৩৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখল, স্থাপনা নির্মাণ ও গাছপালা কেটে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের সম্পত্তি রক্ষার আকুতি জানিয়েছেন প্রবাসী সালমা আক্তার। তিনি অভিযোগ করেন, কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা মইনুল ইসলাম শিকদারসহ কয়েকজন তার মালিকানাধীন জমি দখলের চেষ্টা করছেন। সালমা আক্তার দীর্ঘদিন বিদেশে থাকায় এই সুযোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্যে সালমা আক্তার জানান, খতিয়ান ও দলিল অনুযায়ী কচুয়া মৌজায় তার এবং পরিবারের সদস্যদের নামে জমি কেনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন এবং সেখানে বালু ভরাট, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, গাছপালা রোপণ ও বসতঘর তৈরি করেছেন। জমিটির একাংশ নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ রাতের আঁধারে তার স্থাপনায় প্রবেশ করে গাছপালা কেটে ফেলেছে এবং সীমানা নির্ধারণ করে নতুন গেট নির্মাণ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সালমা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত মইনুল ইসলাম সিকদার স্থানীয়ভাবে প্রভাব খাটিয়ে এসব অপকর্ম করছেন। তিনি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের জামাই পরিচয়ে সরকারি জায়গায় দোকান বরাদ্দ নেওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন। এই প্রভাবের কারণেই আদালতের আদেশ উপেক্ষা করার সাহস দেখাচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীর দাবি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জমি দখল ও ভাঙচুর চালানো সম্ভব।

প্রবাসী এই নারী তার জমি দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়া, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং আদালতের আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। তার কাছে জমির মালিকানা ও অভিযোগের সপক্ষে প্রয়োজনীয় সব দলিল-প্রমাণ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সালমা আক্তার। তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মইনুল ইসলাম শিকদার বা তার পক্ষের কারো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী এখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার ও দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন।