Hi

০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতকানিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মীকে এলোপাতাড়ি গুলি: সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ, একজন আটক

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের একজন কর্মী। এনায়েত আলী (৫৫) নামের ওই ব্যক্তি সোমবার রাতে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে হামলার শিকার হন। বর্তমানে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মো. রায়হান (২৬) নামের এক তরুণকে আটক করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলার আমিলাইশ ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়া সোলতান আহমদের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত এনায়েত আলী ওই এলাকারই বাসিন্দা। স্থানীয় ইউপি সদস্য লোকমান হাকিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, এনায়েত আলী গ্রামের একটি দোকান থেকে কেনাকাটা শেষে পায়ে হেঁটে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।

গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় এনায়েত আলীকে উদ্ধার করেন। তাকে প্রথমে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে সেখানেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় এবং সংকটাপন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এনায়েত আলীর হাত, পা ও বুকে ছররা গুলি বিদ্ধ হয়েছে।

হামলার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে এনায়েত আলীর ছোট ভাই লিয়াকত আলী প্রথম আলোকে জানান, তাদের এলাকায় একটি মসজিদ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার ভাইয়ের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এর পাশাপাশি, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং তার ভাইয়ের পূর্বের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণেও এই হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম সীমিত বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যার ফলে স্থানীয় স্তরেও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে এমন হামলা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

ঘটনার পর সাতকানিয়া থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মো. রায়হান নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এনায়েত আলীর ওপর হামলাকারীদের ছোড়া ছররা গুলিতে তিনি মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার মূল কারণ ও এর সাথে জড়িত অন্যান্যদের চিহ্নিত করতে পুলিশি তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের ধরতে পুলিশ বদ্ধপরিকর বলে জানানো হয়েছে।

বড়ছড়ায় ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সাতকানিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মীকে এলোপাতাড়ি গুলি: সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ, একজন আটক

আপডেট : ০৪:৪৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের একজন কর্মী। এনায়েত আলী (৫৫) নামের ওই ব্যক্তি সোমবার রাতে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে হামলার শিকার হন। বর্তমানে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মো. রায়হান (২৬) নামের এক তরুণকে আটক করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলার আমিলাইশ ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়া সোলতান আহমদের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত এনায়েত আলী ওই এলাকারই বাসিন্দা। স্থানীয় ইউপি সদস্য লোকমান হাকিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, এনায়েত আলী গ্রামের একটি দোকান থেকে কেনাকাটা শেষে পায়ে হেঁটে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।

গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় এনায়েত আলীকে উদ্ধার করেন। তাকে প্রথমে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে সেখানেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় এবং সংকটাপন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এনায়েত আলীর হাত, পা ও বুকে ছররা গুলি বিদ্ধ হয়েছে।

হামলার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে এনায়েত আলীর ছোট ভাই লিয়াকত আলী প্রথম আলোকে জানান, তাদের এলাকায় একটি মসজিদ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার ভাইয়ের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এর পাশাপাশি, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং তার ভাইয়ের পূর্বের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণেও এই হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম সীমিত বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যার ফলে স্থানীয় স্তরেও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে এমন হামলা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

ঘটনার পর সাতকানিয়া থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মো. রায়হান নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এনায়েত আলীর ওপর হামলাকারীদের ছোড়া ছররা গুলিতে তিনি মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার মূল কারণ ও এর সাথে জড়িত অন্যান্যদের চিহ্নিত করতে পুলিশি তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের ধরতে পুলিশ বদ্ধপরিকর বলে জানানো হয়েছে।