Hi

০১:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ই জিন ক্যারল মামলা: ট্রাম্পের আপিল আবেদন খারিজ করে দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় আইনি ধাক্কা হিসেবে ই জিন ক্যারলের দায়ের করা যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় তার আপিল আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ রায়ের মাধ্যমে নিম্ন আদালতের সেই সিদ্ধান্তকে বহাল রেখেছে, যেখানে ট্রাম্পকে লেখক ই জিন ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের আইনি লড়াইয়ের পথে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হলো।

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিউ ইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ঘটে যাওয়া এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে। লেখক ই জিন ক্যারল অভিযোগ করেছিলেন যে, ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর, ২০২৩ সালে নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল জুরি ট্রাম্পকে এই অভিযোগের জন্য দায়ী সাব্যস্ত করে এবং তাকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেয়। ট্রাম্প শুরু থেকেই এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছেন। তবে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে যে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান সিদ্ধান্তের ফলে তা কার্যত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই নীরবতা বা আপিল গ্রহণে অস্বীকৃতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কেবল ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনি জটিলতাই বাড়ায়নি, বরং আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রচারণার ওপরও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্পের আইনি দল এই সিদ্ধান্তকে ‘হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করলেও, আইনি বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপ আবারও প্রমাণ করল যে, মার্কিন বিচার ব্যবস্থা রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।

এই রায়টি কেবল একটি আর্থিক দণ্ডের বিষয় নয়, বরং এটি মার্কিন জনমানসে এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে এক গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্প বর্তমানে বেশ কয়েকটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো এই যৌন নিপীড়নের মামলাটি। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের পর এখন ক্যারলের আইনজীবী এবং ট্রাম্পের আইনি শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব। এই ঘটনাটি মার্কিন বিচারিক ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এক স্মরণীয় আইনি পরাজয় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা: বেইজিং-এর স্পষ্ট বার্তা, কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

ই জিন ক্যারল মামলা: ট্রাম্পের আপিল আবেদন খারিজ করে দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

আপডেট : ১০:৩৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় আইনি ধাক্কা হিসেবে ই জিন ক্যারলের দায়ের করা যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় তার আপিল আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ রায়ের মাধ্যমে নিম্ন আদালতের সেই সিদ্ধান্তকে বহাল রেখেছে, যেখানে ট্রাম্পকে লেখক ই জিন ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের আইনি লড়াইয়ের পথে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হলো।

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিউ ইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ঘটে যাওয়া এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে। লেখক ই জিন ক্যারল অভিযোগ করেছিলেন যে, ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর, ২০২৩ সালে নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল জুরি ট্রাম্পকে এই অভিযোগের জন্য দায়ী সাব্যস্ত করে এবং তাকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেয়। ট্রাম্প শুরু থেকেই এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছেন। তবে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে যে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান সিদ্ধান্তের ফলে তা কার্যত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই নীরবতা বা আপিল গ্রহণে অস্বীকৃতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কেবল ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনি জটিলতাই বাড়ায়নি, বরং আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রচারণার ওপরও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্পের আইনি দল এই সিদ্ধান্তকে ‘হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করলেও, আইনি বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপ আবারও প্রমাণ করল যে, মার্কিন বিচার ব্যবস্থা রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।

এই রায়টি কেবল একটি আর্থিক দণ্ডের বিষয় নয়, বরং এটি মার্কিন জনমানসে এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে এক গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্প বর্তমানে বেশ কয়েকটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো এই যৌন নিপীড়নের মামলাটি। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের পর এখন ক্যারলের আইনজীবী এবং ট্রাম্পের আইনি শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব। এই ঘটনাটি মার্কিন বিচারিক ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এক স্মরণীয় আইনি পরাজয় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।