Hi

০১:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগের জবাব দিল চীন: ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

বাংলাদেশের তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে ভারতের উদ্বেগের বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে নয়াদিল্লি নিজস্ব নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এই প্রেক্ষাপটে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের সাথে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে উন্নয়নমূলক সহযোগিতা চালিয়ে যেতে আগ্রহী এবং কোনো তৃতীয় পক্ষকে এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে দেবে না। বেইজিংয়ের দাবি, তাদের এই প্রস্তাবটি মূলত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য নেওয়া একটি অবকাঠামোগত উদ্যোগ মাত্র।

তিস্তা নদী ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদীটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও তা এখনো অধরা রয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার তিস্তা অববাহিকায় একটি বড় ধরনের মহাপরিকল্পনা হাতে নেয়, যার জন্য চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার প্রস্তাব রয়েছে। ভারত মনে করছে, তিস্তা অববাহিকায় চীনের বড় ধরনের বিনিয়োগ ভারতের কৌশলগত ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

চীনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যেকোনো দেশের সাথে তাদের উন্নয়নমূলক সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম মেনে পরিচালিত হয়। তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে এই প্রকল্পকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা তাদের নেই। বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও চীনের প্রভাব বিস্তারের লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এই প্রকল্পকে কেবল উন্নয়নের চশমা দিয়ে দেখলেও, ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি এখন বড় ধরনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিশেষে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীন ও ভারতের এই বিপরীতমুখী অবস্থান বাংলাদেশের জন্য একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক কৌশলের দাবি রাখে। ঢাকা কীভাবে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রশমিত করে চীনের সহায়তায় নিজস্ব উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করবে, তা আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা: বেইজিং-এর স্পষ্ট বার্তা, কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগের জবাব দিল চীন: ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

আপডেট : ১০:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে ভারতের উদ্বেগের বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে নয়াদিল্লি নিজস্ব নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এই প্রেক্ষাপটে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের সাথে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে উন্নয়নমূলক সহযোগিতা চালিয়ে যেতে আগ্রহী এবং কোনো তৃতীয় পক্ষকে এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে দেবে না। বেইজিংয়ের দাবি, তাদের এই প্রস্তাবটি মূলত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য নেওয়া একটি অবকাঠামোগত উদ্যোগ মাত্র।

তিস্তা নদী ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদীটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও তা এখনো অধরা রয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার তিস্তা অববাহিকায় একটি বড় ধরনের মহাপরিকল্পনা হাতে নেয়, যার জন্য চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার প্রস্তাব রয়েছে। ভারত মনে করছে, তিস্তা অববাহিকায় চীনের বড় ধরনের বিনিয়োগ ভারতের কৌশলগত ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

চীনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যেকোনো দেশের সাথে তাদের উন্নয়নমূলক সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম মেনে পরিচালিত হয়। তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে এই প্রকল্পকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা তাদের নেই। বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও চীনের প্রভাব বিস্তারের লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এই প্রকল্পকে কেবল উন্নয়নের চশমা দিয়ে দেখলেও, ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি এখন বড় ধরনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিশেষে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীন ও ভারতের এই বিপরীতমুখী অবস্থান বাংলাদেশের জন্য একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক কৌশলের দাবি রাখে। ঢাকা কীভাবে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রশমিত করে চীনের সহায়তায় নিজস্ব উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করবে, তা আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।