বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ‘দি ইকোনমিস্ট’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পোশাক খাতের বর্তমান সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানিসংকট এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত এই শিল্পটি এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের চাহিদা বজায় থাকলেও, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাব কারখানাগুলোর উৎপাদনশীলতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং সরবরাহের ঘাটতির কারণে কারখানা মালিকদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। অনেক কারখানা সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে, যার ফলে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে পোশাকের বৈশ্বিক চাহিদা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এমন একটি সময়ে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে একই সঙ্গে কাঁচামালের উচ্চমূল্য এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকার ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আধুনিকায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের রফতানি আয়ের সিংহভাগ আসে এই খাত থেকে। তাই এই শিল্পের সংকট মোকাবিলা করা কেবল ব্যবসায়িক স্বার্থেই নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্যও অপরিহার্য। যথাযথ নীতি সহায়তা এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সংস্কার না আনা হলে দীর্ঘমেয়াদে এই শিল্প তার হারানো গৌরব ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি উত্তরণে সরকার ও স্টেকহোল্ডারদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
রিপোর্টার নাম: 



















