মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতে। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার ফলে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে পণ্য পৌঁছাতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবহন খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে, তেমনি সময়মতো পণ্য ডেলিভারি দিতে না পারায় বায়ারদের কাছ থেকে অর্ডার বাতিল বা বিলম্বিত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে বিশ্বের প্রধান জাহাজ কোম্পানিগুলো বিকল্প পথ হিসেবে আফ্রিকা মহাদেশের উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে যাতায়াত করছে। এতে জাহাজগুলোর সমুদ্রযাত্রার সময় প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘ এই সমুদ্রপথের কারণে জ্বালানি খরচ ও বিমা প্রিমিয়ামের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে, যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পোশাক কারখানার মালিকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এই বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর তথ্যমতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাকের শিপমেন্ট খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বায়াররা পণ্যের দাম বাড়াতে রাজি না হওয়ায় কারখানার মালিকদের লাভের অংশ কমে যাচ্ছে। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা সরাসরি উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এবং ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে বিকল্প শিপিং রুট খুঁজে বের করা এবং লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে, রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্য আনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ঝুঁকি প্রশমনের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় এই সংকট নিরসনে দ্রুত কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
রিপোর্টার নাম: 




















