Hi

০৩:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মানবসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন

মানবসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত: সবার ভালবাসায় সিক্ত ডাক্তার মাহাবুবর রহমান

Õগরিব, দুঃখী, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কাছে এক পরিচিত নাম ডাক্তার মাহাবুবর রহমান। নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার ৮নং ঝুনাগাছচাপানী ইউনিয়নের চাপানীহাটে তিনি একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি তিনি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে জড়িত। ডা. মাহাবুবর রহমান ঝুনাগাছচাপানী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ সোনাখুলী (হাজীপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হাফেজ ইব্রাহীম হোসেনের ছেলে।

অসহায় মানুষের পাশে সবসময়

স্থানীয়দের মতে, মানবসেবা যেন তার রক্তে মিশে আছে। প্রতিদিন তিনি খোঁজ নেন—কোনো পরিবারে খাবারের অভাব আছে কি না, কেউ অসুস্থ হয়েছে কি না, কারো মেয়ের বিয়ে রয়েছে কি না অথবা কোনো রোগীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন আছে কি না। অভাব-অনটনের কারণে যেসব পরিবার কষ্টে দিন কাটায়, তাদের খাবারের ব্যবস্থা করে দেন তিনি। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে তাদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে লেখাপড়ার ব্যবস্থাও করেন।

বিয়ে থেকে চিকিৎসা, সবখানেই সহযোগিতা

এলাকার কোনো গরিব পরিবারের মেয়ের বিয়ে হলে সবার আগে এগিয়ে আসেন ডা. মাহাবুবর রহমান। নিজে সহায়তা করার পাশাপাশি অন্যদের কাছ থেকেও সহযোগিতা সংগ্রহ করে বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করতে সহায়তা করেন।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কোনো অসহায় মানুষ তার কাছে সাহায্য চাইলে তিনি সাধ্যমতো সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন।

খেলাধুলা ও সামাজিক কাজে সক্রিয়

তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে তিনি নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করেন। ইউনিয়নে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন ও হাডুডু খেলাসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এছাড়া মসজিদ, মাদ্রাসা, ওয়াজ মাহফিলসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি সহযোগিতা করে থাকেন।

ঈদে অসহায়দের পাশে

প্রতি বছর রমজান মাসে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এলাকার অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে সেমাই, চিনি, আটা ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন। পাশাপাশি লুঙ্গি, শাড়ি ও বিভিন্ন পোশাকও প্রদান করেন। এছাড়া এলাকার রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, মসজিদ-মন্দির নির্মাণসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজেও সহযোগিতা করে থাকেন। বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, নারী নির্যাতন ও মাদক নির্মূলে সচেতনতা তৈরিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

যা বললেন ডাক্তার মাহাবুবর রহমান

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ডা. মাহাবুবর রহমান বলেন, ছোটবেলা থেকেই মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখতাম। বড় হয়ে অসহায় মানুষের জন্য সমাজে কিছু করতে পারা আমার কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয়। তিনি আরও বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছ থেকে শিখেছি মানুষকে সাহায্য করা এবং সমাজের উন্নয়নমূলক কাজ করা বড় ইবাদত। আমি একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। সেখান থেকে যে আয় হয় এবং নিজের কিছু জমি আবাদ করে সংসার চালাই। সেই আয়ের একটি অংশ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করি। এটিই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

স্থানীয়দের মতে, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা যদি এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সমাজের অনেক মানুষের জীবনমান উন্নত হতে পারে।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

মানবসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন

মানবসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত: সবার ভালবাসায় সিক্ত ডাক্তার মাহাবুবর রহমান

আপডেট : ০২:৫০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

Õগরিব, দুঃখী, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কাছে এক পরিচিত নাম ডাক্তার মাহাবুবর রহমান। নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার ৮নং ঝুনাগাছচাপানী ইউনিয়নের চাপানীহাটে তিনি একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি তিনি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে জড়িত। ডা. মাহাবুবর রহমান ঝুনাগাছচাপানী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ সোনাখুলী (হাজীপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হাফেজ ইব্রাহীম হোসেনের ছেলে।

অসহায় মানুষের পাশে সবসময়

স্থানীয়দের মতে, মানবসেবা যেন তার রক্তে মিশে আছে। প্রতিদিন তিনি খোঁজ নেন—কোনো পরিবারে খাবারের অভাব আছে কি না, কেউ অসুস্থ হয়েছে কি না, কারো মেয়ের বিয়ে রয়েছে কি না অথবা কোনো রোগীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন আছে কি না। অভাব-অনটনের কারণে যেসব পরিবার কষ্টে দিন কাটায়, তাদের খাবারের ব্যবস্থা করে দেন তিনি। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে তাদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে লেখাপড়ার ব্যবস্থাও করেন।

বিয়ে থেকে চিকিৎসা, সবখানেই সহযোগিতা

এলাকার কোনো গরিব পরিবারের মেয়ের বিয়ে হলে সবার আগে এগিয়ে আসেন ডা. মাহাবুবর রহমান। নিজে সহায়তা করার পাশাপাশি অন্যদের কাছ থেকেও সহযোগিতা সংগ্রহ করে বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করতে সহায়তা করেন।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কোনো অসহায় মানুষ তার কাছে সাহায্য চাইলে তিনি সাধ্যমতো সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন।

খেলাধুলা ও সামাজিক কাজে সক্রিয়

তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে তিনি নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করেন। ইউনিয়নে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন ও হাডুডু খেলাসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এছাড়া মসজিদ, মাদ্রাসা, ওয়াজ মাহফিলসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি সহযোগিতা করে থাকেন।

ঈদে অসহায়দের পাশে

প্রতি বছর রমজান মাসে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এলাকার অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে সেমাই, চিনি, আটা ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন। পাশাপাশি লুঙ্গি, শাড়ি ও বিভিন্ন পোশাকও প্রদান করেন। এছাড়া এলাকার রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, মসজিদ-মন্দির নির্মাণসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজেও সহযোগিতা করে থাকেন। বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, নারী নির্যাতন ও মাদক নির্মূলে সচেতনতা তৈরিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

যা বললেন ডাক্তার মাহাবুবর রহমান

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ডা. মাহাবুবর রহমান বলেন, ছোটবেলা থেকেই মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখতাম। বড় হয়ে অসহায় মানুষের জন্য সমাজে কিছু করতে পারা আমার কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয়। তিনি আরও বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছ থেকে শিখেছি মানুষকে সাহায্য করা এবং সমাজের উন্নয়নমূলক কাজ করা বড় ইবাদত। আমি একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। সেখান থেকে যে আয় হয় এবং নিজের কিছু জমি আবাদ করে সংসার চালাই। সেই আয়ের একটি অংশ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করি। এটিই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

স্থানীয়দের মতে, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা যদি এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সমাজের অনেক মানুষের জীবনমান উন্নত হতে পারে।