Hi

০৮:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস সংকট নিরসনে ১৫০ কূপ খনন ও নতুন ৩

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৭:২৬:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৫ জন দেখেছে

দেশের জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের কর্মসূচি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ১৫০টি কূপ খনন করা হবে।

গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমানে চালু থাকা দুটি টার্মিনালের সাথে আরও তিনটি নতুন এলএনজি টার্মিনাল যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালটি ২০২৮ সালের আগেই চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণের কাজ চলছে, যেখানে এক বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন মাহদী আমিন।

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের পর গ্যাসের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরবরাহ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ে ডিজেলের দাম সহনীয় রাখতে সরকার সর্বোচ্চ ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে।

মুডিস রেটিংসের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ থেকে ‘স্থিতিশীল’ হওয়ায় এটিকে একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখছে সরকার। মাহদী আমিন বলেন, এর ফলে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, দেশে মূল্যস্ফীতির হার কমেছে এবং নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

সরকার তারুণ্যের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর অগ্রযাত্রা এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ বেশ কিছু অগ্রাধিকারমূলক খাতে সংস্কার কার্যক্রম চালাচ্ছে। জনগণের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও গত ছয় মাসে দেশে প্রবাসী আয় ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ইতালিতে প্রতিবছর ১০ হাজার কর্মীর বৈধভাবে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। একইভাবে ওমানের শ্রমবাজারে কৃষি ও আধুনিক মৎস্য আহরণ খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কৃষিখাতের উৎপাদন সচল রাখতে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাহিদার অতিরিক্ত ১৫ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন সার মজুত রাখার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা।

সরকার গঠনের ২১২ দিনের কার্যক্রম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, ইতিবাচক ফলাফল সাধারণ মানুষ পেতে শুরু করেছে, যদিও কিছু উদ্যোগের সুফল পেতে সময়ের প্রয়োজন। গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে বলেও তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন স্পষ্ট করেন যে, সাত মাসের স্বল্প সময়ে সব সমস্যার সমাধান করা কঠিন, তবে দেশ পুনর্গঠনে সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ সময় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের কাজে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকার জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের উদ্যোগগুলো কয়েকটি অগ্রাধিকার খাতে বাস্তবায়ন করছে বলে জানান মাহদী আমিন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে রয়েছে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি, জীবনমান উন্নয়ন, নারীর অগ্রযাত্রা, সামাজিক সুরক্ষা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও বৈদেশিক সম্পর্ক।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

গ্যাস সংকট নিরসনে ১৫০ কূপ খনন ও নতুন ৩

আপডেট : ০৭:২৬:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের কর্মসূচি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ১৫০টি কূপ খনন করা হবে।

গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমানে চালু থাকা দুটি টার্মিনালের সাথে আরও তিনটি নতুন এলএনজি টার্মিনাল যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালটি ২০২৮ সালের আগেই চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণের কাজ চলছে, যেখানে এক বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন মাহদী আমিন।

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের পর গ্যাসের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরবরাহ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ে ডিজেলের দাম সহনীয় রাখতে সরকার সর্বোচ্চ ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে।

মুডিস রেটিংসের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ থেকে ‘স্থিতিশীল’ হওয়ায় এটিকে একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখছে সরকার। মাহদী আমিন বলেন, এর ফলে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, দেশে মূল্যস্ফীতির হার কমেছে এবং নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

সরকার তারুণ্যের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর অগ্রযাত্রা এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ বেশ কিছু অগ্রাধিকারমূলক খাতে সংস্কার কার্যক্রম চালাচ্ছে। জনগণের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও গত ছয় মাসে দেশে প্রবাসী আয় ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ইতালিতে প্রতিবছর ১০ হাজার কর্মীর বৈধভাবে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। একইভাবে ওমানের শ্রমবাজারে কৃষি ও আধুনিক মৎস্য আহরণ খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কৃষিখাতের উৎপাদন সচল রাখতে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাহিদার অতিরিক্ত ১৫ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন সার মজুত রাখার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা।

সরকার গঠনের ২১২ দিনের কার্যক্রম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, ইতিবাচক ফলাফল সাধারণ মানুষ পেতে শুরু করেছে, যদিও কিছু উদ্যোগের সুফল পেতে সময়ের প্রয়োজন। গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে বলেও তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন স্পষ্ট করেন যে, সাত মাসের স্বল্প সময়ে সব সমস্যার সমাধান করা কঠিন, তবে দেশ পুনর্গঠনে সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ সময় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের কাজে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকার জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের উদ্যোগগুলো কয়েকটি অগ্রাধিকার খাতে বাস্তবায়ন করছে বলে জানান মাহদী আমিন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে রয়েছে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি, জীবনমান উন্নয়ন, নারীর অগ্রযাত্রা, সামাজিক সুরক্ষা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও বৈদেশিক সম্পর্ক।